February 19, 2026, 10:49 pm

ঈদের পর উপনির্বাচন ও তিন সিটি নির্বাচন

ডেস্ক রিপোর্ট ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই ধারাবাহিকভাবে একাধিক ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রমজানের মধ্যেই জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির। আর ঈদুল ফিতরের পর অনুষ্ঠিত হবে শেরপুর-৩ আসনের স্থগিত নির্বাচন এবং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন। একই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রমও শুরু করতে চায় কমিশন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদোত্তীর্ণ ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন- এই তিন সিটির নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার পর্যায়ের ভোট শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ কমিশনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এই তিন সিটির ভোট শেষ হলে পর্যায়ক্রমে বাকি নয়টি সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করা হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত পেলে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনও হতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ এবং ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের নির্দেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।

আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসাবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৪ সালের ১ জুন এবং ঢাকা উত্তর সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি। এ কারণে এই তিন সিটির নির্বাচনকে সবচেয়ে জরুরি হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকার থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই ভোটার তালিকা হালনাগাদ, সীমানা নির্ধারণ, প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শুরু হবে। সময় স্বল্পতার কারণে চট্টগ্রাম সিটির জন্য আলাদা জরুরি পরিকল্পনাও নেওয়া হতে পারে।

এদিকে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। সে অনুযায়ী মার্চের মধ্যে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করে এপ্রিলের মধ্যে ভোট শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে কমিশনের। সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগেই নির্বাচিত নারী সদস্যদের শপথ সম্পন্ন করার বিষয়েও ভাবা হচ্ছে।

সংরক্ষিত নারী আসনে আনুপাতিক হারে দলগুলোর মধ্যে বণ্টনের ক্ষেত্রে এবার বিএনপি ৩৬টি, জামায়াতে ইসলামী ১২টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি ও স্বতন্ত্ররা একটি করে আসন পেতে পারে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেছেন, বড় নির্বাচন শেষ করলেও সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে অন্য নির্বাচনগুলোর প্রস্তুতি চলছে। ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে আয়োজন করা হবে।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচন আয়োজনই কমিশনের মূল দায়িত্ব। সরকারের নির্দেশনা পেলেই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে।

 

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা