June 12, 2021, 5:40 pm

রূপগঞ্জে বেড়েছে তালের শাঁস বিক্রির কদর

: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তালের শাঁস বিক্রির কদর বেড়েছে। অনেক ফল যখন ফরমালিনের বিষে নীল, অন্যদিকে তালের শাঁসে ফরমালিনের ঝুঁকি না থাকায় দাম কিছটা বেশী হলেও নারী-পুরুষসহ শিশুরাও তালের শাঁস আগ্রহ করে কিনে খাচ্ছেন। ভ্যাপসা গরমে শরীরের পানিশূণ্যতা দূর করতে বেশ ভূমিকা রাখে এই ফলটি। ক্লান্ত পরিশ্রমী মানুষগুলো তালের শাঁসে প্রশান্তি খুঁজে পাচ্ছেন। প্রাণ সতেজ করতে তালের রসালো বিচির জুরি মেলা ভার। গ্রাম্য ভাষায় এটি তালের বিচি, তালকুর বা আশারি নামে পরিচিত। গ্রাম ও শহরের বেশিরভাগ মানুষের কাছে তালের শাঁসের কদর বেশি। কারণ এটা মানুষের শরীরের পুষ্টি চাহিদা মেটাতে সহায়তা করে। এতে রয়েছে ভিটামিন এ,বি ও সি,জিংক পটাশিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়ামসহ খনিজ উপাদান। এর সঙ্গে রয়েছে অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এ ফলে ৯২ দশমিক ৩ শতাংশ জলীয় অংশ, ক্যালারি ২৯, শর্করা ৬ গ্রাম, ক্যালমিয়াম ৪৩ মিলিগ্রাম,খনিজ শূণ্য দশমিক ৫মিলিগ্রাম। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা তাল গাছ থেকে অপরিপক্ক তাল ফল পাইকারী কিনে এনে বিভিন্ন আড়তে বিক্রি করে দেয়। পরে আড়ত থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা কিনে রাস্তার পাশে, অলিগতিতে বিক্রি করে। আবার কেউ ভ্যানযোগেও বিক্রি করে। তবে নরম অবস্থায় তাল শাঁসের দাম অনেক বেশী। কিন্তু দিন যতই যেতে থাকে এই তাল শাঁস ততই শক্ত হতে থাকে। তখন শাঁসের দাম কমতে থাকে এবং এক সময় তাল পরিপক্ক হয়ে গেলে তখন আর এই শাঁস খাওয়া সম্ভব হয় না। বৃহস্পতিবার উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, রাস্তাঘাট, ফুটপাতসহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে দেখা গেছে আবহাওয়ার ঠান্ডা থাকলে তালের শাঁসের চাহিদা ব্যাপক। সুস্বাদু এই ফলটির বিক্রেতারা ধাঁরালো দা দিয়ে তাল কেটে তালের শাঁস বের করছে আর ক্রেতারাও অনেক আগ্রহ নিয়ে এই ফলের শাঁস কিনছেন।ক্রেতারা বলছেন, গত বছরের থেকে এবার তালের শাঁসের দাম অনেকটা বেশি। এরপরও মৌসুমী ও সুস্বাদু ফল হওয়ায় এর প্রতি আগ্রহের কমতি নেই তাদের। তালের চাহিদা থাকায় বিচি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে। বড় তাল প্রতি বিচি শাঁস ১০টাকা করে তিন বিচি ৩০টাকায়। আবার ছোট তালের বিচি ৮টাকা। ক্রেতারা মূল্যের দিকে না তাকিয়ে স্বাচ্ছন্দে কিনে নিচ্ছেন। উপজেলার ভূলতা তাঁত বাজারের সামনে এক তালের শাঁস বিক্রেতার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, গাউছিয়া আড়ত থেকে তাল কিনে ভ্যানে করে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করি। গত ১৫দিন ধরে বিক্রি করছি। দৈনিক ২ হাজার থেকে ৩হাজার টাকা বিক্রি করতে পারি। ২হাজার টাকার তালের শাঁস বিক্রি করলে এতে লাভ হয় এক হাজার টাকা।গোলাকান্দাইল চৌরাস্তায় তালের শাঁস বিক্রেতা আনোয়ারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, গরম বেশী থাকলে বেশি বিক্রি হয়। তাল কেটে অবসর পাওয়া যায় না। এখনও ভালোই। তবে বেচা-কেনা যাই হোক। তালের বিচি খেয়ে মানুষ পানির পিপাসা মিটায় এইটাই আমার কাছে অনেক ভাল লাগে। সাংবাদিক তানজিলা তাল বিক্রেতা আনোয়ারকে প্রশ্ন করেন,তাল কাটতে আপনার কি পরিশ্রম হয় না? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন,যদিও তাল কাটতে পরিশ্রম হয় বেশি তবে এতে লাভও হয় বেশি। তাই পরিশ্রম হলেও তাল বিক্রি করি আনন্দে। যদি তালের শাঁস ১২ মাস থাকতো তবে বারো মাসই বিক্রি করতাম। ৩৫ বছর বয়সী ইভা নামে এক ক্রেতা বলেন, বড় তাল প্রতি বিচি শাঁস ১০টাকা করে তিন বিচি তালের শাঁস কিনছি ৩০টাকায়। ইভা নামের ক্রেতাকে সাংবাদিক তানজিলা প্রশ্ন করেন তাল খেতে ভালো লাগে না তালের শাঁস খেতে ভালো লাগে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার কাছে বেশি ভালো লাগে তালের শাঁস । কিন্তু তাল গাছগুলো এখন আগের মাতো দেখা যায় না। তাল গাছে বাবুই পাখির বাসা কতোই না ভালো লাগতো। এখনতো তাল গাছগুলো বিলুপ্তির পথে। তিনি আরো বলেন, প্রতিটি মানুষ যদি একটা করে তাল গাছ লাগাতেন তাহলে অনেক ভালো হতো।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা