জাতীয় সংসদে সংসদীয় কমিটির প্রতিনিধিত্ব ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা চলাকালে বিরোধী দলের প্রতি একাত্ম হয়ে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, শুধু অধিকার বা স্থায়ী কমিটির সভাপতির হিস্যা দাবি করলেই চলবে না, জুলাই জাতীয় সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে বিরোধীদের মূল সংশোধন প্রক্রিয়াতেও এগিয়ে আসতে হবে।
বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।
বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে যখন থাকেন, আইদার পজিটিভ অর নেগেটিভ সংসদ খুব প্রাণবন্ত থাকে এবং উনি থাকলে বাকি মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ যারা আছেন সম্মানিত, তারা না থাকলেও কোনও সমস্যা নেই। আজকেও আমরা এটার প্রমাণ পেয়েছি। আমি আর টেনশন করতে গেলাম না। তিনি যেহেতু এই সংসদে অনেকবার এসেছেন, স্বাভাবিক সংসদ সম্পর্কে তার আইডিয়া আমার চেয়ে অনেক বেশি। গতকালকের একটা বিষয়, জাস্ট ওই ইমাম সাহেব যখন নামাজের সূরা-কালামে কোনও সমস্যা হয়ে যায়, তখন মুক্তাদির দায়িত্ব হলো, ওয়াজিব হলো যে, তিনি লোকমা দেবেন। আমি জাস্ট একটা লোকমা দিচ্ছি, এর বেশি কিছু না।
শফিকুর রহমান বলেন, উনি কালকে বলেছেন যে, অতীতে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী দল থেকে স্থায়ী কমিটিতে সভাপতি দেওয়ার কোনও নজির নাই। এটা উনি ঠিকই বলেছেন ইল্লা ওয়াহেদ, একটা ছাড়া। সেটা হলো নবম জাতীয় সংসদ। যেখানে বিরোধী দলে আমরা মাত্র দুইজন ছিলাম, আপনারা ২৪ জন ছিলেন, টোটাল অল টুগেদার ২৬ জন ছিলেন। সেখানে কিন্তু বিরোধী দল থেকে দুইজন স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন। সুতরাং নজির আছে। তবে আমি এ জন্য তাকে লায়াবল করবো না। কারণ আমি চেক করে দেখলাম যে, ওই সংসদে উনি ছিলেন না। না থাকার কারণে যে গ্যাপটা হয়ে গেছে, আল্লাহ আমাকে এবং উনাকে মাফ করুন। কিন্তু নজির আছে। আজকে আল্লাহতালা দিল বড় করা শুরু করেছেন।
আমরা বলি নাই, উনি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন। তো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন বিভিন্নভাবে হতে পারে। একতরফা করলেও আমরা গোস্বা করবো না, আমরা এটার বাস্তবায়নটা চাচ্ছি। আমি জাস্ট স্মরণ করে দিলাম।
বিরোধীদলীয় নেতার এই বক্তব্যের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই জবাবটা আমি আশা করছিলাম। আপনি রাইটলি বলছেন, দুইজন ছিলেন। ছিলেন, আমি তো ‘কুল্লে ওয়াহেদ’ বলি নাই, উনি ‘ইল্লা ওয়াহেদ’ বলেছেন। আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় সরকারি হিসাব সম্পর্কিত কমিটিতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যাকে সভাপতি করা হতো, সেই ট্রেডিশনটা আমরা ফলো করে মাননীয় বিরোধীদলীয় উপনেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে আমরা সেই কমিটির সভাপতিত্ব ইতিমধ্যে দিয়েছি। যেটা উনি বলেছেন যে ‘ইল্লা ওয়াহেদ’। এখন তিনি দাবি করছেন যে, জুলাই জাতীয় সনদ আমরা অপরাধ করে পালন করি। এটা আমাদের প্রতিশ্রুতি, অঙ্গীকার। কিন্তু আমরা বলেছি যে, আপনারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য এগিয়ে আসুন। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়িত হবে, সংবিধান সংশোধিত হবে। একইভাবে জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে আসনের সংখ্যা আপনারা সভাপতিত্ব পাবেন স্থায়ী কমিটি, এবং তার মধ্যে সংসদীয় কমিটির চারটা। তার মধ্যে একটা ভুল হয়ে গিয়েছে, যেটা মাননীয় স্পিকার পদাধিকারী। এর বাইরে তিনটা, যার অলরেডি একটা হয়েছে, হিসাব সম্পর্কিত। এগুলো সবই তো, আপনারা শুভ সূচনা করুন জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য। সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আপনারা অংশগ্রহণ করুন, যা বক্তব্য আছে সেখানে দিন। আমরা এই ওয়াদা এখানে জাতীয় সংসদের এই ফ্লোরে দাঁড়িয়ে দিতে পারি। যথাশীঘ্র সম্ভব আমরা সেই সংবিধান সংশোধনী বিল নিয়ে আসব, যাতে করে তাড়াতাড়ি কার্যকর করা যায় এবং সংসদের উচ্চকক্ষ স্থাপন করা যায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আপনারা এখানে জুলাই জাতীয় সনদ অনুসারে একেবারে পাক্কা হিস্যা এখন থেকে চাইবেন, সহযোগিতায় আসবেন না, দুইটা তো একসাথে যায় না। আমরা তাই আহ্বান করছিলাম, আসুন আমরা একসাথে বসে সংবিধান সংশোধন করে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন করি এবং অ্যাকর্ডিংলি আপনারা সবকিছু পাবেন। এটাই সহযোগিতা। আপনারা সংস্কার বলুন, আমরা সংশোধনী বলি, কথা তো একই। কিন্তু এটা করতে হবে এই জাতীয় সংসদে। এটাই ছিল আমাদের আহ্বান। আপনারা বাইরের রাজনীতিতে যাই বক্তৃতা দেন না কেন, এখানে তো আমাদেরকে সবাই একসাথে বসে তর্কের মধ্য দিয়ে এটা নিতে হবে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। দয়া করে সেটা অনুধাবন করলে ভালো হবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
শুধু হিস্যা চাইলে হবে না, সংশোধন প্রক্রিয়াতেও আসতে হবে: বিরোধীদলকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
