নয়াদিল্লিতে শুরু হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনের যৌথ ঘোষণার বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছে।
সম্মেলনের যৌথ ঘোষণায় কোনো দেশের নাম সরাসরি উল্লেখ না করে ‘সব ধরনের আগ্রাসনের’ নিন্দা জানানো হবে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘোষণায় এমন অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৪টায় ‘ব্রিকস নয়াদিল্লি ঘোষণা’ প্রকাশ করা হবে। ভারতের সভাপতিত্বে এবারের সম্মেলন শনিবার বেলা আড়াইটায় শুরু হয়ে রোববার পর্যন্ত চলবে।
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে সদস্য দেশগুলোর অবস্থান নিয়ে সম্মেলনে আলোচনা হচ্ছে। যৌথ ঘোষণায় সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতিকে একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে তুলে ধরা হবে।
এর আগে চলতি বছরের মে মাসে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে সদস্য দেশগুলোর মতপার্থক্যের কারণে কোনো যৌথ ঘোষণা দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতকে কেন্দ্র করে ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতপার্থক্যকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়েছিল। এবার সদস্য দেশগুলোকে যৌথ ঘোষণায় রাজি করাতে পারাকে ভারতের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
সম্মেলনে অংশ নিতে নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে জড়ো হচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ অন্যান্য দেশের নেতারা। শনিবার নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন শি জিনপিং। সাত বছর পর এটি তার প্রথম ভারত সফর। সম্মেলনের ফাঁকে আজ সন্ধ্যায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসার কথা রয়েছে মোদীর।
এর আগে শুক্রবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বার পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে ভারত-ইরান সম্পর্ক এবং পশ্চিম এশিয়ার সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
পশ্চিম এশিয়া সংকটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে ভারত। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে সরবরাহকারী জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে নয়াদিল্লি।

