April 14, 2021, 8:45 am

গাইবান্ধার বড়দহ সেতুর টোল মওকুফের দাবিতে মানববন্ধন

শেখ মামুন হাসান, গাইবান্ধা :গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে নির্মাণ শেষে খুলে দেওয়া ২৫৩দশমিক ৫৬ মিটারের বড়দহ সেতুটি টোলের আওতায় আনায় তা মওকুফের দাবিতে মানববন্ধন পালন করেছে সেতুর উভয় পারের সর্বস্তরের এলাকাবাসী।
মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে পূর্ব ঘোষিত মানববন্ধনটি হাজার হাজার নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে ঘণ্টা তিনেক ব্যাপী পালিত হয়েছে। এসময় বক্তব্য রাখেন টোল মওকুফ ও মহাসড়ক বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন বিপ্লব, হরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বাদলসহ রাখালবুরুজ ও হরিরামপুর ইউনিয়নের অনেক নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, সেতুটিতে প্রতিদিন-রাত হাজার হাজার লোকজন পারাপারা হয়। উপজেলার রাখালবুরুজ, হরিরামপুর ও তালুককানুপুর ইউনিয়নের অনেককে ফসলি জমি চাষাবাদে প্রতিদিনই একাধিকবার নদীর এপার ওপার যাতায়াত করতে হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পারাপারের এখন একটিই সেতু। এলাকাবাসীর কৃষি পণ্য উপজেলা ও জেলাসহ দেশের অন্যান্য হাট-বাজারে নিতে সেতুটিকে ব্যবহার করতে হয়। সেতুতে টোল ব্যবস্থা কার্যকর হলে কৃষিপণ্য পরিবহন ও বিপণনে ব্যয় বাড়বে; শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় হেঁটে বা বাইসাইকেলযোগে যাতায়াতে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হবে ও তুলনামূলকভাবে অবহেলিত-গরীব এলাকাবাসীকে অর্থনৈতিকভাবে ভোগান্তিতে ফেলবে। তাই তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট আজকের এই মানববন্ধন থেকে টোল মওকুফের আকুল আবেদন জানান।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৭ সালে ১৪৮ মিটার দৈর্ঘ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। সেসময় তিনটি পিলার স্থাপনের মাথায় কাজটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ১১ বছর কাজটি বন্ধ থাকে। সর্বশেষ ২০০৭ সালে বর্তমান সরকারের শাসনামলে তিন ধাপে মোট ১৮ বছরে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।
নদী ভাঙ্গনের ফলে ২০০৭ সালে দ্বিতীয় দফায় নির্মাণ কাজের পূর্বের দৈর্ঘ্যের সাথে আরো ৯১ মিটার বাড়ানো হয়। সে দফায় একটিমাত্র ¯øাব স্থাপনের পর কাজটি আবারও থমকে যায়।
তৃতীয় দফায় ২০০৯ সালে বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় সেতুটির কাজ আবারো শুরু হয়। এ দফায় আবারও নদী ভাঙনের কারণে আবার সেতুটির দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি পেয়ে মোট ২৫৬ দশমিক ৫৬ মিটার করা হয়। ২০১৫সালে সেতুটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। বিগত ২০ আগস্ট ২০১৫ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটি উদ্বোধন করেন।
কিন্তু ২০১৫ সালে প্রণীত সেতুর নিতিমালা অনুযায়ী সেতুটির উপর সড়ক ও জনপথ বিভাগ কর্তৃক টোল আরোপিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেসময় এলাকাবাসীর অনুরূপ মানববন্ধনে টোল বন্ধ করে ১ নভেম্বর ২০১৭ সালে একটি পরিপত্র জারি করা হয়।
পুনরায় সেতুটিকে টোলের আওতায় আনায় বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী মানববন্ধনের মাধ্যমে সরকার ও সেতু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা