বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ

ডুমুরিয়ায় খাল খননে অনিয়ম: সরকারি কোষাগারে ফেরত গেল ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা

ডুমুরিয়ায় খাল খননে অনিয়ম: সরকারি কোষাগারে ফেরত গেল ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা):

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিলডাকাতিয়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে গৃহীত দুটি খাল খনন প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও অপরিকল্পিত কাজের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্প দুটিতে নামমাত্র কাজ করে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করা হলেও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে শেষ রক্ষা হয়নি। অব্যয়িত ও অনিয়মের কারণে আটকে যাওয়া মোট ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত পাঠাতে বাধ্য হয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘সাহস ডোলডাঙ্গা খাল হতে কাঠবুনিয়া বড় দোয়ানিয়া খাল হয়ে ভদ্রা নদী অভিমুখে খাল পুনঃখনন’ এবং ‘কৃষ্ণনগর নিমতলা হতে বিলডাকাতিয়া হয়ে রংপুর সাড়াতলা পর্যন্ত খাল পুনঃখনন’—এই দুটি বড় বাজেটের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু শুরু থেকেই খালের গভীরতা ও সঠিক সীমানা না মেনে ভেক্যু মেশিন দিয়ে তড়িঘড়ি করে মাটি তুলে খালের পাড়েই রেখে দেওয়া হয়। এমনকি খাতা-কলমে কাজ সমাপ্ত দেখানো হলেও বাস্তবে ভদ্রা নদীর স্লুইস গেটের সামনের মাটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এছাড়া খালের পাড়ে সম্প্রতি রোপণ করা গাছের চারাও এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

​প্রকল্প দুটির আর্থিক চিত্র:

​সাহস ডোলডাঙ্গা থেকে ভদ্রা নদী প্রকল্প: প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১ কোটি ২৮ লাখ ৭৮ হাজার ৫৩৭ টাকা। বিপরীতে কাজ দেখিয়ে ব্যয় ধরা হয় ৯০ লাখ ৫৪ হাজার ৩৬১ টাকা। বাকি ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ১৭৬ টাকা অব্যয়িত হিসেবে ফেরত যায়।

​কৃষ্ণনগর নিমতলা থেকে রংপুর সাড়াতলা প্রকল্প: প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ২৮ হাজার ২৩২ টাকা। এর মধ্যে কাজ হয়েছে ৮২ লাখ ২১ হাজার ৫৭৪ টাকার। অবশিষ্ট ৯৮ লাখ ৬০ হাজার ৬৫৮ টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

​ডুমুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন জানান, প্রকল্প দুটির অব্যয়িত ১ কোটি ৩৬ লাখ ৩১ হাজার ১৯ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।

​খুলনা জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তা মো. আব্দুল করিম জানান, “ডুমুরিয়া উপজেলার দুটি খাল খননের কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে কাজের প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অবশিষ্ট টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলে উপজেলা প্রশাসন তা বাস্তবায়ন করে।”

​এ বিষয়ে ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সবিতা সরকারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেন।