মোহাম্মদ আসাদ-স্টাফ রিপোর্টার :
জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্র মিয়াপাড়ায় মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ৯৫ বছর বয়সী কবির উদ্দিন ভূষি ও তাঁর ৭০ বছর বয়সী স্ত্রী নূর জাহান বেগম। দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া এই দম্পতির আর কোনো সম্পদ নেই।
ভূমিহীন এই দম্পতি প্রায় ৭০ বছর ধরে একটি জরাজীর্ণ ছাপড়ায় বসবাস করছেন, যা মিয়াবাড়ীর একটি ডোবার পাশে, ময়লার ভাগাড় ঘেঁষে অবস্থিত। প্রতিবেশী লিটন সিদ্দিকীর জমিতে তাঁদের এই আশ্রয়। বিদ্যুৎ, টয়লেট কিংবা বিশুদ্ধ পানির কোনো ব্যবস্থা নেই ঘরে। বৃষ্টি হলে পুরনো ফুটো টিনের চাল দিয়ে পানি পড়ে, আর চারপাশে জমে থাকা আবর্জনার কারণে কীটপতঙ্গ ও মাঝেমধ্যে বিষাক্ত সাপও বাসা বাঁধে সেখানে।
কবির উদ্দিন চোখে দেখেন না, কানেও শোনেন না। অন্যের সহায়তা ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। দীর্ঘদিনের অনাহারে তাঁর শরীর কঙ্কালসার হয়ে গেছে। স্ত্রী নূর জাহানও একই রকম অক্ষম। তাঁদের একমাত্র কন্যা বিয়ের পর স্বামীর সংসারে চলে যাওয়ায় আর কেউ সহায়তা করার নেই।
দুজনের মধ্যে মাত্র একজনের নামে বয়স্ক ভাতার কার্ড আছে, অন্যজন এখনো তা পাননি। নূর জাহান বেগম জানান, গত ঈদেও ত্রাণের একটি স্লিপও তাঁরা পাননি।
কবির উদ্দিন বলেন, মৃত্যুর আগে একটা ঘর আর তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা হলেই তিনি শান্তিতে মরতে পারবেন। কাফনের কাপড় কেনার সামর্থ্যও তাঁর নেই। নূর জাহান বলেন, সারাজীবন অন্যের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়েছেন, কিন্তু এখন আর কাজ করার শক্তি নেই, ভিক্ষা করারও সামর্থ্য নেই।
বকশীগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা জানান, বিষয়টি এতদিন কোনো জনপ্রতিনিধি বা ব্যক্তি তাঁর দৃষ্টিগোচর করেননি। আগে জানানো হলে সরকারি সহায়তা দেওয়া সম্ভব হতো। তিনি পৌরসভার পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, শহরের প্রাণকেন্দ্রে বসবাস করেও এই দম্পতি এতদিন প্রশাসনের নজরে না আসাটাই সবচেয়ে বড় বিস্ময়ের বিষয়- যেন সত্যিই “প্রদীপের নিচে অন্ধকার”।

