বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রিন্ট: জুলাই ২৫, ২০২৬, ১:৪০ পূর্বাহ্ণ প্রকাশ: জুলাই ২৪, ২০২৬, ২:৫৭ অপরাহ্ণ

লন্ডনের হোটেলে সৌদি যুবরাজের মৃত্যু: তদন্তে মাদক গ্রহণের প্রমাণ মিলেছে

লন্ডনের হোটেলে সৌদি যুবরাজের মৃত্যু: তদন্তে মাদক গ্রহণের প্রমাণ মিলেছে

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের একটি পাঁচতারা হোটেলে ২৯ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজ আবদুল্লাহ বিন ফাহাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ বিন জালাউয়ি আল সৌদ-এর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে মারাত্মক মাদক গ্রহণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যুক্তরাজ্যের মৃত্যু তদন্তকারী কর্মকর্তা 'করোনা'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুবরাজের মৃত্যু হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে (কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট) হয়েছে, যা মাত্রাতিরিক্ত অ্যালকোহল, পার্টি ড্রাগস এবং উদ্বেগ কমানোর ওষুধের মিশ্রণের কারণে ঘটেছে। তদন্তে হত্যা বা আত্মহত্যার কোনো প্রমাণ না পাওয়ায় একে ‘দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

গত বছরের ২৫ নভেম্বর লন্ডনের কেনসিংটন এলাকার ম্যারিয়ট হোটেলের একটি কক্ষের বাথরুম থেকে যুবরাজের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা তালাবদ্ধ কক্ষটি খোলার পর তাকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। জরুরি চিকিৎসকেরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। যুবরাজ ১৯ নভেম্বর এক সপ্তাহের জন্য ওই হোটেলে উঠেছিলেন।

ইনার ওয়েস্ট লন্ডন করোনারস কোর্টের তদন্তে যুবরাজের শরীরে মারাত্মক মাত্রায় নেশাজাতীয় দ্রব্যের উপস্থিতি পাওয়া যায়। বিষতত্ত্ব পরীক্ষায় দেখা যায়, তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল ১০০ মিলিলিটারে ২২২ মিলিগ্রাম, যা ইংল্যান্ডে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে নির্ধারিত বৈধ মাত্রার চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি। এছাড়া, তার শরীরে ‘জিএইচবি’ নামের পার্টি ড্রাগ, গাঁজার আলামত এবং উদ্বেগ কমানোর বিভিন্ন ওষুধের বিপজ্জনক মাত্রার উপস্থিতি পাওয়া যায়।

পুলিশের তদন্তে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মৃত্যুর আগের দিন যুবরাজ একা হোটেলের বাইরে ধূমপান করতে গিয়েছিলেন এবং একাই নিজ কক্ষে ফিরে আসেন। কক্ষে অন্য কারও প্রবেশের প্রমাণ না পাওয়ায় তৃতীয় পক্ষের সম্পৃক্ততার সন্দেহ বাতিল করা হয়। সহকারী করোনার জিন হারকিন তার রায়ে বলেন, ‘যুবরাজ আবদুল্লাহ নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একাধিক মাদকের বিক্রিয়ায় দুর্ঘটনাবশত তার মৃত্যু হয়েছে।’

যুবরাজের মৃত্যুর কয়েক দিন পর ২ ডিসেম্বর সৌদি আরবের রয়্যাল কোর্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর খবর প্রকাশ করে। রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, আবদুল্লাহ ছিলেন অত্যন্ত শান্তশিষ্ট ও পরোপকারী একজন মানুষ।