February 19, 2026, 10:48 pm

ভারতে আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন চললেও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা যে এখনো সক্রিয় রয়েছে, তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত দেখা গেল ভারতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এই সামরিক যোগাযোগ অক্ষুণ্ণ থাকাকে কৌশলগতভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশে ক্ষমতায় এসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের পর এই প্রথম কোনো বড় আন্তর্জাতিক সামরিক আয়োজনে অংশ নিল বাংলাদেশ। এই আবহে ভারতের আয়োজিত আন্তর্জাতিক নৌবহর পর্যালোচনা ও নৌবাহিনীর মিলন মহড়ায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কূটনৈতিকভাবে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বুধবার বিশাখাপত্তনম, অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর রণতরী অংশ নেয়। বাংলাদেশের নৌবাহিনী তাদের রণতরী ‘সমুদ্র অভিযান’ নিয়ে সোমবারই বিশাখাপত্তনমে পৌঁছায় এবং পরদিন আনুষ্ঠানিকভাবে মহড়ায় যোগ দেয় বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ছাড়াও এই আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ায় অংশ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড-সহ প্রায় ৭০টি দেশের নৌবাহিনী। স্বাগতিক ভারত তাদের আধুনিক রণতরী আইএনএস বিক্রান্তসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ এই মহড়ায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

বুধবার অনুষ্ঠিত নৌবহর পর্যালোচনায় উপস্থিত থেকে মহড়া পর্যবেক্ষণ করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। এ সময় তিনি বলেন, এই মহড়া আসলে সামুদ্রিক ঐতিহ্যের প্রতি অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর আস্থা, ঐক্য ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতিফলন। ভিন্ন ভিন্ন পতাকাবাহী জাহাজ ও বিভিন্ন দেশের নাবিকদের উপস্থিতি সমুদ্রভিত্তিক ঐক্যের শক্তিশালী বার্তা দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এই আন্তর্জাতিক নৌ মহড়ার মূল থিম ‘সামুদ্রিক ঐক্য’, যা আয়োজনের প্রতিটি পর্বে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। সম্মিলিত এই নৌবাহিনীগুলোর সংকল্প যেকোনো বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম এবং এটি বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ-ভারত রাজনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকলেও এই মহড়ায় বাংলাদেশের উপস্থিতি আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। এটি প্রমাণ করে যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সমুদ্র নিরাপত্তা ও পারস্পরিক আস্থার প্রশ্নে দুই দেশের সামরিক যোগাযোগ এখনো কার্যকর রয়েছে।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা