বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ

জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বললে স্বৈরাচার ফিরবে বলে হুমকি দেয় সরকার: শফিকুর রহমান

জ্বালানি সংকট নিয়ে কথা বললে স্বৈরাচার ফিরবে বলে হুমকি দেয় সরকার: শফিকুর রহমান
শনিবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা যখন তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ সংকটের কথা বলি তখন সরকার স্বৈরাচার ফিরে আসবে বলে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখায়। অথচ দেশের মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। আমরা সংসদে বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এই সংকট সমাধানে টেকনিক্যাল এক্সপার্টদের নিয়ে গঠিত একটা টিম দিয়ে সহযোগিতা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের সে প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। সংসদের ভেতরে বারবার বলেও কিছু করতে না পেরে আমরা বাধ্য হয়ে রাজপথে নেমেছি।’

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বগুড়া সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি।

দেশে গ্যাস, তেল ও জ্বালানির সংকট আছে জানিয়ে বিরোধীদলীয় এই নেতা বলেন, ‘আমরা সংসদে বলেছি, এর সমাধানে অংশ নিতে চাই। আমাদের একটা বিশেষজ্ঞ দল আছে। তাদের সমন্বয়ে সরকারকে বিশেষজ্ঞ দল গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি, কিন্তু সাড়া মেলেনি। নির্ধারিত সময়ে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি এতটা জটিল হতো না। সরকারকে সহযোগিতা করতে চেয়েছিল বিরোধী দল। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী দলগুলো লংমার্চের মতো কর্মসূচি দিতে বাধ্য হয়েছে।’

জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘সরকার শুরুতে সংকটের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। অথচ বর্তমানে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জ্বালানি সরবরাহের সংকট দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতিতে এর প্রভাব আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিল্প খাত এ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

জামায়াতের আমির বলেন, ‘চব্বিশের বিপ্লবের পর জনগণ দেশের আমূল সংস্কার চেয়েছিল। সেই সংস্কারের লক্ষ্যে মানুষ গণভোটে হ্যাঁয়ের পক্ষে ভোট দিয়ে বিজয়ী করেছিল। কিন্তু সরকার ক্ষমতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ওয়াদা বরখেলাপ করেছে। তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করলো না।’

বগুড়ার শিল্পায়ন ও উন্নয়ন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বগুড়া যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। একসময় জেলাটিকে মিনি শিল্পনগরী বলা হতো। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এখানে প্রত্যাশিত শিল্পায়ন হয়নি। এখন যেখানেই অসংগতি দেখবো সেখানেই কথা বলবো আমরা। তাই বলে বগুড়ার জন্য আমাকে কথা বলতে হবে এটা ভাবিনি। বগুড়া সবসময় অবহেলিত, বঞ্চিত। বগুড়ার মানুষ তার পাওনা বুঝে পাক, এটা আমরাও চাই।’

মতবিনিময়কালে বগুড়া মহানগর জামায়াতের আমির আবিদুর রহমান সোহেল, ইফসুর মহাসচিব ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজসহ স্থানীয় জামায়াত নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে শফিকুর রহমান বগুড়া জেলা ও মহানগর জামায়াতের রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন। পরে তিনি শহীদ আব্দুল মালেক ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন কমপ্লেক্সের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।