দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘সারাদেশে গ্যাস সংকট, রমজানে দুর্ভোগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, মগবাজারের চেয়ারম্যান গলির বাসিন্দা সামান্তা রহমান। গত প্রায় চার মাস ধরে তার বাসায় দিনের বেলা গ্যাস থাকে না। রাতে কিছুটা পাওয়া গেলেও চাপ থাকে না। শুধু তার বাসা নয়, পুরো এলাকাতেই এমন সমস্যা।
সামান্তা গতকাল সমকালকে বলেন, দিনে গ্যাস থাকেই না। এতদিন কোনো রকমে কাটানো গেলেও রোজায় অসহনীয় ভোগান্তিতে পড়েছি। ইফতার ও সাহরি দুই সময়ের খাবার তৈরি করতে হিমশিম খাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত আজকে (শুক্রবার) ইলেকট্রিক চুলা কিনেছি
শুধু মগবাজারই নয়, ঢাকাসহ দেশের একটা বড় অংশে পাইপলাইনের গ্যাসের প্রচণ্ড স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। দিনের বেশির ভাগ সময় চুলায় আগুন জ্বলছে না। কোথাও আবার অল্প আচে টিমটিম করে জ্বললেও রান্না করতে লাগছে দ্বিগুণ সময়। এই সংকটের মধ্যেই বিকল্প হিসেবে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। সেখানেও চলছে নৈরাজা। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০-৫০০ টাকা বেশি দিয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে । বনশ্রীর ব্লক ডি এলাকার বাসিন্দা নাহিদ হাসান জানান, মাঝ রাতে গ্যাস আসে। তখন সাহরির রান্না করতে হয়। এরপর সারাদিন চুলা জ্বলে না। ইফতারি বাইরে থেকে কিনে খেতে হচ্ছে।
রাজধানীর মিরপুর ১০-এর বি-ব্লকের বাসিন্দা মাকসুদুর রহমান বাচ্চু বলেন, গত চার মাস ধরে গ্যাস সংকটের মধ্যে আছি। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। রান্না নিয়ে খুব সমস্যা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে সিএনজি স্টেশন বন্ধ রাখার সময় তিন ঘণ্টা বাড়িয়েছে জ্বালানি বিভাগ পাশাপাশি নতুন সরকার সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি খাতে ১০০ দিন এবং পাঁচ বছরের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ গতকাল শুক্রবার রাতে সমকালকে বলেন, গ্যাসের স্বল্পচাপের মূল কারণ হলো সরবরাহ কম। শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ালে বিদ্যুতে কম পড়ে। বিদ্যুতে দিলে আবাসিকে টান পড়ে।
শাহনেওয়াজ পারভেজ বলেন, দেশে দৈনিক ৪০০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয় ২৬০ কোটি ঘনফুট। উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া গ্যাসের ঘাটতি মেটানোর আর কোনো উপায় নেই।
এলপিজির বাজারে নৈরাজ্য
পাইপলাইনে গ্যাস না থাকায় অনেক পরিবার এলপিজির দিকে ঝুঁকছে। সেখানেও চলছে বিশৃঙ্খলা। জানুয়ারি মাসজুড়ে সারাদেশে সিলিন্ডার গ্যাসের তীব্র সংকট ছিল। এখন তা খানিকটা কমলেও দামের নৈরাজ্য রয়ে গেছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা খালিদ হোসেন বলেন, গত মাসে তিন দিন ঘুরে ১২ কেজির সিলিন্ডার ২৪০০ টাকায় কিনতে হয়েছিল। গত সোমবার সেটি ১৮০০ টাকা নিয়েছে। যদিও সরকার নির্ধারিত দাম ১৩০৬ টাকা।
জানুয়ারিতে এক লাখ ৬৭ হাজার টন এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা করেছিল বিগত অন্তর্বর্তী সরকার। বাস্তবে এসেছে এক লাখ পাঁচ হাজার টন। ফেব্রুয়ারিতে এক লাখ ৮৪ হাজার টন আমদানির লক্ষ্য ধরা হয়েছে। তবে বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় রয়েছে।
সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় স্টেশনগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও চালকরা চাহিদার অর্ধেক গ্যাস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজধানীর মগবাজার, মহাখালী, রামপুরা ও আশপাশের এলাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোর বাইরে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। পাম্প মালিকরা জানান, কমপ্রেসার চালু রেখেও পর্যাপ্ত গ্যাস তোলা যাচ্ছে না। এতে একদিকে গ্রাহক ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে ফিলিং স্টেশনগুলো। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকরা। অনেক ক্ষেত্রেই সিলিন্ডার অর্ধেক খালি রেখেই ফিলিং স্টেশন ছাড়তে হচ্ছে। দিনের মধ্যে একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে হচ্ছে।
তেজগাঁও এলাকার অটোরিকশাচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাড়িয়েও পুরো গ্যাস পাওয়া যায় না। যেখানে ৩০০ টাকার গ্যাস নেওয়ার কথা, সেখানে ১০০-১২০ টাকার বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে আয় ব্যাপকভাবে কমে গেছে।
প্রথম আলো
‘ভাষাজ্ঞানে দুর্বল শিক্ষার্থীরা, পিছিয়ে শিক্ষা ও কর্মজীবনে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘিরে ভাষার মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের কথা নতুন করে উচ্চারিত হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষাতেই প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন না করেই এক শ্রেণি থেকে আরেক শ্রেণিতে উঠছে।
শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করার পরও ভাষাদক্ষতায় পিছিয়ে থাকে। তারা ভালো বাংলা লিখতে পারে না। আন্তর্জাতিক ভাষা ইংরেজিতেও দক্ষ হতে পারছে না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে এবং চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে।
সংকটটির শুরু প্রাথমিক শিক্ষা থেকে। প্রাথমিকে শিক্ষার্থীদের ভাষাদক্ষতা কেমন, তা উঠে এসেছিল ২০২৩ সালে সেভ দ্য চিলড্রেন ও গণসাক্ষরতা অভিযানের একটি গবেষণায়। কুড়িগ্রামের রাজারহাট ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৩২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ২ হাজার ২৯ শিক্ষার্থীর ওপর গবেষণা করা হয়। এতে উঠে আসে, শিক্ষার্থীরা যত ওপরের শ্রেণিতে উঠছে, ভাষাশিক্ষার ঘাটতিও তত বাড়ছে। রাজারহাটে প্রথম শ্রেণিতে বাংলা বিষয়ে ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থীর শিখন ঘাটতি ছিল। কিন্তু পঞ্চম শ্রেণিতে তা দাঁড়ায় প্রায় ৭০ শতাংশে। ইংরেজিতে অবস্থা আরও খারাপ। যেমন মাদারগঞ্জ উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির ইংরেজিতে প্রায় ৮২ শতাংশ শিক্ষার্থীর ঘাটতি ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাষাশিক্ষায় দুর্বলতা এখন বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; এটি প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিস্তৃত একটি কাঠামোগত সংকটে রূপ নিয়েছে। সচ্ছল পরিবারের শিশুরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাইরে বিভিন্ন মাধ্যমে ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন করছে। ভাষা শিক্ষাকেন্দ্রিক বড় বাণিজ্যও তৈরি হয়েছে। কিন্তু অসচ্ছল পরিবারের শিশুরা বঞ্চিত হচ্ছে।
শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষাব্যবস্থায় ভাষা শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয় না। ফলে ভাষাগত দুর্বলতা নিয়েই বড় হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সময়ে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও সেগুলোর ধারাবাহিকতা থাকে না। এ কারণে সমস্যা দিন দিন আরও প্রকট হচ্ছে। ভাষা শিক্ষায় সংকটের পেছনে রয়েছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে পাঠদক্ষতায় কম গুরুত্ব দেওয়া। শিক্ষার্থী অনুযায়ী বড় শ্রেণিকক্ষ, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ও দক্ষ শিক্ষকসংকটও বড় কারণ।
সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন গবেষণায়ও প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে থাকার তথ্য উঠে এসেছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জাতীয় শিক্ষার্থী মূল্যায়ন ২০২২–এর প্রতিবেদনে একই ধরনের চিত্র পাওয়া যায়। প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, তৃতীয় শ্রেণির ৫১ শতাংশ এবং পঞ্চম শ্রেণির ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী শিক্ষাক্রম অনুযায়ী বাংলায় কাঙ্ক্ষিত যোগ্যতা অর্জন করতে পারছে না।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত এ জরিপে তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির গণিত ও বাংলা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিভাগের পঞ্চম ও তৃতীয় শ্রেণির মোট ৫৪ হাজার ২৩২ শিক্ষার্থীর ওপর এ জরিপ চালানো হয়।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী প্রথম আলোকে বলেন, ভাষাদক্ষতা সুযোগের দরজা খুলে দেয়। ভাষায় দুর্বলতা মানে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া। তাই প্রাথমিক স্তর থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। তাঁর মতে, ভাষাদক্ষতায় পিছিয়ে থাকার সমস্যা নিরসন কঠিন নয়; প্রয়োজন উদ্যোগ ও যথাযথ বাস্তবায়ন।
প্রাথমিকেই তৈরি হচ্ছে শেখার ফাঁক
বর্তমানে সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে মোট প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ লাখ ১৮ হাজারের বেশি। এগুলোতে পড়ছে ২ কোটির ১ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। মাধ্যমিকে শিক্ষার্থী প্রায় ১ কোটি। এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজ-মাদ্রাসাসহ দেশে উচ্চশিক্ষায় প্রায় ৪৪ লাখ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষায় পড়ছে আরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী।
বেসরকারি সংগঠন ওয়েভ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২০২৩ সালে ৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী দেড় হাজারের বেশি শিশুর ওপর এক জরিপ চালানো হয়। ওই জরিপের তথ্য বলছে, ১০ শতাংশের বেশি ছেলে এবং প্রায় ৯ শতাংশ মেয়ে বাংলায় বর্ণই পড়তে পারেনি। ইংরেজিতে এই হার আরও বেশি। ইংরেজিতে বর্ণ পড়তে পারেনি ১৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ ছেলে এবং ১৫ দশমিক ২২ শতাংশ মেয়ে।
প্রথম আলোর আরেক খবরে বলা হয়, ‘শহীদ মিনারে রুমিন ফারহানার ফুল দেওয়া নিয়ে হট্টগোল, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে সরাইল উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে উপস্থিত হন রুমিন ফারহানা। এ সময় তাঁর সঙ্গে কয়েক শ সমর্থক ছিলেন। সমর্থকদের কয়েকজন এ সময় তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্লোগান দেন। রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন রুমিন। এ সময় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দেখা যায়। ১২টা এক মিনিট বাজার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান তিনি। একই সময়ে ফুল দিতে আসেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য আনোয়ার হোসেন মাস্টার। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শহীদ মিনারের আশপাশে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। অনেকেই জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠে পড়েন। শহীদ মিনারে দেওয়া ফুলও ছিঁড়ে ফেলা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুমিন ফারহানার কয়েক শ সমর্থক ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর এলাকায় অবরোধ করেন। তাঁরা লাঠিসোঁটা হাতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় তাঁরা আনোয়ার হোসেন মাস্টারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে থাকেন।
সরাইল থানা ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত দেড়টার দিকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা সরে দাঁড়ান। তবে মহাসড়কে এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনিছুল ইসলাম ঠাকুর প্রথম আলোকে বলেন, ‘শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার ব্যাপারে আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর বাইরে আমাদের দলীয় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। খোঁজখবর নিয়ে দেখব বিষয়টি কী।’
সরাইল খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, রাত দেড়টার পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুমিন ফারহানা ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে হাঁস প্রতীকে ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব খেজুরগাছ প্রতীকে পান ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট। রুমিন ফারহানা বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহসম্পাদক ছিলেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তিনি দলীয় পদ হারান।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘মূল্যবৃদ্ধির কারণ খুঁজছে প্রশাসন’। খবরে বলা হয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে তিনটি পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। প্রথমটি হচ্ছে, বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির পেছনের কারণ শনাক্ত করা। দ্বিতীয়ত, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের বাজার মনিটরিংয়ে সম্পৃক্ত করা এবং শেষটি হচ্ছে-টিসিবিকে আরও শক্তিশালী করা। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সব জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত তারা বাজার মনিটরিং করবেন। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর বুধবার প্রথম দিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই দিন জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি দ্রব্যমূল্য মানুষের নাগালের বাইরে যেন না যায়, সে ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদিও অনেকের মধ্যেই এ মাসটি (রমজান) ঘিরে অধিক মুনাফা লাভের প্রবণতা লক্ষণীয়। আপনাদের (ব্যবসায়ী) প্রতি আহ্বান, রমজানের পবিত্রতা রক্ষার স্বার্থে এ মাসটিকে ব্যবসার মুনাফা লাভের মাস হিসাবে পরিণত করবেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, দ্রব্যমূল্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বেশকিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর মধ্যে যেসব কারণে বাজারে পণ্যের দাম বাড়ছে, সে কারণগুলো শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আর এর অংশ হিসাবে বাজার বিশেষজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ, ক্রেতাদের সংগঠনসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে রোববার বৈঠক করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, যে কারণে পণ্যের দাম প্রতিনিতই বাড়ছে তা শনাক্ত না করা গেলে কোনো কর্মসূচি কাজে আসবে না। এজন্য যে কোনো কর্মসূচি নেওয়ার আগে কারণগুলো শনাক্ত করা হবে। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কর্মসূচি নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে সাবেক বাণিজ্য ও অর্থসচিব (সিনিয়র) মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রথমে ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। রংপুর থেকে ঢাকা পৌঁছতে ১০টি ঘাটে চাঁদা দিতে হয়। ব্যবসায়ীরা চাঁদার টাকা পণ্যের ওপর চাপিয়ে দেন। ফলে পণ্যের দাম বাড়ছে। চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স থাকতে হবে পুলিশ প্রশাসনকে। এছাড়া মূল্য নিয়ন্ত্রণে দরকার মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতি সংকোচনমূলক রাখা। মুদ্রানীতি সংকোচনমূলক আছে। রাজস্বনীতিও করতে হবে। সরকারের অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে। নিত্যপণ্যের দাম কমাতে দোকানে দোকানে গিয়ে হুংকার দিলেও কমবে না। সরকারের পলিসিগুলো সমন্বয় করতে হবে। এছাড়া ক্রেতার ব্যবহারে পরিবর্তন আনতে হবে। হুজুগে বা মৌসুমে একসঙ্গে প্রয়োজনের বেশি পণ্য কেনার সংস্কৃতি থেকে ক্রেতাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এসব পদক্ষেপ নিলে পণ্যের দাম কমে আসবে।
অবশ্য দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের বলেছেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ে কোনো ‘সাউন্ড বাইট’ নয়, বরং কাজের মাধ্যমে ফল দেখানো হবে। তিনি আরও বলেছেন, দেশে রমজানের পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ রয়েছে। পণ্য নিয়ে ভোক্তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। রমজান ও পরবর্তী সময়ের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত সরকারের হাতে রয়েছে এবং পাইপলাইনেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাজার তদারকি ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
এদিকে টিসিবিকে আরও শক্তিশালী করা হবে। বর্তমানে টিসিবির মাধ্যমে কোটি পরিবারকে ন্যায্যমূল্যে পণ্য দেওয়া হচ্ছে। এটি নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে। এ কার্যক্রমের অংশ হিসাবে শনিবার টিসিবির ট্রাক সেল কার্যক্রম পরির্দশন করবেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
সূত্র আরও জানায়, বৃহস্পতিবার বাজার মনিটরিংয়ের নির্দেশ দিয়ে দেশের সব ডিসিকে চিঠি দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনারকেও দেওয়া হয়েছে চিঠি। ফলে এখন জেলা পর্যায়ে বাজার মনিটিরং চলবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলা পর্যায়ে বাজার মনিটরিং কঠোরভাবে করতে হবে। কারণ, বিগত সময়েও এ ধরনের চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু উল্লেখ্যযোগ্য কার্যক্রম চোখে পড়েনি। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা একে রুটিনওয়ার্ক হিসাবে ধরে নেন। কিন্তু বর্তমান সরকার যেহেতু বাজারে নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ চাচ্ছেন, তাই বিষয়টিকে জেলা প্রশাসকদের গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। অন্যথায় মনিটরিংয়ে দুর্বলতার সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটে নেবেই।
কালের কণ্ঠ
‘সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের ৩৫টি পাবে বিএনপি’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন দল বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করেছে নতুন সরকার। এখন অপেক্ষা কবে বসবে সংসদ অধিবেশন। কবেই বা পূরণ হবে সংরক্ষিত ৫০ নারী আসনের কোটা। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে যেমন রয়েছে আলোচনা, তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যেও রয়েছে কৌতূহল।
সবার চোখ এখন সংরক্ষিত নারী আসনে। কোন রাজনৈতিক দল কয়টি আসন পাবে সে হিসাবও মেলাচ্ছেন অনেকে। সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন জয়ী বিএনপি আনুপাতিক হারে অন্তত ৩৫টি সংরক্ষিত আসন পাওয়ার কথা। ফলে বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে রয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
কাঙ্ক্ষিত আসনগুলো কারা পেতে যাচ্ছেন তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিএনপি সূত্র বলছে, বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, দক্ষ, ত্যাগী, যোগ্য নেত্রীদের মূল্যায়নে রয়েছে জোরালো দাবি। ফলে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন যোগ্যতার ভিত্তিতে হবে, নাকি প্রভাবশালীদের সুপারিশে চূড়ান্ত হবে—এখন সেটি দেখার পালা। কেউ কেউ এ কথাও বলছেন, সংরক্ষিত নারী আসনে কারা মনোনয়ন পাবেন সে সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর।
তবে সূত্র এ কথাও বলছে, দলীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দলের প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন নেওয়া হবে। জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রীর পদপর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখনো প্রক্রিয়া শুরু হয়নি। প্রক্রিয়া শুরু হলে আমাদের দলের যাঁর প্রার্থী আছেন তাঁরা দরখাস্ত করবেন। এরপর দরখাস্ত বাছাই করে চূড়ান্ত করা হবে।’
ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যাঁরা সামনের সারি থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তাঁরা প্রত্যেকে এটা ডিজার্ভ করেন। সংগ্রামী জীবনে যাঁদের ত্যাগ রয়েছে অবশ্যই তাঁদের সুযোগ দেওয়া উচিত।’
তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমরা যাঁরা অংশ গ্রহণ করেছি এটা অনেকটা যুদ্ধ জয়ের মতো। আমি নিজেকে যোদ্ধা মনে করি। আমরা যাঁরা সাধারণ আসনে নির্বাচন করার সুযোগ পাইনি, তাঁরা সংরক্ষিত নারী আসনে সুযোগ পাওয়ার দাবিদার। যাতে দলের পক্ষে কথা বলতে পারি, দেশের মানুষের সেবা করতে পারি।’
জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার গঠন করা হয়েছে। এখন হয়তো দ্রুত সময়ের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে কখনো পিছপা হয়নি। বিগত ১৭ বছর জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, আওয়ামী দুঃশাসনের শিকার হয়েছেন, এমন কাউকে ছোট করে দেখার অবকাশ নেই। আশা করি দল এসব বিচার বিশ্লেষণ করে ত্যাগের মূল্যায়ন করবে।’
তিনি বলেন, ‘আশা করি দলের জন্য আমাদের ত্যাগ, আন্দোলন সংগ্রামে রাখা ভূমিকা বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মূল্যায়ন করবেন। দলের দায়িত্বশীল সিনিয়র নেতারা আছেন, আশা করি তাঁরাও বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দলের নিবেদিত নেত্রীদের কাজ করার সুযোগ করে দেবেন।’
বিএনপি নেতাকর্মীরা জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় আছেন যাঁরা তাঁদের মধ্যে রয়েছেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের স্ত্রী অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমদ, দলের আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ, বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের স্ত্রী ব্যারিস্টার রাশনা ইমামের নামও আলোচনায় রয়েছে।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘শিক্ষা খাতে ১৩ চ্যালেঞ্জ’। খবরে বলা হয়, প্রতিবছর শিক্ষাখাতে খরচ হয় কয়েক হাজার কোটি টাকা। তারপরও নিশ্চিত হয়নি শিক্ষার গুণমান। রয়েছে নানা সংকট। নতুন সরকারের সামনে শিক্ষাখাতে ১৩টি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শিক্ষক সংকট, উচ্চ শিক্ষায় সরকারি কলেজে একই শিক্ষক দিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা দেওয়া, কারিগরি শিক্ষায় নারীদের কম অংশগ্রহণ ও চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা তৈরির অভাব, ডিগ্রিধারী বেকারের সংখ্যা বৃদ্ধি, প্রাক-প্রাথমিকে শিক্ষক নিয়োগ না করা, প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার বৃদ্ধি, মাধ্যমিক শিক্ষায় অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষার্থী ভর্তি, ভর্তির ক্ষেত্রে ধনী-গরিবের ব্যবধান, মাদ্রাসা শিক্ষার মান চাকরির বাজারে সঙ্গে সামঞ্জস্য নয়। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান ও গবেষণা পরিচালনার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত সন্তোষজনক নয়, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরতদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে কোনো একক নীতিমালা নেই, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টিরা নিজেদের মালিক মনে করেন, গবেষণার জন্য মানসম্মত ফ্যাকাল্টি না থাকা এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষায় প্রচলিত ধ্যান-ধারণা আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা থেকে অনেকটাই ভিন্ন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, মানসম্মত ও জবাবদিহিমূলক কাঠামোর মধ্যে আনা। শিক্ষা কমিশন গঠনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে শিক্ষা খাতের চলমান কার্যক্রম ও সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে শিক্ষায় যা আছে :বিএনপির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনি ইশতেহার জায়গা করে নেওয়া শিক্ষার বিষয়গুলো হলো শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ প্রদান; ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব; মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন; লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস (আনন্দময় শিক্ষা); বাধ্যতামূলক তৃতীয় ভাষা শিক্ষা; সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা; ক্রীড়া ও দেশীয় সংস্কৃতি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি; স্বাস্থ্য ও খাদ্যে অগ্রাধিকার; সুশিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক; প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব; শিক্ষাখাতে সামাজিক ও ভৌগোলিক বৈষম্য নিরসন; ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু; ‘বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস’ প্রদান; রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকদের আমন্ত্রণ জানানো; ‘শিক্ষা সংস্কার কমিশন’ গঠন; গণঅভ্যুত্থান ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের আহতদের সহায়তা প্রদান; সর্বজনীন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণ; বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের শিক্ষা উন্নয়ন; অনন্য ডিজিটাল পরিচয় বা এডু-আইডি প্রবর্তন; ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি কর্মসূচি বাস্তবায়ন; শিক্ষার্থীদের পোষ্য প্রাণী পালন উত্সাহিতকরণ; গ্রীষ্মের ছুটির কর্মমুখী ব্যবহার।
বরাদ্দ কম: শিক্ষাবিদরা বলেন, শিক্ষাখাতে সরকারি বরাদ্দ জিডিপি (মোট দেশজ উত্পাদন) অনুপাতে গত ২২ বছর ধরে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বনিম্নে বাংলাদেশ।
পরিসংখ্যানে এমন তথ্য উঠে এসেছে। জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেস্কো) নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাখাতে অন্তত জিডিপির ছয় ভাগ বা বাজেটের অন্তত ২০ শতাংশ ব্যয় হওয়া উচিত। তবে দেশে বছরের পর বছর এ বরাদ্দ জিডিপির দুই শতাংশ এবং বাজেটের ১২ শতাংশের আশপাশেই সীমাবদ্ধ। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুসারে, ১৮৯টি সদস্য দেশের মধ্যে যে ১০টি দেশ অর্থনীতির আকারের তুলনায় শিক্ষাখাতে সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেয়, বাংলাদেশ তার একটি। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে মোট বাজেটের ২০ ভাগ এবং মোট জিডিপির ছয় শতাংশ বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন। তবে কোনো সরকারই তা আমলে নেয়নি। বিএনপির টার্গেট ডিজিপির অন্তত ৫ ভাগ শিক্ষাখাতে ব্যয় করার।
বিশ্বের প্রায় সব দেশেই প্রাথমিক পর্যায়ে একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলিত, ব্যতিক্রম বাংলাদেশ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন অধ্যাপক বলেন, শিক্ষায় বারবার শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের কারণে আমরা আন্তর্জাতিক মান থেকেও পিছিয়ে পড়ছি। বিশ্বের প্রায় সব দেশেই প্রাথমিক পর্যায়ে একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত। এ ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থায় সব শিক্ষার্থীকে একই বই পড়ানো হয় এবং একই ধরনের শিক্ষা দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম বাংলাদেশ। দেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে অন্তত ১১ ধরনের। ধরনভেদে প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রমেও রয়েছে ভিন্নতা। সরকারিভাবে স্বীকৃত বা স্বীকৃতিহীন মিলিয়ে বাংলাদেশে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় কারিকুলাম চালু আছে অন্তত পাঁচ রকমের। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০-এ প্রাথমিক পর্যায়ে একই ধরনের কারিকুলামের আওতায় একমুখী শিক্ষাব্যবস্থা প্রচলনের কথা বলা হলেও দেড় যুগেও তা বাস্তবায়ন করা যায়নি। ধরনভেদে প্রতিষ্ঠানগুলোর কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রমের ভিন্নতার কারণে শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক পর্যায় শেষে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতার স্তরে তৈরি হচ্ছে পার্থক্য। এছাড়া সামাজিক বৈষম্যও বাড়ছে। তাই একমুখী শিক্ষাক্রম চালুর পাশাপাশি যুগোপযোগী সংস্কার করা এবং বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
কারিগরি শিক্ষায় বেহাল দশা :দেশে ডিপ্লোমা প্রকৌশল শিক্ষা বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু দেশের জনসংখ্যার ৫০ শতাংশ নারী হওয়া সত্ত্বেও ডিপ্লোমা প্রকৌশল কোর্সে ১৪ থেকে ১৬ শতাংশের বেশি মেয়ে ভর্তি হয় না। এর মূল কারণ কারিগরি শিক্ষা সম্পর্কে অভিভাবকের অসচেতনতা। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের পছন্দের কোর্সও তেমন নেই। বিশ্ববাজারের চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত টেকনোলজি চালু করা সময়ের দাবি। জানা গেছে, শিক্ষক সংকট, উপকরণের অভাব, অনুন্নত কারিকুলামসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত দেশের কারিগরি শিক্ষা। বিপুল জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে কারিগরি শিক্ষায় সরকার বিশেষ জোর দিলেও খাত লক্ষ্য অর্জন হয়নি। বিভিন্ন পলিটেকনিক, মনোটেকনিক এবং কারিগরি স্কুল ও কলেজে শিক্ষক পদের ৭০ শতাংশই শূন্য আছে। এছাড়া জনশক্তি ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান ব্যুরোর অধীন কারিগরি প্রতিষ্ঠানেও প্রায় ৬০ শতাংশ শিক্ষক পদ শূন্য। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে এক শিফটের শিক্ষক দিয়ে চালানো হচ্ছে দুই শিফট। অনেক প্রতিষ্ঠানে ল্যাবরেটরি সংকট। আবার ল্যাব থাকলেও নেই যন্ত্রপাতি। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা আরো নাজুক।
বণিক বার্তা
‘শেষ সময়ে তড়িঘড়ি চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের বড় ভুল কি’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার ধরে রাখা এবং সম্ভাব্য শুল্কচাপ এড়ানোর কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে চুক্তিটিকে উপস্থাপন করেছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার। নির্বাচনের একেবারে আগ মুহূর্তে এ ধরনের চুক্তি স্বাক্ষর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অর্থনীতিবিদ ও বাণিজ্যসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও নীতিগতভাবে সংবেদনশীল কোনো বাণিজ্য সমঝোতা করা অন্তর্বর্তী সরকারের এখতিয়ার-বহির্ভূত। তারা চুক্তির সিদ্ধান্তটি নতুন সরকারের ওপর ছেড়ে দেয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন। যদিও বিষয়টি আমলে নেয়নি অন্তর্বর্তী সরকার। গতকাল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের বৈশ্বিক শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করায় আবারো প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচনের আগ মুহূর্তে এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি, বহুমাত্রিক শর্তযুক্ত চুক্তিতে সই করা কি অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল?
গতকাল এক রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা সর্বজনীন শুল্ক বা গ্লোবাল ট্যারিফ নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। নয়জন বিচারপতির বেঞ্চের ছয়জন এটি বাতিলের পক্ষে রায় দিয়েছেন। আর ট্রাম্পের ট্যারিফের পক্ষে মত দিয়েছেন তিনজন বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ নেই। তবে ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের কাছে রায়টি পুনরায় বিবেচনা করার অনুরোধ করতে পারে। যদিও এটি অত্যন্ত বিরল ঘটনা এবং রায় পাল্টে যাওয়ার নজির নেই বললেই চলে।
এ রায়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন পথে হাঁটার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ১২২ ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী ১০ শতাংশ ট্যারিফ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করবেন। এটি তিনদিন পর থেকে কার্যকর হবে। যেসব দেশ এরই মধ্যে চুক্তি করে ফেলেছে তাদের বিষয়ে ট্রাম্প সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
তিনি বলেন, ‘এসব চুক্তির অনেকগুলো বহাল থাকবে, কিছু হয়তো বহাল থাকবে না। সেগুলো অন্য ট্যারিফ দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হবে।’ তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, আইন অনুযায়ী সেকশন ১২২-এর অধীনে এ ধরনের সর্বজনীন শুল্ক অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এটি সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের জন্যই কার্যকর রাখা যায়, এরপর বাড়াতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন দরকার। ফলে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে যে ক্ষমতার সীমা টানা হয়েছে, ট্রাম্পের নতুন শুল্কও সময়সীমানির্ভর হয়ে পড়ছে। নীতিগত অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের আদালত যখন ট্রাম্পের ট্যারিফকে অবৈধ ঘোষণা করেছে, তখন সরকার চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা করতে পারে বলে মনে করেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তড়িঘড়ি করে চুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার বড় ভুল করেছে। এ ধরনের চুক্তি তাদের এখতিয়ারের মধ্যেই ছিল না। ক্ষমতা ছাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তেই চুক্তি করতে হবে—এমন কোনো বাস্তব চাপও ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রেও বিষয়টি নিয়ে মামলা চলছিল। নিম্ন আদালত আগেও এটির বিপক্ষে রায় দিয়েছেন। ফলে উচ্চ আদালতের রায়ে ট্রাম্পের ট্যারিফ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনাও ছিল। উপরন্তু ট্রাম্প নিজেই শুল্কনীতি বারবার সংশোধন করছিলেন।’
আনু মুহাম্মদ আরো বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার সহজেই বলতে পারত নির্বাচিত সরকার এসে বিষয়টি দেখবে। এটা বলার মধ্য দিয়ে তারা চুক্তি সই এড়িয়ে যেতে পারত। কিন্তু সরকার যে পদ্ধতিতে সবকিছু আড়াল করে এগিয়েছে, তাতে মনে হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের চেয়ে তাদের তাগিদ বা আগ্রহই বেশি ছিল। মনে হয়েছে এতে তাদের বিশেষ স্বার্থ ছিল, এটা ছাড়া তড়িঘড়ি করে চুক্তির ব্যাখ্যা খুঁজে পাচ্ছি না। এমন কোনো পরিস্থিতি ছিল না যে ৯ তারিখে না করলে বড় বিপদ হয়ে যাবে।’
মার্কিন সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়কে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আদালত বলেছে, কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে বৈশ্বিক পরিসরে শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত লিখে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে অসাধারণ ক্ষমতার দাবি করেছেন তার পক্ষে স্পষ্ট কংগ্রেসীয় অনুমোদন দেখাতে হবে। ১৯৭৭ সালে পাস হওয়া ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট (আইইইপিএ) এ ধরনের শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয় না। রায়ে বলা হয়, কংগ্রেস যখন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়, তখন তা সুস্পষ্ট সীমাবদ্ধতা ও শর্তসহ দেয়। এখানে তা করা হয়নি। জন রবার্টস রায়ে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে যুদ্ধাবস্থায় নেই। জরুরি ক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বাস্তব হুমকি ও আইনি সীমারেখা থাকতে হবে এবং সেই যুক্তিতে বৈশ্বিকভাবে একযোগে শুল্ক আরোপকে তিনি সমর্থনযোগ্য মনে করেননি।
আজকের প্রত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘পুলিশে শীর্ষ পদে বদল হতে পারে, ঢালাও বদলি নয়’। খবরে বলা হয়, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের পুলিশ বাহিনীর শীর্ষ পদগুলোতে পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। মহাপরিদর্শকসহ (আইজিপি) গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নতুন নিয়োগের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে আপাতত সব স্তরে ঢালাও বদলি না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
নতুন সরকারের ভাবনা অনুযায়ী, পদায়ন ও দায়িত্ব প্রদান হবে সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে। সেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে দক্ষতাকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। নির্বাচনের পর কিছু ইউনিটে অভ্যন্তরীণ বদলি হলেও তা হবে নিয়মমাফিক ও পর্যায়ক্রমিক। রাজনৈতিক কারণে সব স্তরে গণহারে বদলির যে চর্চা আছে, তা অনুসরণ করা হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব জানা গেছে।
সরকার গঠনের পর প্রথম কর্মদিবস গত বুধবারই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ একান্ত বৈঠকে তাঁর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের বলেন, ‘কে কোন দলের ভোট দিয়েছেন, সেটা ভুলে যান। আজ থেকে আপনারা সবাই দেশের মানুষের জন্য কাজ করুন।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আইজিপি ছাড়াও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) মহাপরিচালক, পুলিশের বিশেষ শাখার প্রধান, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এবং ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের (সিআইডি) প্রধানসহ বেশ কয়েকটি শীর্ষ পদে পরিবর্তন আসছে। তবে ডিআইজি, এসপি ও থানার ওসিদের বদলির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আপাতত এসব পদে বদলি করা হবে না বলে জানা গেছে।
বিএনপি সরকার গঠন করার পর থেকেই পুলিশের শীর্ষ পদগুলোতে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। পুলিশের কোন কোন পদে পরিবর্তন আসছে, জানতে চাইলে এ সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে পুলিশপ্রধান বাহারুল আলম আজকের পত্রিকাকে বলেছেন, তিনি নিজ দায়িত্ব থেকে সরে যাচ্ছেন। এ ছাড়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন বিষয়ে আলোচনা চলছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আইজিপি ও ডিএমপি কমিশনারের পদে নতুন নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ফাইল ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। নতুন আইজিপি ও কমিশনার দায়িত্ব নিলে বাকি শীর্ষ পদগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই পদায়নের প্রক্রিয়া দেখা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যকার আলোচনা অনুযায়ী, শীর্ষ ছয় পদে নিয়োগ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে আছেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন মিঞা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির, সিআইডির প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ছিবগাত উল্লাহ, র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ, রেলওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার জিল্লুর রহমান, র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ, পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজি এ কে এম আওলাদ হোসেন, গত সরকারের শেষ দিকে অবসরে যাওয়া অতিরিক্ত আইজিপি মতিউর রহমান শেখ, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার অবসরপ্রাপ্ত সমন্বয়ক আনসার উদ্দিন খান পাঠান ও অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
দেশ রূপান্তর
‘বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশেই ভিসা সেবা বাড়ছে’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের স্থবিরতা কাটার ইঙ্গিত পাচ্ছেন দুই দেশের কূটনীতিকরা। তারা বর্তমান অবস্থাকে অনেক দিন জমে থাকা বরফ গলতে শুরু করার সঙ্গে তুলনা করছেন। আর এ শুরুটা হতে যাচ্ছে একটু একটু করে ভিসা সেবা স্বাভাবিক করার মধ্য দিয়ে।
এ বরফ গলার আভাস দেওয়াটা শুরু হয়েছে ভারতের দিক থেকে। সিলেটে দেশটির মিশনের সিনিয়র কনস্যুলার কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, ভিসা পরিষেবা সম্পূর্ণরূপে পুনরায় চালু করার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মেডিকেল ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা এখন দেওয়া হচ্ছে। ভ্রমণসহ অন্যান্য ভিসা পুনরায় চালু করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনগুলো ভিসা পরিষেবা খুব সীমিত করে দেয়।
এদিকে ভারতের তরফ থেকে ভিসা পরিষেবা স্বাভাবিক করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এমন খবর বেরোনোর পর দেশটির রাজধানী দিল্লি ও আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনগুলোও ভিসা পরিষেবা সম্প্রসারণ করতে শুরু করছে। দিল্লিতে বাংলাদেশের এক কূটনীতিক গতকাল শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। উগ্রপন্থিদের হামলার ঝুঁকির মুখে গত দুই মাস দিল্লি ও আগরতলায় ভিসা পরিষেবা প্রায় বন্ধ রাখা হয়।
ভারতসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভিসা জটিলতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ গতকাল সাংবাদিকদের জানান, সরকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে স্থগিত থাকা ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত পুনরায় চালু করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে।
ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলোয় ভিসা সেবা পুনরায় চালু করা প্রসঙ্গে বাংলাদেশের একজন কূটনীতিক গতকাল বলেন, ভারতে বাংলাদেশের মিশনগুলোয় ভিসা পরিষেবা বন্ধের বিষয়টি ‘চিঠিপত্র দিয়ে’ করা হয়নি। কাজেই আবার চালু করার জন্যও কোনো চিঠিপত্রের প্রয়োজন নেই।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে দিল্লিতে গতকাল নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ঢাকায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে হস্তান্তর করেন। চিঠিতে গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করার বিষয়ে ভারতের প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ‘দুই দেশের মধ্যে উষ্ণ ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের বহুমুখী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য উন্মুখ।’
বর্তমানে বাংলাদেশে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনায় অবস্থিত ভারতীয় ভিসাকেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে জরুরি চিকিৎসা ও অন্যান্য জরুরি ক্ষেত্রে সীমিতভাবে ভিসা দেওয়া হচ্ছে। এর বাইরে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও কর্মীদের দিল্লিতে অবস্থিত তৃতীয় দেশের দূতাবাসে ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকলেও সেখানে যাওয়ার জন্য ভারতীয় ভিসা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু আছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর ‘চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোরতা’। খবরে বলা হয়, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতিসহ সব অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই তারেক রহমান সাফ জানিয়েছেন, যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে থাকবে তাঁর সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয়, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকেও একই নীতির কথা কঠোরভাবে ব্যক্ত করেছেন। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এ নীতির বাস্তবায়ন শুরু করেছেন মন্ত্রী-এমপিসহ প্রশাসন।
জানা যায়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু তাঁর নির্বাচনি এলাকা ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসনকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও সব ধরনের অনিয়মমুক্ত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি এ-সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে একটি হটলাইন নম্বর (০১৭৩০০০৪৮৪৪) চালু করেছেন। গতকাল নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানান মন্ত্রী। আবদুল আউয়াল মিন্টু লেখেন, ‘ফেনী-৩ এলাকাকে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও যেকোনো ধরনের অনিয়মমুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হোন, নির্ভয়ে তথ্য দিন। আপনাদের দেওয়া তথ্য গোপন রাখা হবে।’
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, ‘সারা দেশে সড়কে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। আর লক্ষ্মীপুরে তো নাই-ই।’ গতকাল লক্ষ্মীপুর সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব এ্যানি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সভায় আইনশৃঙ্খলার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। রমজান মাসে যেন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে, পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন আমরা কীভাবে অব্যাহত রাখব, সে ব্যাপারে যেকোনো অবস্থান থেকে যেকোনো ডিপার্টমেন্টে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’
ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ নির্মূলে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। মুরাদনগর উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে পারলে প্রশাসনকে পুরস্কৃত করার ঘোষণাও দেন তিনি। গতকাল কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ‘দলীয় পরিচয়ে কেউ কোনো অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রশাসন চলবে সম্পূর্ণ আইন অনুযায়ী।’ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের কঠোর হস্তে দমন করতে তিনি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘ঢাকা-১৩ কিশোর গ্যাং থেকে শুরু করে সব ধরনের চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সভায় বলেছেন, মন্ত্রী, এমপি, দলীয় কেউই অনিয়মের সঙ্গে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘নির্বাচনের আগেই কথা দিয়েছিলাম বিজয়ী হতে পারলে ঢাকা-৯ আসনকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তুলব। এখন সময় সেই ওয়াদা রক্ষার। অনিয়মের সঙ্গে যারাই জড়িত থাকবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে অবস্থান জিরো টলারেন্স।
( মানবজমিন থেকে)