শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা পাল পাড়ায় বইছে আনন্দের হাওয়া। চারদিকে চলছে জোরদার প্রস্তুতি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় এই উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রতিমা কারিগররা ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছেন প্রতিমা গড়ার কাজ। প্রতি বছরই আকর্ষণীয় ও ব্যতিক্রমী প্রতিমা সজ্জার জন্য নজর কাড়ে এই এলাকা। এবারও তার ব্যতিকেণ্ড ঘটেনি; মাটি বা খড়ের চিরাচরিত আবরণের বদলে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী উপকরণে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা।
ব্যতিক্রমী এই শিল্পকর্ম দেখতে এখন থেকেই পূজা মণ্ডপে ভিড় করছেন উৎসবপ্রেমী ও উৎসুক জনতা। মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, মাটির অবয়বের ওপর নিখুঁতভাবে বসানো হচ্ছে । তার ওপর সূক্ষ্ম নকশায় ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে দেবীর অলংকার ও চোখ ধাঁধানো পোশাক।
প্রতিমা শিল্পী নবদ্বীপ সরকার জানান, মা দুর্গার প্রতিমা তৈরির এই বিশেষ কৌশল তিনি দীর্ঘদিন ধরে রক্তসাৎ করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা ও নিপুণ শ্রম কাজে লাগিয়ে এ অঞ্চলের মণ্ডপে প্রথমবারের মতো এমন সৃষ্টিশীল কাজ করছেন। কয়েক মাস ধরে টানা পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিমাটিকে পূর্ণাঙ্গ ও আকর্ষণীয় রূপ দেওয়া হচ্ছে।
টিপনা পাল পাড়া পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি বিকাশ পাল বলেন, “গত বছর আমরা ৫০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে প্রতিমা তৈরি করে দর্শনার্থীদের চমক দিয়েছিলাম। এবার আরও নতুনত্ব রঙিন রেশমি সুতার শৈল্পিক ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য বিশেষ রাসায়নিক (Chemical) ব্যবহার করে এর অগ্নিঝুঁকি কমানোর সুব্যবস্থাও করা হয়েছে।”
কমিটির উপদেষ্টা অতুল পাল জানান, “বাংলাদেশের মধ্যে সম্ভবত প্রথমবারের মতো এত বিপুল পরিমাণ সুতার সংমিশ্রণে প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। ভিন্নধর্মী এই আয়োজনের কারণে এবার স্থানীয় দর্শনার্থীদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশের বহু মানুষের সমাগম ঘটবে বলে আমরা আশা করছি।”
ডুমুরিয়া পূজা উদ্যাপন পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবার ডুমুরিয়া উপজেলার ২শ১০টি মণ্ডপে শারদীয় পূজার প্রস্তুতি চলছে। তবে টিপনা পাল পাড়ার এই ব্যতিক্রমী আয়োজন পুরো উপজেলায় শারদীয় উৎসবের আমেজে এক ভিন্ন ও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ডুমুরিয়ার সার্বিক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি সম্পর্কে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজ সবিতা সরকার বলেন, “ডুমুরিয়ার টিপনা পাল পাড়ার এই শিল্পকর্ম ও উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন সৃজনশীল কাজ উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গোৎসব সুষ্ঠু, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্নের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির পাশাপাশি অগ্নি নিরাপত্তা ও দর্শনার্থীদের সুশৃঙ্খল গমনাগমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আশা করি, সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে এবারও একটি উৎসবমুখর দুর্গাপূজা আমরা উপহার দিতে পারব।

