ডেস্ক রিপোর্ট।
নবগঠিত সরকারের মন্ত্রিসভা অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়নি বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, মন্ত্রিসভায় আর্থিকভাবে অস্বচ্ছ, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত, ঋণখেলাপি এবং হত্যা মামলার আসামিদেরও স্থান দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সদ্যগঠিত মন্ত্রিসভা নিয়ে এনসিপির পক্ষ থেকে আলোচনা-পর্যালোচনা তুলে ধরেন তিনি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচন ও গণভোট ছিল অঙ্গাঅঙ্গিভাবে সম্পর্কিত একটি প্রক্রিয়া এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুসারেই গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল—সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে একই দিনে, একই ব্যক্তির মাধ্যমে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত সংবিধান সংস্কার পরিষদই জুলাই সনদ ও গণভোটে উত্থাপিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করবে এবং সেগুলো সংবিধানের সঙ্গে সমন্বয় করবে।
তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদকে কার্যকর করার লক্ষ্যেই তারা শপথ গ্রহণ করেছেন। কিন্তু শপথের দিন সরকারি দল সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ায় জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। এটি সংবিধানের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সংস্কার প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকার শামিল এবং গণভোটে দেওয়া জনরায়কে উপেক্ষা করার সমতুল্য। তিনি দ্রুত সরকারি দলের শপথ গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া বর্তমান জাতীয় সংসদের কোনো মূল্য নেই। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা, নির্বাচন ও গণভোটের মাধ্যমে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, তা শুধু আইন প্রণয়নকারী সংসদ নয়—বরং একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কাজ করবে। এর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিশ্চিত করার কথা ছিল। দ্রুত জাতীয় সংসদ ও সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানান তিনি।
মন্ত্রিসভা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই মন্ত্রিসভা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি; বরং পুরনো ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। এতে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা হয়নি, নারীর অংশগ্রহণ ও ভিন্ন ধর্ম বা জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বও যথেষ্ট নয়। মন্ত্রিসভার গড় বয়স প্রায় ৬০ হওয়ায় তরুণ নেতৃত্বের প্রতিফলন দেখা যায়নি।
তিনি জানান, মন্ত্রিসভার ৬২ শতাংশ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ী হওয়া অপরাধ নয়, তবে রাজনীতিবিদ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ভারসাম্য থাকা প্রয়োজন। অধিকাংশ ব্যবসায়ী মন্ত্রী ব্যবসায়ী স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাহিদ ইসলাম। তার মতে, এ নিয়োগ অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
দেশব্যাপী আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় দলটির কার্যালয় খুলে দেওয়া হচ্ছে এবং কিছু গণমাধ্যম তা প্রচার করছে। বিচার প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা উচিত বলে তিনি দাবি করেন এবং প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।
এছাড়া গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান এনসিপির আহবায়ক।