বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬, ২:০৬ অপরাহ্ণ

নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশানো খাবার খেয়ে ৭ জন অসুস্থ, রাতে গ্রিল কেটে বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি

নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশানো খাবার খেয়ে ৭ জন অসুস্থ, রাতে গ্রিল কেটে বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার বাইশকাইল তালুকদার পাড়া গ্রামে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশানো খাবার খেয়ে দুই শিশুসহ পরিবারের সাতজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সুযোগে সেই বাড়িতে সোমবার ভোর রাতে দুর্ধষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে গোপালপুর থানা পুলিশ।
রোববার (২৩ আগস্ট) সকালে নাশতা খাওয়ার পর তারা একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন গৃহকর্তা আনোয়ার হোসেন। পরে প্রতিবেশীরা তাদের অচেতন অবস্থায় গোপালপুর উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। এ ঘটনার পর দুবৃর্ত্তরা ওই বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা, মোবাইল ও জমির দলিলপত্র নিয়ে যায়।
গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার খাইরুল ইসলাম জানান, গুরুতর অসুস্থ আনোয়ার হোসেন, আনোয়ারা বেগম, আরিফা খাতুন ও তার দুই বাচ্চাকে রবিবার রাতে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। সুস্থ বোধ করায় হামিদা ও অনামিকাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেওয়া হয়।
তিনি আরো জানান, লক্ষণ থেকে বোঝা যাচ্ছিল যে, লবনের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশানো হয়েছিল। সেই খাবার খেয়েই সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ে।
আরিফা বেগমের দাবি, রান্নাঘরে রাখা লবণের পাত্রে শত্রুতাবশত কেউ বিষাক্ত বা নেশাজাতীয় কিছু মিশিয়ে দিয়েছে। সেই লবণ দিয়ে রান্না করা খাবার ও খাবারের সঙ্গে বাড়তি লবণ খাওয়ার পর সবাই অচেতন হয়ে পড়ে।
হামিদা বেগমের স্বামী স্কুল শিক্ষক শাওন চৌধুরি জানান, স্ত্রী হালিমা ও শ্যালিকা অনামিকাকে নিয়ে গত রবিবার রাত নয়টায় শ্বশুর বাড়িতে ফিরেন। সবাই পরিশ্রান্ত থাকায় রাত দশটার দিকেই তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে কয়েকজন দুবৃর্ত্ত বারান্দার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ওয়ারড্রেব, আলমিরার পালা খুলে দুই ভরি স্বর্ণের গহনা, নগদ ৫৭ হাজার টাকা, একটি এন্ড্রোয়েড মোবাইল সেট এবং জমিজমার কিছু দলিল পত্র নিয়ে যায়। তারা ঘরের সব কিছু তছনচ করে। দুবৃর্ত্তরা যাওয়ার সময় তার ঘুমন্ত স্ত্রীর গলা থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
তিনি আরো জানান, বাড়িতে চুরি করার জন্যই গত শনিবারে রাতে দুবৃর্ত্তরা লবনের সাথে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে রেখেছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
গোপালপুর থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই চন্দন বাবু জানান, রোববার বিকালে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে অসুস্থদের সাথে কথা বলেন। রবিবার রাত দশটার দিকে থানার টহল পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে রাতে সকলকে সজাগ থাকার জন্য সতর্ক করে আসেন। কিন্তু রাত সাড়ে তিনটার দিকে দুবৃর্ত্তরা গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে চুরির সাহস দেখায়।
তিনি বলেন, ‘সোমবার সকালে দশটায় পুলিশ ওই বাড়ি পরিদর্শন এবং ভিক্টিম পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। প্রাথমিক ভাবে মনে হচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এ কাজ করছে। তবে এটি পারিবারিক শত্রুতা থেকেও এ ঘটনা ঘটতে পারে।’
গোপালপুর থানার ওসি মোঃ রুহুল আমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘একই বাড়িতে পর পর দুটি অপরাধ সংঘটন থেকে মনে হয় এটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ। পরিবার মামলা দিলে এ চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’