ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও হুথি বাহিনীর মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে আল জাজিরা।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলজুড়ে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বহু মানুষ দেশের অভ্যন্তরে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধান করছেন। অনেকে আবার প্রাণ বাঁচাতে বাব এল-মানদেব প্রণালি পেরিয়ে জিবুতিতে পৌঁছাচ্ছেন।
সংস্থাটির হিসাবে, গত চার দিনে সমুদ্রপথে ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ জিবুতিতে পৌঁছেছেন। তাদের বেশিরভাগই নারী, শিশু ও বয়স্ক। দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার পর তারা চরম ক্লান্তি ও মানসিক বিপর্যস্ত অবস্থায় সেখানে পৌঁছাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জিবুতিতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি স্যান্ড্রিন দেসামুরস।
বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটি বলছে, হঠাৎ করে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে আসা পরিবারগুলোর জন্য নিরাপদ বাসস্থান, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকট দেখা দিয়েছে।
সংঘাতের কারণে ইয়েমেনে থাকা সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার ৬৫ হাজারের বেশি নিবন্ধিত শরণার্থীও নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। তাদের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বাস্তুচ্যুতদের একজন আয়েশা মুহাম্মদ জানান, মোখা বন্দরের কাছের নিজ গ্রাম থেকে পালানোর সময় তিনি তার পাঁচ সন্তানকে সেখানে রেখে আসতে বাধ্য হন। তার ভাষ্য, সন্তানরা বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় খাদ্যসংকটে দিন কাটাচ্ছে।
হোদাইদাহ থেকে পালিয়ে আসা হুসাইন হায়দারা জানান, গোলাগুলি ও স্নাইপার হামলার আতঙ্কে পরিবার নিয়ে তাদের বাড়ি ছাড়তে হয়েছে। পালানোর সময় পরনের পোশাক ছাড়া তেমন কিছুই সঙ্গে নিতে পারেননি তারা।
এদিকে বাব এল-মানদেব প্রণালি ও লোহিত সাগর উপকূলের কৌশলগত গুরুত্বের কারণে ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের প্রভাব আঞ্চলিক পর্যায়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা

