July 19, 2024, 4:01 am

নারায়ণগঞ্জে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের নামে পরিবেশ অধিদপ্তরের লোক দেখানো অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার ঃনারায়ণগঞ্জের বন্দরে বেশ কিছু অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মোবাইল কোর্ট।
ইটভাটা গুলোর দাহ্য ধোয়া ও গ্যাস মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ করছে স্থানীয়দের ফলে বিভিন্ন জটিল রোগ ব্যধিতে আক্রান্ত তারা। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ ফেব্রুয়ারি বন্দর উপজেলার ফোনকুল, বার পাড়া, দাসেরগাঁও ও লক্ষণখোলা এলাকায় অর্ধ শতাধিক ইট ভাটার মধ্যে মাত্র উনিশটি ইট ভাটাকে অর্থদণ্ড করে নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের মোবাইল টিম। যার মধ্যে মাত্র চারটি ইটভাটা তারা সরেজমিন পরিদর্শন করেন তারা। বাকি ১৫টি ইটভাটার মালিকদের ডেকে এনে দেন দরবার করে নামমাত্র আর্থিক জরিমানা করেন।যা দেখে স্থানীয় জনগণের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভের দেখা দেয়। অনেকেই বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তর মোবাইল কোর্টের নামে একধরনের আই ওয়াশ করছে। তারা আরো বলেন, নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর কি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে এসেছেন নাকি আর্থক দরদাম করতে এসেছেন। সরে জমিনে দেখা গেছে সকাল ১১ টায় বন্দরের লক্ষণ খোলা এলাকায় হাজী অটো ব্রিকস এ অভিযানের নামে ভাটির কয়েকটি ইট ভেকু দিয়ে ভাঙ্গে। পরে মালিকপক্ষ চলে এলে তাদের সাথে দেন দরবার করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে পরপর আরো তিনটি ইটভাটায় একই রকম অর্থদণ্ড করেন। সবশেষে আল মদিনা ব্রিকস এ গিয়ে পুরো মোবাইল টিম দুপুরের লাঞ্চ করেন। লাঞ্চ শেষে অন্যান্য ১৫ ইট ভাটার মালিকদের ডেকে এনে দর কষাকষি করে আর্থিক দণ্ড করেন। সব মিলিয়ে ১৯টি ইট ভাটার মালিককে সর্বমোট ৭০ লক্ষ টাকা জরিমানা দেখান।
অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিস্ঠানের আশেপাশে “ভাই ভাই” ইট ভাটা সহ আরো ডজন খানেক ইটভাটা থাকলেও সেখানে তারা কোনরূপ অভিযান পরিচালনা করেননি।
অথচ, প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ ও সংশোধনী আইন ২০১৯ অনুযায়ী লাইসেন্স স্থগিত ও বাতিল করণ, জেলা প্রশাসন লাইসেন্সের কোনো শর্ত লংঘন, এই আইনের অধীনে কোন অপরাধ সংগঠন কোন অপরাধ সংগঠন কিংবা স্থগিত, ইট ভাটার কারনে তৎসংলগ্ন এলাকায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির সম্মুখীন হলে জেলা প্রশাসন উপরোক্ত কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্সের কার্যকারিতা অনধিক বা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করে বা অভিযুক্ত ইট ভাটার মালিককে উল্লেখিত সময়ের মধ্যে যথাযথ শুনানির পূর্বক লাইসেন্স বাতিল বা ইটভাটা কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য আদেশ জারি করতে পারবেন। উল্লেখিত আইনের কোনরূপ প্রয়োগ নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়নি।
সচেতন মহলের প্রশ্ন পরিবেশ দূষণের মতো একটা মারাত্মক অপরাধের জন্য আর্থিক দন্ড নিয়ে কিভাবে কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারেন? জানা গেছে ওই সকল এলাকায় মোবাইল কোর্ট উপস্থিত থাকায় জরিমানা বা অর্থদণ্ড দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ইট ভাটার কাজ অব্যাহত রাখেন। এ ব্যাপারে কয়েকজন ইট ভাটার মালিকের সাথে কথা বললে তারা জানান, নারায়ণগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তর বছরে দুবার এসে এভাবে মোবাইল কোর্টের তাদের আর্থিক জরিমানা করেন। সুতরাং এতে তারা বিচলিত নন। তাদের ইটের ব্যবসা সবসময়ই চলমান রয়েছে।
অভিযান শেষে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী তামজিদ এক ব্রিফিংয়ে বলেন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১৯টি ভাটার মালিককে ৭০লক্ষ টাকা নগদ জরিমানা হয়েছে। উপস্থিত মাইটিভির সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মামুনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আমরা কোন ইটভাটাকে ভেঙ্গে দিতে বা কার্যক্রম স্থগিত করতে পারিনা শুধু সতর্ক ও আর্থিক জরিমানা করতে পারি।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা