November 30, 2022, 6:27 pm

সৌদি আরবে মাদক সম্রাট রাশেদের ইয়াবার রমরমা বানিজ্য

প্রতিনিধিঃ সর্বনাশা ‘বাবা ট্যাবলেট’ ওরফে ইয়াবা দেশের বারটা বাজিয়ে এখন বিদেশেও (সৌদি আরবে) চলছে এর রমরমা বাণিজ্য। এর প্রধান কারণ ইয়াবার সহজলভ্যতা। আর এই রমরমা বাণিজ্যের নেপথ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই বাংলাদেশি প্রবাসীরা।

সরেজমিন অনুসন্ধানে ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রবাসীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, সৌদি আরবের রিয়াদ,জেদ্দা,দাম্মাম,মক্কা,মদিনা,হাইয়েল ও আর’আর শহরে বসবাসরত কিছু অসাধু প্রবাসী বাংলাদেশী ক্ষুদ্র ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সৌদি আরবের এসব শহরের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবা আসক্ত কিশোর ও তরুণদের মাঝে তা অবাধে বিক্রি করছে।

এর মধ্যে সৌদি আরবের আর’আর (উত্তরাঞ্চল ) শহরের মুনছুরিয়া,নাছিরিয়া,ফয়ছালিয়া ও মুছাদিয়া নামক এসব এলাকায় ‘বাবা ট্যাবলেট’ ওরফে ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য করছেন কুমিল্লা জেলার রাশেদ নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক।

রাশেদ আর’আর শহরে মাদকসেবিদের কাছে ইয়াবার গডফাদার হিসেবে পরিচিত। রাশেদের একাধিক সিন্ডিকেটের আওতায় তার শ্বশুরসহ একাধিক সেলসম্যান রাতদিন মাদকসেবীদের কাছে ইয়াবা পৌঁছানোর কাজে ব্যস্ত থাকছেন।জানাযায়,রাশেদ ও তার মাদক সিন্ডিকেটের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণেই চলছে সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চল ( আর’আর) শহরের ইয়াবাবাজার।প্রতি পিছ ইয়াবার মূল্য ৫০ রিয়াল যা বাংলাদেশী মুদ্রামান প্রায় ১১০০ টাকা দরে আসক্তদের মাঝে দেদারছে বিক্রি করছেন মাদক সম্রাট রাশেদ।

লাল ও হাল্কা কমলা রঙের ‘মরণ নেশা’ সুগন্ধী ক্যান্ডি তথা ইয়াবার ব্যাপক বানিজ্য বিস্তার লাভ করায় সৌদি আরবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তির নতুন করে বারোটা বাজতে এখন খুব একটা বাকি নেই। যেভাবে হু হু করে বাড়ছে আসক্ত প্রবাসী কিশোর, তরুণ ও ব্যবসায়ীর সংখ্যা। এতে করে এদেশে জনশক্তি রপ্তানিতেও এর বিরাট প্রভাব পড়বে তা নিঃসন্দেহে। অনেক আগে থেকেই যেখানে বাংলাদেশিদের ব্যাপক দুর্নাম, অনৈতিক সম্পর্ক, অপরাধমূলক অপকর্মের পাশাপাশি এখন নতুন করে ইয়াবার রমরমা বাণিজ্য যুক্ত হওয়ায় রীতিমত উদ্বিগ্ন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃপক্ষসহ প্রবাসী কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ।

এ ব্যাপারে সৌদি আরবের আর’আর শহরে বসবাসরত সচেতন প্রবাসীরা বলেন,দালালরা অতিরিক্ত টাকা নিয়ে সাধারণ মানুষদের এদেশে এনে একদিকে যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে অন্যদিকে ইয়াবা নামক বিষ দিয়ে যুব সমাজকে ধ্বংস করছে। অনতিবিলম্বে বাংলাদেশ সরকার এবং দূতাবাস এ ব্যাপারে জরুরী পদক্ষেপ নিয়ে ইয়াবার সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের রুখতে হবে। পাশাপাশি তাদেরকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

এ বিষয়ে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ইয়াবা হল একটি মারাত্মক নেশা জাতীয় দ্রব্য। এটা আনন্দ কিংবা শখ করেও যদি কেউ এক দুইবার সেবন করে পরবর্তীতে তার পক্ষে সেটা বর্জন করা কিছুতেই সম্ভব হয়ে উঠে না।

বাংলাদেশ থেকে যারা ইয়াবাগুলো এদেশে আনছে তারা একদিকে যেমন প্রবাসীদের কষ্টার্জিত টাকা লোপাট করছে অন্যদিকে তাদেরকে মরণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিচ্ছে। কেননা, দীর্ঘমেয়াদে ইয়াবা সেবনের ফলে একটা সময় তারা শারীরিক ও মানুষিকভাবে অক্ষম হয়ে যাবে। বরং তখন উল্টো তাদেরকে আবার চিকিৎসা দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আরেকটা বিষয় হল, সৌদি সরকার কিন্তু এখনো ইয়াবা নামক মাদকটির সাথে পরিচিত হয়নি। যখন তারা জানতে পারবে বাংলাদেশি প্রবাসীরা এসব ইয়াবা স্বদেশ থেকে এদেশে এনে বিক্রি কিংবা সেবন করছে, তখন আমাদের বাংলাদেশের যে একটা ভাবমূর্তি আছে তা ক্ষুন্ন হয়ে যাবে। পাশাপাশি এদেশে আমাদের একমাত্র বাজার যেটা খোলা আছে প্রতিমাসে হাজার হাজার শ্রমিক সৌদি আরবে আসে সেটাও বন্ধ হয়ে যাবে। এতে করে বাংলাদেশ সরকার প্রচুর রেমিটেন্স আয় থেকে বঞ্চিত হবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ভয়ংকর এই ইয়াবা রোধে বাংলাদেশ সরকার, দূতাবাস এবং কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ সকলেই একযোগে কাজ করার আহ্বান করেন। তিনি বলেন, এটা যদি এখনই আমরা বন্ধ না করতে পারি তবে সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য বিরাট সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা