June 12, 2021, 5:07 pm

পলাশবাড়ীতে বর্ষা মৌসুমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি:গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বর্ষা মৌসুমে উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের শিশুদহ এলাকার মর্চনদী থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। আর এসব বালু উঁচু বিক্রির জন্য ঢিবি করে রাখা হচ্ছে। উত্তোলনকৃত এ বালুগুলো ট্রাক্টর ও কাকড়া দিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে করে কাঁচা রাস্তা-ঘাটগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ ব্যাপারে এলাকাবাসি উপজেলা প্রশাসনসহ কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরীভাবে হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার নি¤œাঞ্চল কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের করতোয়া নদীর ঋষিঘাটসহ পাশাপাশি বেশ কয়েকটি পয়েন্ট থেকে একটি মহল শ্যালো মেশিন দিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলন করে আসছে। মাঝে-মধ্যে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসন অভিযান চালালে দুই-একদিন বালু উত্তোলন বন্ধ রাখলেও আবারো পূর্বের ন্যায় শুরু হয় বালু উত্তোলন।
চলতি বর্ষা মৌসুমে প্রশাসন জরুরী হস্তক্ষেপ করার এখনই উপযুক্ত সময়। সক্রিয় বালু খেকোরা এলাকার সুবিধাবাদী কতিপয় রাজনৈতিক ঘেঁষা নেতাকর্মী, ইউপি সদস্য ও টাউট বাটপারদের মোটা অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ প্রক্রিয়ায় বাধাহীনভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে করে কোটি টাকায় নির্মিত বাঁধটি ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে চলতি বর্ষা মৌসুমে পানির স্রোতের তোড়ে বাঁধ ভেঙ্গে গিয়ে হোসেনপুর ইউপিসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।
এব্যাপারে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডি মাহবুবুল আলমের সাথে মোবাইল ফোনে এ বিষয়ে কথা হলে বাঁধ কেটে যারা বালু উত্তোলন করছেন তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের সাকোয়া ব্রীজ নামক স্থানে ব্রীজের উভয়পার্শ্বে বালু খেকো মোজা মিয়াসহ তার ছেলেরা দীর্ঘদিন থেকে রাত দিন বালু উত্তোলন করে আসছে। বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান ও দায়িত্বশীল কর্তাব্যক্তিসহ সবার নজরে এলেও তাদের বিরুদ্ধে এখনো কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি। সাকোয়া ব্রীজে প্রতি রাতেই নৈশকালীন পুলিশ টহল রতসহ প্রহরায় নিয়োজিত থাকে। তদুপরি সেখানে রীতিমত প্রকাশ্যে মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন যেন অপ্রতিরোধ্য হয়ে পড়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা