June 12, 2021, 6:43 pm

মতলব দক্ষিণে ভাতাভোগীদের কাছ থেকে ভাতা নিলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী!

মতলব প্রতিনিধি:মতলব দক্ষিণ উপজেলার উপাদী উত্তর ইউনিয়নে ভাতাভোগীদের কাছ থেকে ভাতার নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় নতুন ভাতাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত লোকজনের কাছ থেকে এই টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে জানা যায়, ইউনিয়নের দক্ষিণ ডিঙ্গা ভাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বিধবা ভাতা পাওয়ার জন্য নির্বাচিত হন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাতার প্রথম ছয় মাসের তিন হাজার উত্তোলন করলে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহ আলম খান ও তার সহযোগী বিল্লাল হোসেন জোরপূর্বক ফাতেমা বেগমের কাছ থেকে এক হাজার টাকা নিয়ে নেন।
ফাতেমা বেগম জানান, বিধবা ভাতা বই করে দেওয়ার জন্য শাহ আলম খান এর আগে এক হাজার টাকা নিয়েছিলেন। এছাড়াও তিনি এলাকার অনেক মানুষের কাছ থেকে ভাতা বই করার জন্য এবং ভাতার টাকা পাওয়ার পরে সকলের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন।
ফাতেমা বেগমের এই দাবির সত্যতা জানতে ওই এলাকার বেশ কয়েকজন ভাতাভোগীর সাথে কথা বলে টাকা আদায়ের বিষয়টি সত্যতা পাওয়া যায়। ভাতা বই করে দেওয়ার নামে এবং ভাতার টাকা পাওয়ার পর টাকা আদায়ের বিষয়ে দক্ষিন ডিঙ্গা ভাঙ্গা গ্রামের মৃত চান মিয়ার স্ত্রী মমতাজ বেগম, মৃত দুলাল মিস্ত্রি নিলুফা বেগম জানান, বই করার জন্য এবং টাকা পাওয়ার পর শাহ আলম তাদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে নিয়েছে। যদি আমরা টাকা না দেই তাহলে তিনি আমাদের বই বাতিল করে দিবে বলে হুমকিও দেন। চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহ আলম খান ওই এলাকার মৃত দেলোয়ার মিয়াজির প্রতিবন্ধী ছেলে বিল্লাল এর ভাতার কার্ড করে দেওয়ার জন্য তার মায়ের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করেন।
ভাতাভোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় বিষয়ে বিল্লাল হোসেন বলেন, অসহায় গরীব মানুষের উপকার করতে পারলে করবো। তাই বলে তাদের কাছ থেকে টাকা নিব? এটা সত্য নয়। যারা এ সকল মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করছে তাদের বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহ আলম খানের কাছে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে বলেন, যারা আমার নামে সকল কথা বলছে তার সত্যতা কখনোই পাওয়া যাবে না। প্রয়োজনে তারা লিখিত অভিযোগ দিক, এ সমস্ত টাকা আদায়ের সাথে আমি জড়িত নই। আমার ইমেজ ক্ষুণ্ন করার জন্যই এমন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ মাঈন উদ্দিনের কাছে টাকা দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এই নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল্লাহ প্রধানের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় সরকার মতলব দক্ষিণ উপজেলা শতভাগ বিধবা, বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধীদের ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করেছে। প্রার্থীদের আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে এই ভাতা প্রদান করা হচ্ছে এখানে কোন অর্থনৈতিক লেনদেন এর সুযোগ নেই।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা