এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ :জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেছেন,আপনাদের সাথে আমরা একমত পোষণ করতে এখানে এসেছি। পাশাপাশি গণপ্রচার এবং জাতীয় সংসদ ও গনভোট নির্বাচনে ভোটারদের উদ্বুদ্ধকরণের বিষয়ে জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসনিক পক্ষ থেকে যেসব কর্মসূচি বিভিন্ন লেভেলের বাস্তবায়িত হচ্ছে এখানে আজকে যারা উপস্থিত রয়েছেন তা আমার ধারণা আপনারা এখানে প্রতিনিধিত্বমূলক একটা অংশগ্রহণ আমার কাছে মনে হচ্ছে। আপনি যারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন তারা সবাই সমাজের বিভিন্ন সেক্টরের বিভিন্ন গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করছেন। সেই বিবেচনায় আমার কাছে মনে হচ্ছে আজকের এই সভাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা বাংলাদেশ আজকে স্বাধীনতার ৫৫ বছর অনেক ম্যাচিউরড একটা দেশ কিন্তু ৫৫ বছর আমরা গণতন্ত্র এবং সুশাসনের জন্য আমরা সংগ্রাম করছি।
এটা আসলে আমাদের একটা দুর্ভাগ্যের বিষয়। আমাকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। গণআন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছি এবং আমরা একটা গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় সংসদীয় পদ্ধতির গণতন্ত্রের সরকার ব্যবস্থা আমরা শুরু করেছিলাম কিন্তু এই গণতন্ত্র আমরা দেখেছি বারবার হোচট খাচ্ছি।
আমরা চব্বিশে আমাদের অঙ্গীকার পরিবর্তন চাই।
আপনারা প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য শুনেছেন আমাদের ফ্যাসিবাদ বিরোধী জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল, সমাজের বিভিন্ন স্তরের জনগণ, যারা বিরোধী আন্দোলন করেছিল তাদের সমন্বয়ে আমাদের আলোচনার মাধ্যমে এর উপর একটা বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের সংবিধানের মৌলিক সংস্কার দরকার এবং সংবিধানের এই মৌলিক সংস্কার করতে হলে আমাদের সাধারণ জনগণের দরকার এবং সাধারণ জনগণের সংবিধানের মৌলিক সংস্কারের জন্য ফেব্রুয়ারি গনভোট দরকার।এবং এই গণভোট প্রদানে ব্যাপক প্রচার-প্রসারিত করা দরকার।
পরবর্তীতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১২ ফেব্রুয়ারি হবে সে নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে যে দল রাষ্ট্র ক্ষমতার সরকার পরিচালনার ক্ষমতা পাবেন।
মোটামুটি গণভোট, ২০২৬ এমন একটা নির্বাচন হবে যে নির্বাচনে আগামী ১০০ বছর মানুষ মনে রাখবে। এই নির্বাচনের মাধ্যমে পরবর্তীতে আমরা যে নতুন সংবিধান পাব সেই সংবিধানের সুফল যুগ যুগ ধরে জনগণ পাবে।
আমরা দীর্ঘ ১৫ বছর ভোটের নির্বাচন থেকে বঞ্চিত হয়েছি। শুনেছেন এই ভোট একদিকে যেমন আমার অধিকার অন্যদিকে এই ভোট আমার দায়িত্ব বটে।
জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচনের যে আমার অধিকার রয়েছে সে অধিকার আমাকে রাষ্ট্র দিতে বাধ্য এ অধিকার আমি অবশ্যই প্রয়োগ করবো। দেশের নাগরিক হিসেবে দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে সুস্থ নাগরিক হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব।
উপযুক্ত প্রতিনিধি নির্বাচন করা। যদি সেই দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হই। যদি খারাপ প্রতিনিধি নির্বাচিত হয় খারাপ শাসন হবে এবং এই খারাপ শাসনের কারণে ভালো প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারিনি সেজন্য আমরা সাফার হয়েছি। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ভোট দেওয়া যেমন আমার দায়িত্ব ভোট দেওয়া যেমন আমাদের অধিকার তেমনি আমার দায়িত্ব আমি অনুরোধ করবো আপনাদের মাধ্যমে এ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা সর্বস্তরের ভোটারদের কাছে আপনারা এই মেসেজ পৌঁছে দিবেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা সবাই এই ভোটাধিকার প্রয়োগ করি। আমাদের কাছে একটা বিশাল সুযোগ এসেছে এরকম সুযোগ বারবার আসেনা।
আমরা দীর্ঘ নয় ১৭ বছর পরে আমরা সুযোগ পেয়েছি।
হয়তো এই সুযোগ আগামী ১০০ বছর আর নাও আসতে পারে তাই আমি অনুরোধ করব জেলা প্রশাসন এবং উপজেলা প্রশাসন যে বার্তা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে উপজেলার সর্বস্তরের ভোটার এবং জনগণের কাছে প্রচার করতে এ প্রচারে আপনারা শরিক হবেন। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি একটা সুন্দর চমৎকার উৎসবমুখর এবং সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটা আমাদের অনুকরণীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে যেটা আমরা প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম মনে রাখব সবাইকে সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার জন্য আহবান জানাচ্ছি।
জাতীয় সংসদ ও গনভোট উপলক্ষে উদ্বুদ্ধকরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) সকালে সদর উপজেলা মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গনভোট উপলক্ষে উদ্বুদ্ধকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম ফয়েজউদ্দিন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ আলমগীর হোসেন, ফতুল্লার এসিল্যান্ড মোঃ আসাদুজ্জামান, সদর ও সিদ্ধিরগঞ্জের এসিল্যান্ড,সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তা – কর্মচারীবৃন্দ,স্কুল- কলেজের শিক্ষক,ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি সহ বিভিন্ন পর্যায়ের জন সাধারন।