February 15, 2026, 11:04 pm

খোলা প্রাঙ্গণে শপথ: নতুন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে সরকার

নিজস্ব প্রতিনিধি ।

দীর্ঘদিনের প্রচলিত প্রথা ভেঙে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান এবার হতে যাচ্ছে খোলা প্রাঙ্গণে। বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবন–এর দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর নেতাদের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। একই দিন সকালে দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর থেকেই শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয়। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন, সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে নতুন সরকারের শপথের আয়োজন করা হচ্ছে দক্ষিণ প্লাজায়।

সংবিধান অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান রয়েছে। নির্বাচন কমিশন ইতোমধ্যে ২৯৯ আসনের মধ্যে ২৯৭ আসনের গেজেট প্রকাশ করেছে।

এবারের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ২০৯ আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তাদের এক সময়ের মিত্র বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮ আসন নিয়ে প্রধান বিরোধী দলে বসতে যাচ্ছে। অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বাকি আসনে জয়ী হয়েছেন।

সাধারণত নতুন সরকারের শপথ পড়ানো হয় বঙ্গভবন–এ। তবে এবার স্থান পরিবর্তনের তথ্য নিশ্চিত হলেও রাষ্ট্রপতি শপথ পড়াবেন কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। এর আগে ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন–এর কাছেই শপথ নিয়েছিল। ফলে এবার স্থান পরিবর্তন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

এদিকে শপথ আয়োজনের মধ্যেই মন্ত্রিপরিষদ সচিব আব্দুর রশীদকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বঙ্গভবনের পক্ষ থেকেই দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—তা নিয়েও আলোচনা চলছে। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু বর্তমানে দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকায় সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সংবিধানের বিধান অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন।

সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে সংসদীয় দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচন করা হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নির্বাচিত নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সরকার গঠনের দাবি জানালে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং এরপরই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে।

 

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা