February 27, 2026, 10:48 pm

ঘন ঘন ভূমিকম্পে কাঁপছে দেশ, বাড়ছে আতঙ্ক

ডেস্ক রিপোর্টার ।

চলতি মাসে ঘন ঘন ভূমিকম্পে কেঁপে উঠছে বাংলাদেশ। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাত্র ২৭ দিনেই ১০ দফা ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। অধিকাংশ কম্পনের মাত্রা মৃদু থেকে মাঝারি হলেও জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ ও আতঙ্ক।

United States Geological Survey (ইউএসজিএস) ও European-Mediterranean Seismological Centre (ইএমএসসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারির প্রথম ২৭ দিনেই দেশে ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অন্তত ১০টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশে অনুভূত হয়।

সবশেষ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪ মিনিট ৫ সেকেন্ডে আরেকটি ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশ। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, ওই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৬। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের সিকিম অঞ্চল, যা ঢাকা থেকে প্রায় ৪৫৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে।

এর আগে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টা ৫৪ মিনিটে মিয়ানমার উৎপত্তিস্থল থেকে সৃষ্ট একটি ভূমিকম্প ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুভূত হয়।

চলতি মাসের প্রথম দিন ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় ৩ মাত্রার মৃদু ভূমিকম্প হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল সিলেট শহর থেকে পূর্ব-দক্ষিণ-পূর্বে।

৩ ফেব্রুয়ারি রাতে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশের বিভিন্ন এলাকা। ওই দুই কম্পনের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৫ দশমিক ৯ ও ৫ দশমিক ২; উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমার। একই দিন ভোরে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা কেন্দ্রিক ৪ দশমিক ১ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

এ ছাড়া ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি গোয়াইনঘাট উপজেলা এলাকায় ৩ দশমিক ৩ ও ৪ মাত্রার দুটি কম্পন অনুভূত হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি ছাতক উপজেলা কেন্দ্রিক ৪ দশমিক ১ মাত্রার ভূমিকম্পও রেকর্ড করা হয়।

ঘন ঘন ভূমিকম্পের ঘটনায় বিশেষজ্ঞরা বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদার করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, সাম্প্রতিক মৃদু কম্পনগুলো বড় ভূমিকম্পের পূর্বাভাস কি না তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে সতর্কতা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা