ভারতের তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা 'ককরোচ জনতা পার্টি' আন্দোলন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপির জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। ছাত্র আন্দোলনের চাপে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, উপনির্বাচনে পরাজয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের মন জয়ের ব্যর্থ চেষ্টা—এসব কারণে বিজেপিকে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে।
গত মে মাসে ভারতের প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে 'ককরোচ জনতা পার্টি' নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে ওঠে। এরপর থেকে আন্দোলনটি দেশটির বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বেকারত্ব, চাকরির পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে তরুণদের মধ্যে ক্ষোভের কারণে এই আন্দোলন গড়ে ওঠে।
আগস্টের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত তিনটি উপনির্বাচনের মধ্যে দুটিতে বিজেপি পরাজিত হয়েছে। বিশেষ করে বিহারের ব্যাংকিপুর আসনে বিজেপির পরাজয়কে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ফলাফল দেখে বিজেপির শক্তি কমে গেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো এখনই ঠিক হবে না।
বিজেপি তরুণদের কাছে পৌঁছানোর জন্য নতুন প্রচারণা শুরু করেছে। মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক ভিডিও প্রকাশ করেছেন এবং তরুণদের আকৃষ্ট করতে নতুন ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে এসব প্রচারণা অনেক ক্ষেত্রে সমালোচনা ও হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনে বিভিন্ন ধর্ম, জাতপাত ও সামাজিক শ্রেণির তরুণরা অংশ নিয়েছেন, যা আন্দোলনটিকে কোনো একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর আন্দোলন হিসেবে চিহ্নিত করা কঠিন করে তুলেছে। বিজেপি এখনো ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি, তবে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা আগামী দিনে বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে।

