বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ

নবম পে-স্কেল: ভেটিংয়ের জন্য প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে

নবম পে-স্কেল: ভেটিংয়ের জন্য প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে
প্রতীকী ছবি

নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইনগত ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হওয়ার পর প্রজ্ঞাপন জারি করে গেজেট প্রকাশ করা হবে।

প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পৃথক সাতটি এসআরও জারি করা হবে। এসব এসআরওর মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিস্তারিত বিধান নির্ধারণ করা হবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে এবার ডিজিটাল বেতন ব্যবস্থাপনাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম iBAS++-এ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করার পর সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন বেতন নির্ধারণের ব্যবস্থা থাকবে।

সাত শ্রেণির জন্য পৃথক এসআরও

প্রতিষ্ঠান ও বাহিনীগুলোর কাঠামোগত পার্থক্য বিবেচনায় নতুন বেতন কাঠামোর বিস্তারিত বাস্তবায়ন বিধান সাতটি পৃথক এসআরওতে নির্ধারণ করা হবে। এগুলো হলো—

বেসামরিক প্রশাসন
পুলিশ বিভাগ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)
সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান
স্বায়ত্তশাসিত ও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান
সশস্ত্র বাহিনী
বিচার বিভাগ

এসব এসআরওতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা কার্যকরের বিস্তারিত নির্দেশনা থাকবে।

iBAS++-এ তথ্য দিলেই হবে বেতন নির্ধারণ

নতুন ব্যবস্থায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদ, গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, পদোন্নতি ও উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য iBAS++-এ হালনাগাদ করতে হবে। তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে সফটওয়্যার নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল বেতন ও প্রযোজ্য ভাতা নির্ধারণ করবে।

এর ফলে কাগজপত্রের মাধ্যমে বারবার বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজন কমবে। পাশাপাশি চাকরিজীবীরা অনলাইনে নিজেদের বেতন কাঠামোয় অবস্থান ও প্রাপ্যতা সম্পর্কে জানতে পারবেন।

কমবে হিসাবের ভুল ও অতিরিক্ত অর্থ প্রদানের ঝুঁকি

কাগজভিত্তিক ব্যবস্থার পরিবর্তে তথ্যনির্ভর ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালুর ফলে হিসাবের ভুল, একই সুবিধা একাধিকবার পাওয়ার সুযোগ এবং অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকি কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে গিয়ে বেতন পুনর্নির্ধারণের প্রয়োজনও কমে আসবে।

নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলেও বেতন বিল, জিপিএফ, সরকারি ঋণ, আয়কর হিসাব এবং ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটির মাধ্যমে বেতন-পেনশন দেওয়ার বর্তমান ব্যবস্থাগুলো iBAS++-এর আওতায় বহাল থাকবে।

২০ গ্রেড বহাল, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা

প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে-স্কেলেও বিদ্যমান ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হবে। তবে প্রজ্ঞাপন ও সংশ্লিষ্ট এসআরও জারির পর এর বাস্তবায়ন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন প্রকাশের পর দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীদের কাঠামোগত পার্থক্য বিবেচনায় পৃথক এসআরও তৈরির কাজও এগিয়ে চলছে।