বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: আগস্ট ২, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ

হতভাগী সীমার জীবন যুদ্ধে এগিয়ে চলা

হতভাগী সীমার জীবন যুদ্ধে এগিয়ে চলা

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি :

জন্মের পর থেকেই দুঃখ যেন পিছু ছাড়েনি। বাবার স্নেহ পাননি, স্বামীর ঘরও টেকেনি। সুখ কি জিনিস এখন পর্যন্ত জানতেও পারেনি জানার চেষ্টাও করেনি। কখনো কারো জীবনে সুখ যে সোনার হরিণ চাইলেই পাওয়া যায়।এত কষ্টের মাঝেও ভেঙে পরেনি। বরং কষ্ট ও অভাবকে সঙ্গী করে, পরিশ্রমকে পুঁজি করে মায়ের সংসারের হাল একাই টেনে যাচ্ছেন সুরাইয়া সুলতানা সীমা।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভার ৮’নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোঃ দেলোয়ার হোসেন দুলুর ছোট মেয়ে সীমা। ৩’বোন সবার ছোট ১’ ভাই। সীমা বলেন, বাবা মাকে এবং আমাদের ৪’ভাইবোনকে ছোট রেখেই অন্যত্র বিয়ে করে নিরুদ্দেশ হয়। ২০’বছরের অধিক সময় কেটে গেছে বাবার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। মা ও আমাদের রেখে অন্যত্র বিয়ে করায় দাদা রাগ করে বাবার অংশের সম্পত্তি মায়ের নামে লিখে দেন। এজন্য বংশের অনেকের চোখ রাঙানি সয্য করতে হয়। সেইটুকুই আমাদের জীবন চলার শেষ সম্বল।

সীমা বলে, সময় গড়িয়ে যায় এক সময় বড় দু’বোন ও ছোট ভাইয়ের বিয়ে হয়। সুখের সংসার পাতলেও ছোট ভাইয়ের সংসার বেশিদিন টিকে নাই। এলাকার ক্যাসিনো ডিলারের খপ্পরে পড়ে ছোট ভাই সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়। দেনার দায়ে একসময় স্ত্রীও তাকে ছেড়ে যায়। একসময় ছোট ভাই শুভ পাঁচবিবি স্টেশন এলাকায় পুরাতন কাপড় বিক্রয় করত এখন ভাই ঢাকায় থাকে।

নিজের জীবনেও সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি সীমার। ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। কিন্তু বৃদ্ধা মাকে একা রেখে শ্বশুরবাড়িতে যেতে না পারায় ভালোবেসে বিয়ে করা স্বামী একসময় অন্যত্র বিয়ে করে। মায়ের মতো সীমার সংসার জীবনও একই পথে হাঁটতে লাগলো।

তবে দুঃখকে তিনি দুর্বলতা ভাবেনি কখনোই বরং শক্তি বানিয়েছেন। সংসারের অভাব মেটাতে স্কুল জীবন থেকেই কাজে নেমেছে। প্রথমে দর্জির কাজ শিখে বড়বোনের সেলাই মেশিন চেয়ে নিয়ে বাড়িতেই এলাকার মানুষের কাপড় সেলাই কাজ শুরু করে সীমা। দর্জির কাজের পাশাপাশি বাড়িতে হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল পালন করে। ছোট একটা পুকুরে মাছ চাষও করে। এছাড়া অবসর সময়ে কঠোর পরিশ্রমী সীমা এলাকার ছোট-বড়দের কোরআনও পড়া শিক্ষা দেয়। এ সব আয় দিয়েই মা-মেয়ের ডালভাত খেয়ে পেট চলে। জমানো কিছু টাকা দিয়ে ছোট বাড়ি করেছে।

সীমার সোজা কথা, শরীরে যতদিন শক্তি থাকতে অন্যের কাছে হাত পাতব না। নিজে কাজ করে ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচতে চাই।
পাঁচবিবির এই লড়াকু নারীর গল্প শুধু বেঁচে থাকার নয়, মাথা উঁচু করে বাঁচারও। সমাজ, সংসার বারবার আঘাত করলেও সীমা থেমে থাকেননি। দুঃখকে বুকে নিয়ে প্রতিদিন নতুন করে জীবন যুদ্ধে নামেন তিনি। মায়ের মতোন তোমার জীবনটা অতিবাহিত করছ কষ্ট লাগে কি এমন প্রশ্নের উত্তরে সীমা বলে, অভাব আর কষ্টেই যাদের জীবন গড়া তাদের আবার কষ্ট কিসের। একটা সেলাই মেশিন সরকার বা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন থেকে পেতাম বড়বোনের থেকে নেওয়া মেশিনটি তাকে ফেরত দিতাম।