June 12, 2021, 5:12 pm

কুমিল্লা দক্ষিণঞ্চলে প্রচন্ড গরমে ব্যাপক হারে বাড়ছে ডাবের চাহিদা

মোঃ রবিউল হোসাইন সবুজঃ কুমিল্লায় দক্ষিণ অঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় প্রচন্ড গরমে ও পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ব্যাপক হারে বাড়ছে ডাবের পানির চাহিদা । সচেতন মানুষ গরম বেড়ে যাওয়াতে পানির তৃষ্ণা নিবারণের জন্য বেছে নিচ্ছেন ডাবের পানি। তৃষ্ণা পিপাসুদের মতে, পৃথিবীতে যত পানীয় পাওয়া যায় তার মধ্যে ডাবের পানিই সবচেয়ে নিরাপদ। তাই অনেকে কোমল পানীয়র বদলেও তারা বেছে নেন ডাবের পানি। ডাব বিক্রেতা গ্রামে-গ্রামে ঘুরে-ঘুরে নারকেল গাছ মালিকের কাছ থেকে ডাব ক্রয় করেন। কখনো গাছ থেকে নিজেরা আবার কখনো বা শ্রমিক দিয়ে ডাব পাড়ানো হয়। এর পর ভ্যানে করে বিভিন্ন বাজারে নিয়ে বিক্রি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার সাথে কিছু মানুষ জড়িত। বর্তমানে অনেকেই এখন বেছে নিচ্ছেন ডাব বিক্রির পেশা। ডাবের উপর নির্ভর করে সংসার চলছে অনেকেরই। জেলার বিভিন্ন এলাকায় কিছু দূর পরপরই চোখে পড়ে ভ্যানে করে ডাব বিক্রির দৃশ্য। আবার কোথায়ও ভাসমান ডাবের দোকানে দেখা গেছে, ক্রেতার ডাব পছন্দ এবং দরদাম ঠিক হলে বিক্রেতা দা দিয়ে একপাশে কেটে ফুটো করে দেন। এই প্রচন্ড গরমে যাঁরা রোজা আছে তারা তাদের পছন্দ মতো ডাব ক্রয় করে বাড়িতে নিয়ে যায়। আর যারা বাসাবাড়িতে সমস্যা তারা বিক্রেতার কাছে থেকে ডাবের মুখ কেটে ছোট পাইপ দিয়ে বা মুখ লাগিয়ে ক্রেতা পানি পান করেন। আকার ভেদে একেকটি ডাবের দাম ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত হয়। কুমিল্লা দক্ষিণঞ্চলে বিভিন্ন জায়গায় ডাব পাওয়া যায়। জেলার বাস স্টেন, হাসপাতালসহ লোকজনের আনাগোনা যেখানে বেশি স্থানে ডাব বিক্রি হচ্ছে।

বিভিন্ন গবেষনায় জানাযায়,‘ডাবের পানি প্রাকৃতিক পানীয়। এতে প্রচুর পটাশিয়াম আছে। ১০০ গ্রাম ডাবের পানিতে প্রায় ১৮০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। ডাবের পানি খাওয়ার পর পটাশিয়ামের কারণে শরীরে একটা শীতল অনুভুতি আসে। ডাবে ক্যালরি কম থাকে। তাই ডাব খেলে অনেক মোটা মানুষেরও কোন সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা নেই। কার্বোহাইড্রেডও তুলনায় কম থাকে। ক্যালসিয়াম ভালই থাকে। তা প্রায় ১৫ মিলিগ্রামের মত। ডাবে সোডিয়াম থাকে খুব কম।’

আরো জানাযায়, ‘অনেকের ধারণা, ডাব খেলে সর্দি বা কাশি হয়। কিন্তু এ ধারণা একেবারেই ভুল। কারণ, ডাবের সাথে সর্দি বা ভাইরাসের কোন সম্পর্ক নেই। গরমে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা যায়। ডায়রিয়া রোগে ডাবের পানি খুবই উপকারী। এটি শরীরের পানি শূন্যতা দূর করে। আমাদের ঘামের সঙ্গে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ফ্লোরাইড-অনেক কিছুই শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এগুলো পুরণ করার জন্য আমরা প্রতিদিন যদি একটা বা দুটো ডাব খেতে পারি তাহলে আমাদের শরীর বেশ ভাল থাকবে। সুতরাং ডাব শরীরের জন্য সব দিক থেকে ভাল। অন্য সব পানীয় থেকে ডাবের পানি নিরাপদ কিন্তু একটু ব্যায়বহুল পানীয়। দাম বেশি হওয়ায় অনেক মানুষ ডাব না খেয়ে অন্য পানীয় পান করেন। তারা মনে করেন, সফট ড্রিঙ্ক ১৫ টাকা করে হলে, একটা ডাবের টাকায় তিনটা থেকে চারটি সফট ড্রিঙ্ক খেতে পারবেন। তাই টাকা বাঁচাতে ডাব না খেয়ে তারা সফট ড্রিঙ্ক খেয়ে থাকেন। আর টাকা বেশি খরচ হলেও একটু সচেতন যারা তারা ডাব খান।’

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা