বাংলাদেশে অনলাইন জুয়ার বিস্তার একটি নতুন সংকট হিসেবে দেখা দিচ্ছে। মোবাইল স্ক্রিনের আলোয়, একাকী যুবক ও গৃহকর্তারা মুঠোফোনের অ্যাপে বাজি ধরছেন, যা রাষ্ট্রের কাছে দীর্ঘদিন অদৃশ্য ছিল। প্রযুক্তির অগ্রগতির সাথে সাথে এর অন্ধকার দিকগুলোও সামনে আসছে।
২০১০ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের বৈধ মোবাইল গেমিং বাজার ১৯ লাখ ডলার থেকে বেড়ে ১২ কোটি ডলারের বেশি হয়েছে। বর্তমানে সক্রিয় মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত কোটি। করোনাকালে ঘরবন্দি তরুণ প্রজন্ম বিকল্প বিনোদনের সন্ধানে থাকায় বাজি ধরার অফশোর প্ল্যাটফর্মগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।
সরকারি পরিকল্পনা কমিশনের অধীন সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ নিয়মিত অনলাইন জুয়ায় আসক্ত। যদি কার্যকর হস্তক্ষেপ না করা হয়, তবে ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ২ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। বৈধ আইগেমিং খাতের আকার আনুমানিক ৬২ থেকে ৬৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার হলেও, অবৈধ চ্যানেলে বছরে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হচ্ছে।
এই সংকটের ভুক্তভোগী সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থী, বেকার তরুণ, শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এতে জড়িয়ে পড়ছেন। সামান্য বিনিয়োগে দ্রুত অর্থ উপার্জনের স্বপ্ন তাদেরকে এই ফাঁদে ফেলছে।
জুয়ার আসক্তির পেছনে একটি সুপরিকল্পিত কৌশল কাজ করছে। ফেসবুক ও ইউটিউবে বিজ্ঞাপনগুলো সাধারণ মোবাইল গেম বা সংবাদ পোর্টালের ছদ্মবেশে হাজির হয়। স্থানীয় 'এজেন্ট'রা ব্যবহারকারীর আস্থা অর্জন করে এবং জুয়াকে সামাজিকভাবে স্বাভাবিক করে তোলে।
এই সংকটের ফলে পরিবারগুলোতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। ঋণের চাপ, বিবাদ এবং নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। প্রশ্ন উঠছে, আমরা কি কেবল অপরাধীদের শাস্তি দিতে চাই, নাকি দুর্বল পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে চাই?

