বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬, ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ

গানের সুরে কূটনীতি, আনোয়ার ইব্রাহিমের ‘সং ডিপ্লোম্যাসি’ নিয়ে আলোচনা

গানের সুরে কূটনীতি, আনোয়ার ইব্রাহিমের ‘সং ডিপ্লোম্যাসি’ নিয়ে আলোচনা
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ‘সং ডিপ্লোম্যাসি’ আবার আলোচনায়। ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের কূটনৈতিক যোগাযোগে সংগীতের ব্যবহার নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে বিশ্ব রাজনীতির নানা সমীকরণের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তার ব্যতিক্রমী ‘সং ডিপ্লোম্যাসি’।

ভারত সফরের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের সময় আনোয়ার ইব্রাহিম বেছে নিয়েছেন জনপ্রিয় বলিউডের একাধিক গান। প্রতিটি পোস্টে ব্যবহৃত গানের কথার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ঘটনার একটি প্রতীকী সম্পর্কও খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে।

ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বাগত জানানোর একটি ভিডিও ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করেন আনোয়ার। এর ব্যাকগ্রাউন্ডে তিনি ব্যবহার করেন শাহরুখ খান ও কাজল অভিনীত ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘তুঝে দেখা তো ইয়ে জানা সানাম’।

মোদির সঙ্গে তোলা আরেকটি ছবির সঙ্গে তিনি ব্যবহার করেন ‘দিল তো পাগল হ্যায়’ সিনেমার শিরোনাম গান। ব্রিকস সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময়কার ছবিগুলোর সঙ্গে যুক্ত করেন ২০০০ সালের ‘হর দিল জো পেয়ার করেগা’ সিনেমার টাইটেল গান। ভারত ছাড়ার সময়কার ভিডিওতে শোনা যায় ‘লক্ষ্য’ সিনেমার ‘কান্ধোঁ সে মিলতে হ্যায় কান্ধে’ গানটি।

আনোয়ার ইব্রাহিমের এই ধরনের সংগীতনির্ভর কূটনৈতিক যোগাযোগ অবশ্য নতুন নয়। এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর নিয়েও তিনি একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। গত ২৩ জুন নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ‘আমার বন্ধু মহাজাদু জানে’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের বিভিন্ন মুহূর্ত নিয়ে তৈরি ওই ভিডিওতে হাবিব ওয়াহিদ ও মেহরনিগরি রুস্তামের গাওয়া ‘মহাজাদু’ গানটি ব্যবহার করা হয়।

ভারত সফরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। বিরোধী দলের নেতাদের সঙ্গে ভোজের ছবি প্রকাশের সময় তিনি ‘ভীর-জারা’ সিনেমার ‘আইসা দেশ হ্যায় মেরা’ গানটি ব্যবহার করেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পোস্টেও ছিল ভিন্ন বার্তা। সেখানে ১৯৫৭ সালের ‘নয়া দৌর’ সিনেমার ‘সাথী হাত বাড়ানা’ গানটি ব্যবহার করেন আনোয়ার। হাতে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়া এই গানকে দুই দেশের সহযোগিতা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখছেন অনেকে।

অন্যদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তোলা ছবির সঙ্গে তিনি ব্যবহার করেন ২০০১ সালের ‘লগান’ সিনেমার ‘চালে চালো’ গান। গানটির মূল বক্তব্যও একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এই পোস্টগুলো আনোয়ার ইব্রাহিমের ব্যক্তিগত রুচির প্রকাশের পাশাপাশি কূটনৈতিক বার্তা দেওয়ার একটি অভিনব মাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে। পরিচিত ও জনপ্রিয় গানের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে সম্পর্ক, বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও ঐক্যের বার্তা সহজেই তুলে ধরছেন তিনি।

তবে এ ধরনের ‘সং ডিপ্লোম্যাসি’ শুধু আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিয়োনোও প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর সফরকে ঘিরে ‘দিল ধড়কনে দো’ সিনেমার বলিউড গান ব্যবহার করেছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা