হবিগঞ্জ ও সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘সুপরিকল্পিত’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। তার এই মন্তব্যের পর তিনি সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে জাহিদুল ইসলাম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে হামলার ঘটনাগুলোকে ‘ডিপ পাওয়ার’ বা গভীর পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, হামলার উদ্দেশ্য হলো এনসিপির প্রতি জনসমর্থন তৈরি করা। পোস্টটি প্রকাশের কিছু সময় পর তিনি তা মুছে ফেলেন।
গত মঙ্গলবার ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির সময় হবিগঞ্জে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরদিন এনসিপির নেতা-কর্মীরা হবিগঞ্জ শহরে বিক্ষোভ করতে চাইলে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। বৃহস্পতিবার সিলেটে এনসিপির নেতা-কর্মীদের বহনকারী গাড়িতেও হামলার অভিযোগ ওঠে। এনসিপি এসব হামলার জন্য ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং তাদের সহযোগী সংগঠন ছাত্রদল ও যুবদলকে দায়ী করেছে।
জাহিদুল ইসলামের পোস্টের পর জামায়াত-সমর্থক বিভিন্ন ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও একই ধরনের বক্তব্য প্রকাশিত হয়। এনসিপির নেতা-কর্মীরা তার মন্তব্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন তার পোস্টে জামায়াতের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে জাহিদুল ইসলামের মন্তব্যের সমালোচনা করেন।
জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটে এনসিপি যুক্ত রয়েছে, এবং ইসলামী ছাত্রশিবির জামায়াতের ছাত্রসংগঠন। ফলে এনসিপির নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা এবং জাহিদুল ইসলামের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি অবস্থান স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

