বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ২:৪৫ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬, ৫:৫২ অপরাহ্ণ

মণিরামপুরের মনোহরপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় আক্তার ফারুক মিন্টু, উন্নয়ন ও ভবদহ সমস্যার সমাধানের অঙ্গীকার

মণিরামপুরের মনোহরপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় আক্তার ফারুক মিন্টু, উন্নয়ন ও ভবদহ সমস্যার সমাধানের অঙ্গীকার

জেমস আব্দুর রহিম রানা, যশোর:
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ১৭ নং মনোহরপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী তৎপরতা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে ইউনিয়নের সাবেক ও বারবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন বিএনপির নেতা এস. এম. আক্তার ফারুক মিন্টু মাঠপর্যায়ে গণসংযোগ ও মতবিনিময় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় আক্তার ফারুক মিন্টু নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরছেন। তার সমর্থকদের মতে, রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার কারাবরণ করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে মোট ১৯টি মামলার আসামি হয়েছেন। তারা এসব ঘটনাকে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। তবে এসব বিষয়ে ভিন্নমতও রয়েছে এবং বিষয়গুলো রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের আলোচনার অংশ হিসেবে স্থানীয়ভাবে বিবেচিত হয়।
নির্বাচনী প্রচারণায় আক্তার ফারুক মিন্টু বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন ভবদহ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে। তিনি দাবি করেন, এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে দীর্ঘ সময় ধরে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ, আন্দোলন এবং জনমত গঠনের কাজ করে আসছেন। তার মতে, ভবদহ সমস্যার সমাধান ছাড়া এলাকার কৃষি, অর্থনীতি ও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রার পূর্ণ উন্নয়ন সম্ভব নয়।
এছাড়া কৃষি উন্নয়ন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, যুবসমাজের কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরছেন তিনি। ইউনিয়নের কৃষিনির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও কৃষি সহায়তা কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথাও তার প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
গণসংযোগকালে আক্তার ফারুক মিন্টু বলেন, “মনোহরপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে আমি অতীতেও কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করতে চাই। ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও সমর্থন পেলে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত এবং জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবদহের জলাবদ্ধতা, কৃষি উৎপাদন, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান—এসব বিষয়ই আগামী নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে পারে। ফলে প্রার্থীদের অতীত ভূমিকা, বর্তমান কর্মপরিকল্পনা এবং জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ভোটারদের বিবেচনায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত ব্যক্তি-ইমেজ, জনসম্পৃক্ততা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে ভূমিকার ওপর অনেকাংশে নির্ভর করে। সেই বিবেচনায় মনোহরপুর ইউনিয়নেও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে জনসংযোগ ও নির্বাচনী প্রস্তুতি ইতোমধ্যে গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা হয়নি। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচারণা ও জনসংযোগ কার্যক্রমে ইউনিয়নের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমেই সরব হয়ে উঠছে। এরই মধ্যে চেয়ারম্যান পদপ্রত্যাশী এস. এম. আক্তার ফারুক মিন্টুসহ বিভিন্ন প্রার্থী নিজেদের পরিকল্পনা ও অঙ্গীকার নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে রয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি এস এম আক্তার ফারুক মিন্টু, ইউনিয়ন জামাতের সাধারণ সম্পাদক শাহিদুর রহমান শাহিন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আসাদুল ইসলাম আসাদ ও মেহেদী হাসান সুমন।