বর্তমান প্রজন্মের অধিকাংশ শিশু মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংস্পর্শে আসছে। তারা কখনো বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে, আবার কখনো তাদের নামে আলাদা অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে অনেক শিশু অল্প বয়সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নানা ধরনের কনটেন্টের মুখোমুখি হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল কনটেন্টের পাশাপাশি সহিংসতা, অশালীনতা, আত্মক্ষতির প্ররোচনা এবং সাইবার বুলিংয়ের মতো ক্ষতিকর বিষয়ও রয়েছে। এসব কনটেন্ট শিশুর চিন্তা, আচরণ ও মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বিভিন্ন দেশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সসীমা ও অভিভাবকের সম্মতি নিয়ে নতুন করে ভাবছে।
শিশুরা যদি কোনো ক্ষতিকর কনটেন্ট দেখে ফেলে, তাহলে অভিভাবকদের কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। প্রথমত, আতঙ্কিত না হয়ে শিশুর সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, খোলামেলা যোগাযোগের পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে শিশু অনলাইনে অস্বস্তিকর কিছু দেখলে অভিভাবকদের জানাতে পারে। তৃতীয়ত, ডিজিটাল সীমানা নির্ধারণ করা জরুরি, যাতে মোবাইল বা অন্যান্য ডিভাইস ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা যায়।
অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের পরিবর্তে বিকল্প আনন্দের সুযোগ তৈরি করা উচিত, যেমন বই পড়া, খেলাধুলা বা প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো। সবশেষে, শিশুকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করাই সমাধান নয়; বরং নিরাপদ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।