বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ৯:১০ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ

নোট ছাপাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ

নোট ছাপাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয় বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ

দেশে নতুন টাকা ছাপাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যয় এক বছরের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন ব্যাংকনোট মুদ্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের খরচ হয়েছে ৪৫৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় এ ব্যয় বেড়েছে ৯৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে নোট মুদ্রণে ব্যয় হয়েছিল ২৩৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা। সে হিসাবে এক বছরে ব্যয় বেড়েছে ২২৪ কোটি ১৪ লাখ ৮ হাজার টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বাজার থেকে পুরোনো ও ব্যবহারের অনুপযোগী নোট তুলে নিয়ে তার পরিবর্তে নতুন নোট সরবরাহ করা নিয়মিত মুদ্রা ব্যবস্থাপনার অংশ। এ কার্যক্রমে নতুন নোট ছাপার কাজ করে দি সিকিউরিটি প্রিন্টিং করপোরেশন (বাংলাদেশ) লিমিটেড (এসপিসিবিএল)।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, টাকা ছাপাতে ব্যবহৃত বিশেষ নিরাপত্তা কাগজ ও কালির আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান খুবই সীমিত। ফলে এসব উপকরণ কেনার ক্ষেত্রে দরকষাকষির সুযোগ কম থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাগজ ও কালির দাম বেড়ে যাওয়া এবং সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে এবার মুদ্রণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তবে ব্যয় বাড়লেও নতুন নোট ছাপানোর পরিমাণ খুব বেশি বাড়েনি বলে জানান তিনি।

নতুন নকশার নোটে ব্যয় বাড়েনি

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি থাকা নোটের পরিবর্তে নতুন নকশার নোট চালুর উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে নতুন নকশার কারণে মুদ্রণ ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, এমনটি মনে করছে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরিফ হোসেন খান বলেন, নোটের নকশা পরিবর্তনে ব্যয় খুবই সামান্য। এতে মুদ্রণপ্রক্রিয়ায় কিছুটা জটিলতা তৈরি হলেও সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধির প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে কাগজ ও কালির দাম বেড়ে যাওয়া।

পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের গত পাঁচ অর্থবছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরেই নোট মুদ্রণে সর্বোচ্চ ব্যয় হয়েছে।

২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৩৮৪ কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩৭৪ কোটি ৩ লাখ ৮৫ হাজার এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৩৭ কোটি ২৯ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয় হয়। এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যয় কমে ২৩৪ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকায় নেমেছিল।

সর্বশেষ অর্থবছরে সেই ব্যয় এক লাফে বেড়ে ৪৫৮ কোটি ৯২ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় পৌঁছেছে।

ডলারের দামের প্রভাব সামান্য

নোট মুদ্রণের কাঁচামাল আমদানিতে ডলারের বিনিময় হারও ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে গত এক বছরে টাকার বিনিময় হারে বড় পরিবর্তন না হওয়ায় এবার ব্যয় বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা ছিল খুবই সামান্য।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, ২০২৫ সালের জুন শেষে প্রতি ডলারের গড় আন্তব্যাংক বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৭৭ পয়সা। ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২২ টাকা ৮৫ পয়সায়। অর্থাৎ এক বছরে টাকার অবমূল্যায়ন হয়েছে মাত্র ৮ পয়সা বা শূন্য দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ।

ফলে বিনিময় হারের পরিবর্তনের চেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নোট তৈরির প্রয়োজনীয় কাগজ ও কালির মূল্যবৃদ্ধিই মুদ্রণ ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার প্রধান কারণ বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।