August 2, 2021, 8:58 pm

গোবিন্দগঞ্জে ‘বালু উত্তোলন-বিপণন’ কথা রাখেনি কেউ!

শেখ মামুনন হাসান গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি:গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া, কাটাখালী, বাঙ্গালি নদী-সহ সমতল ভূমি থেকে বালু উত্তোলন আজও বন্ধ হয়নি। জেলা প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলেও উপজেলা প্রশাসনের কেউই কথা রাখেনি। সময়ের স্রোতে চেয়ারে বসেছে নতুন অফিসার। পক্ষান্তরে দু’একজন বালু দস্যুর স্থানে উপজেলায় এখন শতাধিক বালু দস্যুর সৃষ্টি হয়েছে। দেশে মহামারির এ দুর্যোগময় সময়েও সবকিছু থমকে দাঁড়ালেও থামেনি বালু উত্তোলন ও বিপণন।

উপজেলায় বালু দস্যুদের বালু উত্তোলনে সৃষ্ট গভীর খাদে পড়ে প্রায় পাঁচজনকে দিতে হয়েছে প্রাণ। সম্প্রতি উত্তর ছয়ঘড়িয়া ঘাটে শুকনো নদীতে এমন গর্তে পড়ে প্রাণ দিয়েছে নদীপাড়ের এক বৃদ্ধা। আর গতকাল (১৬ জুলাই) মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী তানিয়া প্রাণ হারালেন পৌরশহরের খলসী চাঁদপুর এলাকার করতোয়ায় সৃষ্ট গর্তে।
উপজেলার বালু দস্যুদের সাথে উপজেলা প্রশাসনের নীরবতায় এমন করে প্রাণ হারাতে থাকবে কিশোরী থেকে বয়ো-বৃদ্ধরা। দেশে আইন আছে, আছে সচেতন মহল। তবে কাদের দায় কতটা।

শুরুতেই বলা যাক উপজেলাবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজের কথা। বিগত সাড়ে তিন বছর ধরে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে গোবিন্দগঞ্জ নাগরিক কমিটি। লিফটেল বিতরণ, একাধিক মানববন্ধন, নদী পাড়ের বাসিন্দাদের নিয়ে উঠান বৈঠক সবই করেছে এই নাগরিক কমিটি।

উপজেলা প্রশাসনের ইউএনও, এসিল্যান্ড, থানার ওসি থেকে শুরু করে জেলার কর্মকর্তাদের কাছে কাগজে কলমে এই নাগরিক সমাজ ধর্না দিয়েছেন বহুবার।

সবাই বলেছিল, আমরা বিষয়টি দেখছি, অবৈধ হলে বন্ধ করে দেয়া হবে সব। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। আমলাতান্ত্রিক কার্যাভারে উপজেলা প্রশাসন খুঁজে পাননা এসব বালু স্পট ও জড়িতদের। তবে তাদের অর্জনও কম নয়। শুধু বালুর সাথে জড়িতদের অসংখ্য পয়েন্টে ও ভেঙ্গেছেন মেশিনসহ প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি। লাখ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করেছেন, যা অচিরেই পেরুবে কোটির ঘরও। পাশাপাশি স্থানীয় তহশিলদাদের দুটি মামলায় অর্ধশত চিহ্নিত বালু দস্যুদের নাম ঠিকানা উল্লেখ করে নিয়মিত মামলা হলেও; থানা প্রশাসন এসব আসামিদের খুঁজে পাচ্ছেন না।

দৃশ্যমান নন আসামীরা। কিন্তু উপজেলার সবগুলো সড়কে দৃশ্যমান বালু পরিবহণে ব্যস্ত বৈধ অবৈধ গাড়িগুলো। এই গোবিন্দগঞ্জে রয়েছে হাইওয়ে থানা, রয়েছে ট্রাফিক টিআইদের নেতৃত্বে একাধিক অফিসার। তাদের সামনে দিয়েই নম্বরবিহীন গাড়িগুলো বালু উড়িয়ে ছুটে চলছে গন্তব্যে। অনেক সময় খোদ থানা চারমাথায় এসব ড্রাম ট্রাক যানজট সৃষ্টি করছে। মহাসড়কে অন্য জেলার একটি মালবাহী ট্রাককে থামিয়ে কাগজপত্র তদারকি করলেও বালুবহনের এসব গাড়িকে তারা দেখতে পাচ্ছেন না।
কথা ছিল সব অবৈধ যানই তারা দেখভাল করবেন। উপজেলার হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ কেউই সে কথা রাখেননি।

এতকিছু জানার পর হয়তো অনেকই বলবেন সমাজের দর্পণদের কী অবস্থা। বলতে গেলে গোবিন্দগঞ্জে শতাধিক প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ার শত শত ব্যক্তি উপজেলার বালু উত্তোলন বন্ধে নানা উপকারী-অপকারী দিক তুলে ধরেছেন বহুবার। টিভিতে প্রচার হয়েছে সংবাদ আর অসংখ্য খবর ছাপা হয়েছে পত্রিকায়। তারপরেও অনেকেই অনেক সময় কথা রাখতে পারেননি।

উপজেলার বালু উত্তোলন-বিপণন ও পরিবহনে জড়িতরা অনেক শক্তিশালী। তাদের হাতে রয়েছে কাঁচা আর কালো টাকা। এই টাকার গন্ধ তারা সবাইকে শুকিয়েছেন আর অন্ধকারে বিলিয়েছেন। এমন কথাও বলেন তারা।

সবশেষে মনটা বলতে চায়…। উপজেলায় সর্বজনের দাবি নদী ও সমতল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ হোক। এই একটি মাত্র অবৈধ ব্যবসা বন্ধে করতে কি এ উপজেলায় নতুন কোনো আমলাতান্ত্রিক পদ সৃষ্টির প্রয়োজন। এমন প্রশ্ন দানাবাঁধার আগে প্রয়োজন এ উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিপণন বন্ধ করা।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা