September 16, 2021, 3:59 pm

রহস্যজনক কারনে এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে ফরিদপুরের বির্তকিত টেন্ডার সিদ্দিক

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক সময়ে ছিলো বিএনপির মন্ত্রী কামাল ইউসুফের দক্ষিনহস্থ রাজনীতির পট পরিবর্তনে হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগের মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রনের প্রধান সিপাহসালার। মোশাররফ হোসেনের পতনের পরও বহাল তবিয়তে রাজার হালে রয়েছে সিদ্দিক। এখনও টেন্ডারবাজী তারই নিয়ন্ত্রনে। ফরিদপুরে শুদ্ধি অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া সকল আসামী সিআইডির কাছে জবানবন্দিতে বলেছেন,তারা টেন্ডার ভাগ করেছে সিদ্দিকের নেতৃত্বে । অথচ সেই সিদ্দিক এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে। এ নিয়ে সহসশ্র প্রশ্ন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মুখে। ফরিদপুরের বিতর্কিত ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমানকে নিয়ে এখন তুমুল আলোচনা ফরিদপুরে। আওয়ামী লীগের তৃনমূল কর্মীদের মনে প্রশ্ন সিদ্দিকের খুটির জোর কোথায়? কি ভাবে সিদ্দিক বিএনপি,আওয়ামী লীগ সব আমলেই ফরিদপুরে রাজার মত বিচরন করেন। সব আমলে একাই নিয়ন্ত্রন করেন ফরিদপুরের সব দপ্তরের সব টেন্ডার বানিজ্য,হাট ঘাটের ইজারা এবং সিএন্ডবি ঘাটের নৌবন্দর। সব আমলেই সিদ্দিক থেকে যান ধরা ছোয়ার বাইরে।

ফরিদপুর শহরের ষ্টেশন রোডের বিএনপি ঘরানার ব্যবাসায়ী মরহুম আলাউদ্দিনন মিয়ার ছেলে সিদ্দিক বিয়েও করেছেন বিএনপি ঘরানার আরেক ব্যবসায়ীর মেয়েকে। ব্যবসায়ী সিদ্দিকের উত্থান ঘটে ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে। সে সময়ে ফরিদপুরে রাজনৈতিক ক্ষমতার একচ্ছত্র মালিক ছিলেন বিএনপি সরকারের মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। সিদ্দিক কামাল ইউসূফকে নির্বাচনী খরচ জুগিয়ে রাতারাতি কামাল ইউসুফের ঘনিষ্টজন হয়ে ওঠেন। বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের ডিঙ্গিয়ে ফরিদপুরের এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরের এক চেটিয়ে টেন্ডার নিয়ন্ত্রন শুরু করে সিদ্দিক। সে সময়ে দেখা গেছে বিএনপির ত্যাগী নেতারাও একটি ঠিকাদারী কাজের জন্য সিদ্দিকের বৈঠক খানায় দিনের পর দিন ধর্না দিয়েছে। টেন্ডার বানিজ্য বাদেও সিএন্ডবি ঘাটের নৌবন্দর নামমাত্র মুলে ইজারা নেওয়া,এবং ফরিদপুরের সবচে বড় গরুরর হাট সামান্যমুলে ইজারা নিয়েছে এই সিদ্দিক।

ফরিদপুর শহরের পূর্বাঞ্চল এলাকায় সাধারণ দরিদ্র মানুষের শত শত একর জমি দখল করে গড়ে তুলেছেন ইটের ভাটা,পাথরের ব্যবস্যা। বিএনপি দলীয় মন্ত্রীর কাছের লোক হওয়ার কারনে সিদ্দিকের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায়নি সাধারণ মানুষ।
বিএনপি ক্ষমতা থেকে বিদায় নেওয়ার পর আওয়ামী লীগের আমলে ফরিদপুরের মহারাজা হয়ে ওঠেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তার আগে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ নেতা আশারফউজ্জামান মজনুর আমলেও ভিড়ে ছিলো আওয়ামী লীগে। ফরিদপুরের পুরানো আওয়ামী লীগ নেতাদের রাজনীতি থেকে বিদায় জানিয়ে রাজনীতির ক্ষমতাধর নেতা হয়ে ওঠেন খন্দকার মোশাররফ হোসেনের ভাই খন্দকার বাবর,এবং খোকন রাজাকারের দুই ভাগনে রুবেল ও বরকত। এই তিন তারকা ফরিদপুরে নারী নির্যাতন,পরীমনি আমাদানী থেকে হেন অপরাধ নেই যা করেনি। এদের সঙ্গে হঠাৎ করে যুক্তহন বিএনপি ঘরানার বিতর্কিত ব্যবসায়ী সিদ্দিকুর রহমান। ফরিদপুরের এলজিইডি বাদে সব দপ্তরের ঠিকাদারী,টেপাখোলা গরুরর হাট,সিএন্ডবি ঘাটের নিয়ন্ত্রন সব কিছুই নিয়ন্ত্রন শুরু করে সিদ্দিক। সিদ্দিক হয়ে ওঠে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সবচে ঘনিষ্ঠ লোক,তার ভাই বাবর খন্দকারের কলিজার টুকরা।

