সেলিনা জিন্নাত ঐশী,নোবিপ্রবি প্রতিনিধি:
গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরতে ছয়টি উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এ অংশ নিচ্ছে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি)। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ১২ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর আয়োজিত এ মেলায় নোবিপ্রবির পক্ষ থেকে ছয়টি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত হয়েছে।
বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এর নোবিপ্রবি ফোকাল পয়েন্ট অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামানের তথ্য অনুযায়ী, মেলায় নোবিপ্রবির পক্ষ থেকে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে জলবায়ু সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন ও উৎপাদন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর মৎস্যচাষ, সামুদ্রিক শৈবাল ও ছোট মাছকে পুষ্টিকর খাদ্যে রূপান্তর, দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কাগুজে মুদ্রা শনাক্তকরণ, গ্রিনহাউস গ্যাসকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তর এবং প্রাকৃতিক গ্রিন টি উৎপাদন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রদর্শনের জন্য নির্বাচিত ছয়টি প্রকল্প হলো-
১. জলবায়ু সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন ও উৎপাদন
‘মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদনের ওপর জলবায়ুর প্রভাব নিরূপণ এবং জলবায়ু সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন’ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রধান গবেষক (PI) ইএসডিএম বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান।
২. অ্যাকুয়াস্মার্ট (AquaSmart)
‘অ্যাকুয়াস্মার্ট: ইন্টিগ্রেটেড প্রিসিশন অ্যাকুয়াকালচার ফর ক্লিন, প্রোডাক্টিভ অ্যান্ড এনার্জি-ইফিশিয়েন্ট ফার্মিং’ শীর্ষক প্রকল্পটির লক্ষ্য পরিচ্ছন্ন, উৎপাদনশীল ও জ্বালানি-সাশ্রয়ী মৎস্যচাষে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো। প্রকল্পটির প্রধান গবেষক (PI) ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল মামুন।
৩. অ্যাকুয়ানিউট্রি (AquaNutri)
‘অ্যাকুয়ানিউট্রি: টার্নিং সিউইড অ্যান্ড স্মল ফিশ ইনটু অ্যাফোর্ডেবল এভরিডে নিউট্রিশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সামুদ্রিক শৈবাল ও ছোট মাছকে সাশ্রয়ী দৈনন্দিন পুষ্টির উৎস হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির প্রধান গবেষক (PI) ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ-আল মামুন।
৪. ভিশন-অ্যাসিস্ট (Vision-Assist)
‘ভিশন-অ্যাসিস্ট: অ্যান ইন্টেলিজেন্ট পেপার কারেন্সি রিকগনিশন সিস্টেম ফর ব্লাইন্ড অ্যান্ড ভিজ্যুয়ালি ইমপেয়ার্ড পিপল ইন বাংলাদেশ’ প্রকল্পটি বাংলাদেশের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও স্বল্পদৃষ্টিসম্পন্ন মানুষের জন্য কাগুজে মুদ্রা শনাক্তকরণে একটি বুদ্ধিমান প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ। প্রকল্পটির প্রধান গবেষক (PI) সিএসটিই বিভাগের অধ্যাপক ড. নাজিয়া মাজাদি।
৫. সাসটেইনেবল অ্যাপ্রোচ (Sustainable Approach)
‘সাসটেইনেবল অ্যাপ্রোচ: ক্যাটালিটিক কনভার্শন অব গ্রিনহাউস গ্যাস টু কেমিক্যাল এনার্জি’ প্রকল্পে ক্যাটালিটিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিনহাউস গ্যাসকে রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরের বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হয়েছে। প্রকল্পটির প্রধান গবেষক (PI) রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান কুতুবী।
৬. এনএসটিইউ মনসোজেট ন্যাচারাল গ্রিন টি
‘এনএসটিইউ মনসোজেট ন্যাচারাল গ্রিন টি’ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রধান গবেষক (PI) বিএমবি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুবোধ কুমার সরকার।
এ বিষয়ে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মহিনুজ্জামান বলেন, ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমরা মোট ছয়টি উদ্ভাবনী গবেষণা প্রকল্প ও আইডিয়া উপস্থাপন করেছি। মেলায় আমাদের স্টলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা এসে প্রকল্পগুলো সম্পর্কে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং আমরা বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং উপাচার্যের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তাঁর দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় আমরা আমাদের স্টলটি সুন্দরভাবে সাজাতে এবং গবেষণা প্রকল্প ও উদ্ভাবনী আইডিয়াগুলো সবার সামনে উপস্থাপন করতে পেরেছি। একই সঙ্গে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার জন্যও আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
নোবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী বলেন, ‘প্রজেক্টগুলো প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক এই ইনোভেশন ফেয়ারের মূল উদ্দেশ্য হলো একাডেমিয়ার সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির কোলাবোরেশন (সহযোগিতা) তৈরি করা। এর মাধ্যমে আমাদের উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলো সম্পর্কে মানুষ ও ইন্ডাস্ট্রি জানতে পারবে এবং ভবিষ্যতে কোলাবোরেশন আরও বৃদ্ধি পাবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে অংশগ্রহণ করতে পেরে কৃতজ্ঞ। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্পগুলো প্রদর্শন করা হয়েছে, যা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইন্ডাস্ট্রির সম্পর্ক তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।’
মেলায় নোবিপ্রবির এসব প্রকল্প প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও উদ্ভাবনী উদ্যোগগুলো জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি সাধারণ দর্শনার্থী, গবেষক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্ভাব্য সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হবে।

