জামালপুর প্রতিনিধি:
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়ন ফ্যামিলি শুমারির নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সুপারভাইজার এবং ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল মিয়ার বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিপুল পরিমাণ চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নাম ভাঙিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা দাবি করার চ্যাট স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকা জুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া হোয়াটসঅ্যাপের স্ক্রিনশট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ভুক্তভোগী ব্যক্তি নিজেকে পোশাক শ্রমিক ও অত্যন্ত দরিদ্র দাবি করে নির্ধারিত টাকার অঙ্ক কমানোর আকুতি জানান। এর জবাবে ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল মিয়া সাফ জানিয়ে দেন, এই টাকার ভাগ তার নিজের নয়; উপজেলা ছাত্রদল এবং মূল দল অর্থাৎ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের দিতে হবে। চ্যাটে আগামী ৭ তারিখ বাকি টাকা পরিশোধের চুক্তির কথা উল্লেখ থাকায় ধারণা করা হচ্ছে, এটি চলতি মাসের শুরুর দিকের বা কিছুদিন আগের কথোপকথন।
কথোপকথনে আরও দেখা যায়, ভুক্তভোগী ব্যক্তি তাত্ক্ষণিকভাবে ৮ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করেন বা করতে চাইলে এবং বাকি টাকা নির্ধারিত তারিখে দেওয়ার আশ্বাস দেন। কিন্তু ছাত্রদল নেতা মাহমুদুল এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে অতিরিক্ত কথা না বাড়িয়ে চুক্তি অনুযায়ী দ্রুত টাকা পরিশোধের চাপ সৃষ্টি করেন।
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই মাহমুদুল এই অপচেষ্টা চালিয়েছে। দল কোনো ধরণের চাঁদাবাজি বা কার্ড বাণিজ্য সমর্থন করে না। নেতারা আরও স্পষ্ট করেন যে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটার সাথে জড়িত ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় দল নেবে না।
স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ফ্যামিলি শুমারি কার্যক্রমের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বের অপব্যবহার করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় অত্যন্ত নিন্দনীয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদুল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

