বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১০:৪৮ অপরাহ্ণ

ইসি তৈরি করছে ডিজিটাল অ্যাক্রিডিটেশন সফটওয়্যার, কমিটি গঠন

ইসি তৈরি করছে ডিজিটাল অ্যাক্রিডিটেশন সফটওয়্যার, কমিটি গঠন

জাতীয় ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাংবাদিকদের অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড ও গাড়ির স্টিকার বিতরণ প্রক্রিয়া আরও সহজ, স্বচ্ছ ও আধুনিক করতে নতুন ডিজিটাল সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে সফটওয়্যারের প্রয়োজনীয় রূপরেখা (এসআরএস) চূড়ান্ত করতে ৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট (পিআইডি), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার, আইএফইএস এবং রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমকে আহ্বায়ক এবং জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকারকে সদস্য সচিব করে ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

বৈঠক শেষে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনলাইন ও ডিজিটাল অ্যাক্রিডিটেশন ব্যবস্থায় যেসব কারিগরি সীমাবদ্ধতা দেখা দিয়েছিল, সেগুলো দূর করতেই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য কাউকে বাদ দেওয়া বা নিয়ন্ত্রণ করা নয়। বরং পেশাদার সাংবাদিকদের কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ, স্বচ্ছ ও ভোগান্তিমুক্ত করাই এর লক্ষ্য।

ইসি সচিব জানান, গঠিত কমিটি আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। এরপর প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কমিশনের চূড়ান্ত অনুমোদনের ভিত্তিতে নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বিতরণ করা হবে।

এ সময় বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, নির্বাচন কমিশন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।

তিনি বলেন, অতীতে অনেক রাজনৈতিক ক্যাডার ও অপেশাদার ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড সংগ্রহ করে কেন্দ্র দখলসহ বিভিন্ন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। এতে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরা কাজ করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েছেন।

এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে নিবন্ধিত ও মূলধারার গণমাধ্যমে কর্মরত প্রকৃত সাংবাদিকদের যাচাই-বাছাই করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্ড ও গাড়ির স্টিকার দেওয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি।

বৈঠকে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সভাপতিত্বে পিআইডির প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন, আরএফইডির সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ-দৌলাসহ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে নির্বাচনকালীন সময়ে হাজার হাজার সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকের জন্য ম্যানুয়ালি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বা পাস ইস্যু করতে দীর্ঘ সময় ও বিপুল জনবলের প্রয়োজন হতো। সেই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও আধুনিক করতেই এবার কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে ইসি।