February 17, 2026, 10:47 pm

মির্জা আব্বাসের বাতিল ভোট বৈধ হয়নি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের একটি কেন্দ্রে মির্জা আব্বাসের বাতিল হওয়া ভোট বৈধ দেখিয়ে তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয় এমন একটি তথ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়া হয়। মূলত মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসের একটি ভিডিওর খণ্ডিত অংশ দিয়ে এসব প্রচার চালানো হয়। মির্জা আব্বাসের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আফরোজা আব্বাস মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে বলেন, ভোটের দিন সন্ধ্যায় খবর এলো সিদ্বেশ্বরী বালক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়ম হচ্ছে। সেখানে দরজা বন্ধ করে কারচুপি করা হচ্ছে। আমি দ্রুত সেখানে ছুটে যাই। দেখি ধানের শীষের ব্যালটের ফাঁকা ঘরে সিল পড়া আমাদের ২৭টি ভোট বাতিল করা হয়েছে এবং দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার ওই ২৭ ভোট বাতিল দেখিয়েই গণনা করে চূড়ান্ত ফলাফল শিট তৈরি করেছেন। তবে এতে আমি আপত্তি জানাই এবং প্রিজাইডিং অফিসারকে নির্বাচন কমিশনের একটি নির্দেশনা দেখিয়ে বাতিল ভোট কাউন্ট করার অনুরোধ জানাই। কিন্তু তিনি আমার কথা রাখেননি। পরে এই এলাকায় দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট এসেও তাকে বাতিল দেখানো ভোট বৈধ হিসেবে গণনা করার নির্দেশ দেন। তবুও তিনি অনড় অবস্থানে ছিলেন। তিনি কারও কথা শোনেননি। পরে ম্যাজিস্ট্রেট অন্য একটি কেন্দ্রে অনিয়মের খবর পেয়ে বের হয়ে যান। আমাদের ২৭ ভোট বাতিল দেখিয়েই ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

প্রিজাইডিং অফিসার কিছুতেই ভোট বৈধ করার দাবি মেনে নেয়নি। ওই সময়ে কেন্দ্রে ৫ থেকে ৬ জন বিদেশি পর্যবেক্ষকও ছিলেন। তারাও সত্যটা জানেন। একই কায়দায় মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল, কমলাপুর গালর্স স্কুলসহ আরও ৩টি কেন্দ্রে প্রায় ৫ হাজারের কাছাকাছি ভোট বাতিল করা হয়। কিন্তু আমরা তাৎক্ষণিক রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি। আমাদের বাতিল হওয়া কোনো ভোটই কাউন্ট করা হয়নি। তারপরও মির্জা আব্বাসের বাতিল ভোট কাউন্ট হয়েছে, এমন একটি গুজব, ভুয়া ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দেয়া হয়। একটি পক্ষ এই ভুয়া খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালায়। এমনকি এই মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আমরা শান্ত থেকে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে এখনো গুজব ছড়ানো হচ্ছে।

প্রকৃত তথ্য হলো, নির্বাচন কমিশন আমাদের বাতিল কোনো ভোটই কাউন্ট করেনি। আমরা অনুরোধ করার পরও তারা শোনেনি। যদি বাতিল ভোট কাউন্ট হতো তাহলে আমরা ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করতাম। আপনারা ইসিতে খোঁজ নিয়ে দেখেন, প্রয়োজন হলে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসারকে ফোন করেন। তারাও বলবেন বাতিল ভোট কাউন্ট হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীরা সবাই জীবিত আছেন। তাদের থেকে শোনেন। সঠিক তথ্য পেয়ে যাবেন। তারপরও বিষয়টি নিয়ে অপতথ্য ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। আপনি কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি মির্জা আব্বাসের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ছিলাম। তাই আমার কেন্দ্রে ঢোকার অনুমতি ছিল। অনিয়ম হলে আমি কেন্দ্রে যেতেই পারি।
এদিকে সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে আফরোজা আব্বাস। এতে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রে দায়িত্বরত ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও ঢাকা-৮ আসনের কোনো বাতিল ভোট বৈধ করা হয়নি। আফরোজা আব্বাস বলেন, নির্বাচনী দায়িত্বের অংশ হিসেবে আমার সব কেন্দ্রে যাওয়ার আইনগত অধিকার রয়েছে। আমি কোথাও কোনো প্রভাব বিস্তার করিনি। তার দাবি, বাতিল ভোটগুলো বৈধ করা হলে মির্জা আব্বাসের প্রাপ্ত ভোট আরও বাড়তো। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ঢাকা-৮ আসনের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা