বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ১১:৪৩ পূর্বাহ্ণ

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআই অপপ্রচারেও নিষেধাজ্ঞা

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআই অপপ্রচারেও নিষেধাজ্ঞা

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণার ক্ষেত্রে নতুন বিধিমালা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা বিধিমালাটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

নতুন আচরণবিধিতে নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার বা অন্য আকাশযান ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

বিধিমালা অনুযায়ী, কোনও প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনি প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোডাউনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনি প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনও আকাশযান ব্যবহারও করা যাবে না।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানাতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় যে অর্থ ব্যয় হবে, সেটিও নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে।

ডিজিটাল প্রচারণায় এআইয়ের অপব্যবহার ঠেকাতেও নতুন বিধিমালায় বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনি পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচার এবং এআই ব্যবহার করে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো যাবে না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনও সরকারি সম্পদ নির্বাচনি কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপরও বিধিনিষেধ থাকবে।

নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। এছাড়া নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।

নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাও বাড়ানো হয়েছে। কোনও প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগও রাখা হয়েছে।

বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। নির্বাচনি ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তির মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে প্রচারণা চালানোও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নতুন বিধিমালার মূল উদ্দেশ্য উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন বন্ধের পাশাপাশি ডিজিটাল প্রচারণায় এআই-নির্ভর অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান নির্বাচনি প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

সূত্র: বাসস