ডেস্ক ।।
বিশ্বজুড়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক আরোপিত বেশিরভাগ আমদানি শুল্ক বাতিল করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার দেয়া এক ঐতিহাসিক রায়ে আদালত বলেছে, জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য প্রণীত একটি আইন ব্যবহার করে ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছিলেন। ৬-৩ ভোটের বিভক্ত রায়ে বিচারপতিরা জানান, ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার্স অ্যাক্ট (আইইইপিএ) আইনের আওতায় বিশ্বজুড়ে পণ্যের ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। প্রধান বিচারপতি বলেন, প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে বিপুল পরিমাণ, সময় ও পরিসরের শুল্ক আরোপের অসাধারণ ক্ষমতা দাবি করেছেন, কিন্তু কংগ্রেস কখনোই এই আইনের মাধ্যমে পালটা শুল্ক আরোপের অনুমোদন দেয়নি। স্কাই নিউজের এক খবরে বলা হয়েছে, রায়ের ফলে ট্রাম্পের আরোপ করা অনেক শুল্ক বাতিল হলেও কিছু এখনও বহাল রয়েছে। আদালত বিশেষভাবে দুই ধরনের শুল্ক বাতিল করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন দেশের ওপর পৃথকভাবে আরোপ করা তথাকথিত রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক। যেমন- চীনের ক্ষেত্রে ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত এবং অন্যদের জন্য ১০ শতাংশ ভিত্তি হার। কানাডা, চীন ও মেক্সিকোর কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসন। তবে স্টিল ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর অন্য আইনের অধীনে আরোপিত শুল্ক বহাল পৃষ্ঠা ১১ কলাম ১ থাকবে। রায়ের পর ট্রাম্প এটিকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন এবং জানান, তার বিকল্প পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগেও তিনি বলেছিলেন, শুল্ক না থাকলে যুক্তরাষ্ট্র বড় সমস্যায় পড়ত। তবে রায়ের খবর প্রকাশের পর শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায় এবং শেয়ারদর বেড়ে যায়। শুল্কের বিরুদ্ধে মামলা করা ব্যবসায়ীরা রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। নিউইয়র্কভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভিওএস সিলেকশনস-এর প্রধান ভিক্টর শোয়ার্টজ বলেন, এসব শুল্ক ছিল ইচ্ছামতো, অনিশ্চিত এবং ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর। রায়ের ফলে যেসব প্রতিষ্ঠান শুল্ক পরিশোধ করেছিল, তারা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ থেকে অর্থ ফেরত চাইতে পারে। ইতোমধ্যে শতাধিক কোম্পানি মামলা করেছে। ভিন্নমত দেয়া বিচারপতিরা সতর্ক করেছেন, এতে সরকারের ওপর বিলিয়ন ডলারের আর্থিক চাপ পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। কিন্তু ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা জরুরি অবস্থার যুক্তি দেখিয়ে আইইইপিএ আইনের মাধ্যমে আমদানি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা ব্যবহার করেছিলেনÑযা আগে কোনো প্রেসিডেন্ট শুল্ক আরোপে ব্যবহার করেননি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই শুল্ক থেকে প্রায় ১৩০ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায় হয়েছিল। আদালতের এই রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য দ্বিতীয় মেয়াদে সুপ্রিম কোর্টে বিরল এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।