February 22, 2026, 10:43 pm

ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে ইউক্রেন কাঁপাল রাশিয়া

রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি খাতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত একজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোররাতে চালানো এই হামলায় কিয়েভ, ওডেসা ও খারকিভ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া রাতভর ৫০টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৯৭টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। এর অধিকাংশই প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, “মস্কো কূটনীতির চেয়ে হামলায় বেশি বিনিয়োগ করছে।” তিনি জানান, গত এক সপ্তাহেই রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর ১,৩০০টির বেশি ড্রোন, ১,৪০০টির বেশি গাইডেড বোমা এবং ৯৬টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। রোববারের হামলায় ডিনিপ্রো, কিরোভোহরাদ, মাইকোলাইভ, পোলতাভা ও সুমি অঞ্চলও লক্ষ্যবস্তু ছিল।

তিনি আরও বলেন, হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল জ্বালানি অবকাঠামো। তবে আবাসিক ভবন ও একটি রেললাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কিয়েভ অঞ্চলের সামরিক প্রশাসনের প্রধান মাইকোলা কালাশনিক জানান, রুশ বাহিনী কিয়েভ অঞ্চলের পাঁচটি জেলায় হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। একজন নিহত হয়েছেন।

পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভ অঞ্চলের গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ জানান, সেখানে অন্তত ১২টি বসতিতে হামলা হয়েছে এবং ছয়জন আহত হয়েছেন।

দক্ষিণাঞ্চলীয় ওডেসা অঞ্চলে জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলার ফলে আগুন ধরে যায় বলে জানান গভর্নর ওলেহ কিপার। তবে সেখানে কোনো হতাহত হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার অবস্থা পর্যালোচনা ও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এদিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ শহরে পৃথক এক ঘটনায় একটি দোকানের ভেতরে বিস্ফোরণে এক পুলিশ সদস্য নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন। পরে এক ইউক্রেনীয় নারীকে এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্ত চলছে।

প্রায় চার বছর আগে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে শীতকালে ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা প্রায় নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশ দেন।

শীতের তীব্রতায় তাপমাত্রা মাইনাস ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ, গরম পানি ও তাপ সরবরাহ ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। সম্প্রতি এক হামলায় কিয়েভে এক লাখ পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে এবং সাড়ে তিন হাজার অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে তাপ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির চেষ্টা চললেও এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। জেনেভা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে একাধিক দফা বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি। ভূখণ্ড ইস্যুতে দুই পক্ষের অবস্থান কঠোর থাকায় সমঝোতার পথ জটিল হয়ে রয়েছে ।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা