বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ১০:০৭ অপরাহ্ণ

মামলার খরচ জোগাতে ফের ইয়াবা কারবার, ডজন মামলার ‘টোয়েন্টি জসিম’ গ্রেপ্তার

মামলার খরচ জোগাতে ফের ইয়াবা কারবার, ডজন মামলার ‘টোয়েন্টি জসিম’ গ্রেপ্তার

আদালতে বিচারাধীন এক ডজন মামলার আইনি খরচ জোগাতে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে ১৪৭টি ইয়াবাসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন মো. জসিম উদ্দিন প্রকাশ ওরফে ‘টোয়েন্টি জসিম’ (৪০)।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের কোরিয়ান কেইপিজেডের দক্ষিণ গেটের সু-গেট-১-এর সামনের পাকা সড়ক থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার মো. জসিম উদ্দিন প্রকাশ ওরফে টোয়েন্টি জসিম বৈরাগ ইউনিয়নের উত্তর বন্দর এলাকার মৃত নসু মিয়া প্রকাশ নজু মিয়ার পুত্র।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী থানার বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নূরে আলম সিদ্দিকের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কেইপিজেড এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জসিম দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ তাকে ধাওয়া দিয়ে আটক করে।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জসিম তার হেফাজতে মাদক থাকার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে আইনানুগভাবে তাকে তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশির সময় তার পরনের লুঙ্গির গোছা থেকে একটি নীল রঙের বায়ুরোধী পলিপ্যাকে রাখা ১৪৭টি ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। জব্দ করা ইয়াবার মোট ওজন ১৪ গ্রাম। এজাহারে এসব ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৪ হাজার ১০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে জসিম পুলিশকে জানান, পলাতক আসামি মো. আবছারের কাছ থেকে কম দামে ইয়াবা কিনে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন তিনি। নিজের বিরুদ্ধে চলা একাধিক মামলার খরচ জোগাতেই তিনি পুনরায় এই মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন।

পুলিশের অপরাধ ডাটাবেজ সিডিএমএস ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, জসিমের বিরুদ্ধে কর্ণফুলী, পটিয়া ও আনোয়ারা থানায় ডাকাতি, অস্ত্র, চুরি, বিস্ফোরক, ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন অভিযোগে মোট ১২টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২০১৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত শুধু কর্ণফুলী থানাতেই তার বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, অস্ত্র আইন, চুরি, দাঙ্গা, সরকারি কাজে বাধা, বিস্ফোরক দ্রব্য আইন এবং ছিনতাইয়ের একাধিক মামলা নিবন্ধিত হয়েছে।

এ ছাড়া পটিয়া ও আনোয়ারা থানাতেও জসিমের বিরুদ্ধে ডাকাতির মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

কর্ণফুলী থানা-পুলিশের দাবি, আসামিরা অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে অ্যামফেটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট নিজেদের দখলে রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অপরাধ করেছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কর্ণফুলী থানার ওসি মো. ইখতিয়ার উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার জসিমের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নতুন মামলা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রোববার তাকে আদালতে হাজির করার পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।