শেখ হাসিনা ৭৬ বছর বয়সে দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, যা ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা আগে শুরু হয়। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সেখানে বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনাবাহিনী গুলি চালাবে না—এমন সিদ্ধান্ত হয়। এ তথ্যের সূত্র হিসেবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে দুই সেনা কর্মকর্তার বরাত।
বৈঠকের পর সেনাপ্রধান গণভবনে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ভারতীয় কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, সেনাপ্রধান শেখ হাসিনাকে জানান যে সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী সেনাবাহিনী কারফিউ ও লকডাউন বাস্তবায়নে আগ্রহী নয়। এর মাধ্যমে সরকারের প্রতি সেনাবাহিনীর সমর্থন প্রত্যাহারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান পদত্যাগের আগের শনিবার থেকেই অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন। সেদিন তিনি সেনা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, মানুষের জীবন রক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
সোমবার ঢাকায় বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সমাবেশ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ২৪১ জন নিহত হওয়ার পর শেখ হাসিনাকে সমর্থন অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়ে বলে তিন সাবেক সেনা কর্মকর্তার মত।
শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানা আলোচনার পর ভারতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর জানান, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সংকট শুরুর পর থেকেই দিল্লি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছিল।
সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০ উড়োজাহাজে করে শেখ হাসিনা ভারতের দিল্লির কাছে হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান এবং সেখানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

