বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ

পদ্মার পানি বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচে, শিবগঞ্জে পানিবন্দী ১০ হাজার মানুষ

পদ্মার পানি বিপদসীমার ২৯ সেন্টিমিটার নিচে, শিবগঞ্জে পানিবন্দী ১০ হাজার মানুষ
পানিতে তলিয়ে গেছে বিভিন্ন এলাকা: ছবি সংগৃহীত

উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। এতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় আড়াই হাজার পরিবারের অন্তত ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। পানি ঢুকে পড়েছে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও মাদ্রাসায়। একই সঙ্গে তলিয়ে যাচ্ছে আমন ধানের জমি। দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ খাবার পানি ও স্যানিটেশন সংকট।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, পদ্মার পাশাপাশি মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীর পানিও বাড়ছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পদ্মার পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৭৬ মিটার। এ নদীর বিপদসীমা ২২ দশমিক ০৫ মিটার। অর্থাৎ বিপদসীমার মাত্র ২৯ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত পাঁচ দিনে পদ্মায় পানি বেড়েছে ৪৪ সেন্টিমিটার। ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় পাঙ্খা গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা ছিল ২১ দশমিক ৩২ মিটার। পরদিন তা বেড়ে ২১ দশমিক ৪৪ মিটার, ৯ সেপ্টেম্বর ২১ দশমিক ৫৮ মিটার, ১০ সেপ্টেম্বর ২১ দশমিক ৬৯ মিটার এবং সর্বশেষ শুক্রবার ২১ দশমিক ৭৬ মিটারে পৌঁছেছে।

বাড়িঘরে পানি, দুর্ভোগে মানুষ

পদ্মার পানি বাড়তে থাকায় শিবগঞ্জের নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাসিন্দাদের উঁচু স্থানে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। পানির কারণে স্বাভাবিক চলাচল ও দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে ভেঙে পড়েছে অনেক এলাকার স্যানিটেশন ব্যবস্থা।

পাঁকা ইউনিয়নের বিশরশিয়া গ্রামের বাসিন্দা লালমোহাম্মদ বলেন, ‘উপরের বৃষ্টি, নিচে ভাঙন ও অন্যদিকে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে চারদিক। পানিতে হাবুডুবু খাচ্ছি। কোনো কূল কিনারা পাচ্ছি না।’

গমের চর এলাকার তরিকুল আলম বলেন, ভাঙনের কারণে কিছুদিন আগে বাড়িঘর সরিয়ে দশরশিয়া গ্রামে অস্থায়ীভাবে বসতি গড়েছিলেন। কিন্তু কয়েক দিন ধরে বন্যার পানিতে সেই বাড়িও তলিয়ে গেছে।

আব্দুল হামিদ বলেন, ‘পানি প্রতিদিনই বাড়ছে। ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়েছে। পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। দ্রুত বিশুদ্ধ পানি ও ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন।’

আরিফুর রহমান বলেন, পানির কারণে চলাচল ও দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হচ্ছে। স্যানিটেশন ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে। পানি এভাবে বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আরও যেসব এলাকা প্লাবিত

দুর্লভপুর ইউনিয়নের গাইপাড়া, নামো জগনাথপুর, নামো পিয়ালীমারী, হাসানপুর এবং মনাকষা ইউনিয়নের চর সিংনগর, হঠাৎপাড়া, পারচৌকা নতুনপাড়া ও নতুন রাঘরবাটি গ্রামের মানুষও পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, পানিবন্দী পরিবারগুলোর তালিকা প্রশাসনের কাছে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য দ্রুত ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা জরুরি।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, পানিবন্দী মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাড়ছে মহানন্দা ও পুনর্ভবার পানিও

পদ্মার পাশাপাশি মহানন্দা ও পুনর্ভবা নদীতেও পানি বাড়ছে। শুক্রবার সকাল ৯টায় মহানন্দা নদীর খালঘাট গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৪৩ মিটার। এ নদীর বিপদসীমা ২০ দশমিক ৫৫ মিটার।

অন্যদিকে পুনর্ভবা নদীর রহনপুর গেজ স্টেশনে পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১৯ দশমিক ৪৬ মিটার। এ নদীর বিপদসীমা ২১ দশমিক ৫৫ মিটার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার পর্যন্ত পদ্মার পানি বাড়তে পারে। এরপর পানি কমতে শুরু করার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে পানি বিপদসীমার নিচে থাকায় বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে পানি আরও বাড়লে নিম্নাঞ্চলের পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।