বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ৯:১৭ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ

বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত আসিফ নজরুলের একক সিদ্ধান্ত: তদন্ত কমিটি

বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত আসিফ নজরুলের একক সিদ্ধান্ত: তদন্ত কমিটি
সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে ভারতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাঠায়নি তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি কোনো সম্মিলিত সিদ্ধান্ত ছিল না। তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল এককভাবেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হকের নির্দেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে পর্যাপ্ত আলোচনা বা পরামর্শ হয়নি। এমনকি ক্রিকেটারদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও আসিফ নজরুল মূলত নিজের সিদ্ধান্তই জানিয়ে দেন। অন্য কারও মতামত নেওয়ার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ। এর মধ্যে তিনটি কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে হওয়ার কথা ছিল। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে ম্যাচগুলোর ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। তবে আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে সরকার বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। পরে সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেয় বিসিবি।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে, ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’

সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর বলেন, ওই ব্যক্তি ছিলেন তৎকালীন ক্রীড়া দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

বক্তব্যে ভিন্নতা

বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আসিফ নজরুলের বক্তব্যেও ভিন্নতা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রীয় মাঠ উন্নয়নে বিসিবির দুই কোটি টাকা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে আসিফ নজরুল দাবি করেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররা নিয়েছেন।

সেদিন তিনি বলেছিলেন, ‘কোনো অনুশোচনা বা প্রশ্নের সুযোগ নেই (বিশ্বকাপ খেলতে না পারার কারণে)। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ও ক্রিকেট বোর্ড। তারা দেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে আত্মত্যাগ করেছে। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

তবে এর আগে, ২২ জানুয়ারি দেওয়া বক্তব্যে আসিফ নজরুল জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারই ক্রিকেটারদের ভারতে পাঠাচ্ছে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে তার বক্তব্যে পরিবর্তন আসে এবং পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্তের দায় বোর্ড ও ক্রিকেটারদের ওপর দেওয়া হয়।

ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা

তদন্ত কমিটির মতে, এই ঘটনা বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা সামনে এনেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা থাকা জরুরি।

প্রতিবেদনে খেলোয়াড়দের স্বার্থকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক কোনো সিদ্ধান্তের কারণে যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটাররা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া বা না নেওয়া নিয়ে ভিন্নমত থাকতেই পারে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে কোনো ক্রিকেটারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।