December 3, 2020, 8:06 am

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন, জাপানের নীরবতা

যুক্তরাষ্ট্র হচ্ছে জাপানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। বাণিজ্যের সম্পর্কে প্রথম অবস্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলেও প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত দিক থেকে জাপান তার এই মিত্রের সঙ্গে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে রক্ষা করে চলেছে খুবই কাছের সম্পর্ক। মার্কিন প্রশাসনে কোনো রকম রদবদল সেই সম্পর্কের ওপর কখনোই কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি। যদিও ঘনিষ্ঠতার মাত্রায় কিছুটা তারতম্য মাঝেমধ্যে দেখা গেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে কোনো রকম উদ্বেগ জাপান কখনো বোধ করেনি।

তবে এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে টানাপোড়েন থাকায় একধরনের অস্বস্তি বোধ জাপানের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। যদিও আগ বাড়িয়ে কোনো রকম মন্তব্য করা থেকে এখনো বিরত আছেন দেশটির নেতৃস্থানীয় রাজনীতিবিদেরা। কেননা, তাঁদের ভালোভাবে জানা আছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প বা জো বাইডেন—দুই প্রার্থীর মধ্যে যিনিই শেষ পর্যন্ত টিকে যান না কেন, জাপানকে তাঁদের দরকার হবে। আবার একইভাবে জাপানের দরকার হবে যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে রাখা। বিশেষ করে উভয় দেশের চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জটিল হয়ে আসায় একে অন্যের জন্য এই প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চাইতে বেশি। ফলে জাপানের ক্ষমতাসীন নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘিরে চলতে থাকা টানাপোড়েন নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটে বসে থাকাকেই  যুক্তিসংগত মনে করছেন।

তবে মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে সময়ক্ষেপণ হওয়ায় একধরনের অস্বস্তির হাওয়া এখন জাপানের নেতৃত্বের উদ্যানে বইতে শুরু করেছে। যার কিছুটা আভাস পাওয়া গেছে জাপানের মন্ত্রিসভার চিফ কেবিনেট সেক্রেটারি কাৎসুনোবু কাতোর সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে। কাতো বলেছেন, জাপানি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে জাপান সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব যে জাপান পালন করবে, সেই নিশ্চয়তা তিনি দিতে চাইছেন।

কাতোর এই বক্তব্যের ঠিক পরপর জাপান সরকার যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত জাপানি নাগরিকদের জন্য একগুচ্ছ সতর্কতা প্রচার করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নিজেদের রক্ষা করার সুপারিশ এরই মধ্যে জাপান তাদের নাগরিকদের জানিয়েছে। এসব নির্দেশিকার মধ্যে আছে রাত্রিকালে বিনোদনের জায়গাগুলো এড়িয়ে যাওয়া, ঘরে কিছুদিনের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যের মজুত রাখা এবং প্রতিবাদ-বিক্ষোভ অব্যাহত থাকা অবস্থায় কাজের জায়গায় যাওয়া নিরাপদ হবে কি না, তা ভালোভাবে যাচাই করে দেখা। ওয়াশিংটনের জাপানি দূতাবাস ছাড়াও নিউইয়র্ক, শিকাগো ও অন্যান্য শহরে জাপানের কনস্যুলেট জেনারেল এ পর্যন্ত প্রায় ১৫টি সতর্কতা জারি করেছে। কোনো কোনো সতর্কতায় নগরকেন্দ্র, পুলিশ স্টেশন ও সরকারি কার্যালয় এড়িয়ে চলার পরামর্শ জাপানের নাগরিকদের দেওয়া হয়েছে।

এর বাইরে জাপানের বিভিন্ন টেলিভিশন টক শোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে কিছু আলোচনা চললেও নেতৃস্থানীয় জাতীয় সংবাদপত্র খবর প্রচারের বাইরে বিশেষ কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করছে না। তাদের অবস্থানও অনেকটা সরকারের মতোই। অর্থাৎ, কে শেষ পর্যন্ত জয়ী হন, জাপানের তাতে খুব বেশি প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই, চুপ করে দূর থেকে দেখা ছাড়া।

এই বিভাগের আরও খবর