এ সময়ে সিদ্দিকের জমি দখল,ঘাট নিয়ন্ত্রন প্রতিবাদ করায় বিপদ নেমে আসে ডিগ্রীরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিন্টুর ওপর। পচাত্তরের পরে জীবনবাজী রেখে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করা মিন্টু এবং তার পিতাকে চরমভাবে পুলিশের হাতে নাজেহাল হতে হয়। কারাগারে যেতে হয় আদর্শবান আওয়ামী লীগ কর্মী মিন্টেেুক। খন্দকার মোশাররফ হোসেন লুটেরা সিদ্দিকের পক্ষ নেন। গায়ের জোরে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সমর্থনে ফরিদপুর চেম্বরের সভাপতি হন সিদ্দিক। ভয়ে চুপসে যেতে বাধ্যহন অন্যান্য ব্যবসায়ীরা। গত বছর প্রবল পুলিশী এ্যাকশনে খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সাম্রাজ্যর পতন হলে গ্রেপ্তারন হন শহর আওয়ামী লীগ নেতা লুটেরা লেভী খন্দকার এবং লুটেরা রুবেল ও বরকত। ফরিদপুর ছাড়েন বাবর খন্দকার । মানিলন্ডারিং মামলার রিমান্ডে রুবেল বরকত স্বীকারোক্তি দেয়,ফরিদপুরের এলজিইডিবাদে সব দপ্তরের টেন্ডারের নিয়ন্ত্রক ছিলেন সিদ্দিক। খন্দকার মোশাররফ ফরিদপুর ছাড়লে আওয়ামী লীগের পুরানো নেতা বিপুল ঘোষ,শামীম হক,ভোলা মাষ্টার,সৈয়দ মাসুদ হোসেন,আইভি মাসুদ,ফারুক হোসেন,মনিরুল হাসান মিঠুরা রাজনীতির মাঠের নিয়ন্ত্রন নেয়। দলের ত্যাগী নেতারা আশায় বুকবাধে এবার হয় তো লুটেরা মুক্ত হবে ফরিদপুরের আওয়ামী লীগ।

দুর্ভাগ্য তৃনমূলের নেতাকর্মীদের মাস দুয়েক যেতে না যেতে আবার বানিজ্যর নিয়ন্ত্রন নিতে ফরিদপুরে সদর্পে ফিরে আসেন সিদ্দিক। রাতের আধারের যোগাযোগে সিদ্দিকের বিষয়ে নীরব হয়ে যায় পুরানো নেতারা। সিদ্দিকের ব্যাপারে রহস্য জনক নীরবতা দেখা যায় পুলিশের মাঝে। এমনকি মানি লন্ডারিং মামলায় কপর্দকহীন ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুর রহমান জাহিদের ছেলে ডেভিড আসামী হলেও স্বীকারোক্তিতে নাম আসা সত্বেও মামলার আসামী হয়নি বিতর্কিত ব্যবসায়ী সিদ্দিক। ফরিদপুরে এখন আলোচনার বিষয় হয়ে দাড়িঁয়েছে কি এমন জাদু আছে সিদ্দিকের ভান্ডারে.একই সঙ্গে জিয়া ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারন করে,একই ভাবে মোশাররফ যুগের লুটেরা এবং বর্তমান সময়ের ত্যাগী নেতার দাবীদারদের কাছেও সমানভাবে প্রিয় সিদ্দিক। ফরিদপুরের সব যুগের বােিনিজ্যর নিয়ন্ত্রক সিদ্দিকের সদর্প চলাফেরা,রাজত্ব ফিরে পাওয়া সব মিলে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে ফরিদপুরের প্রশাসন থেকে ত্যাগী নেতারাও। ডিগ্রীর চর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা মিন্টু বলেন, আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতারা না খেয়ে মরে অন্য দিকে বিএনপি থেকে এনে সিদ্দিককে টাকার পাহাড় গড়ে দেয়া আমাদের দলের নেতারাই। তিনি বলেন,সিদ্দিকের পরিবার এলাকার মানুষের জমি দখল করেছে,সে কারনে ফরিদপুরের পুলিশ তার ভাইকে গ্রেপ্তারও করেছিলো। মামলা হয়েছিলো সিদ্দিকের নামেও। কিন্ত রহস্যজনক কারনে এখনো সিদ্দিক ধরা ছোয়ার বাইরে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা