বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬, ২:০২ অপরাহ্ণ

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়: প্রতিমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়: প্রতিমন্ত্রী
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোথাও নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্রার্থীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত রাখা হয়নি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনে অংশ নিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।

তিনি জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারিত নেই।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে ইসি

এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লাভজনক পদে থাকলে তাকে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনার কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিষয়টি আরও স্পষ্ট করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’-এর বিধি ১১-এর ১৭(খ) উপধারায় বিষয়টি উল্লেখ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সময়ে একাধিক পদ বা চাকরি কিংবা আর্থিকভাবে লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাই স্থানীয় সরকার আইন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালা পর্যালোচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

এ বিষয়ে আইনগত ব্যাখ্যার প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে বলেও জানান তিনি। প্রয়োজনে মন্ত্রণালয় আইন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি স্পষ্ট করবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা না রাখার কারণ ব্যাখ্যা

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও সংবিধানে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত আরোপ করা হলে তা মানবাধিকারের প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। একজন সমাজসেবক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে উচ্চশিক্ষিত না হলেও স্বশিক্ষিত হতে পারেন এবং তার মধ্যে জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকতে পারে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, একজন মানুষের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও মানুষের জন্য কাজ করার সক্ষমতা থাকতে পারে। জনপ্রতিনিধি হওয়ার ক্ষেত্রে এসব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, সাংবিধানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ বিবেচনা করেই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করা হয়নি।