ঢাকা,বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৬:৫৯ অপরাহ্ন ঢাকা,বৃহস্পতিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৪:০১ অপরাহ্ন
তালায় জাল- মান্দার নিজেকে বাঁচাতে ডাকাতির নাটক
     

এন ইসলাম, জালালপুর, তালা প্রতিনিধি
তালায় বহুল আলোচিত সেটেলমেন্ট অফিসের জালিয়াতি চক্রের হোতা আঃ হাকিম এবার নিজেকে বাঁচাতে নিজ বাড়ীতে ডাকাতির নাটক মঞ্চস্থ করার পায়তারায় লিপ্ত।জানা যায়, তালা উপজেলা সদরের মোবারকপুর গ্রামের মৃতঃ ছাদেক আলী শেখের পুত্র বহু অপকর্মের হোতা আঃ হাকিম ওরফে জাল মান্দার তালা সেটেলমেন্ট অফিসে দালালী ও প্রতারণা করা কালে সিসি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে সনাক্ত করে গত ১২ আগষ্ট উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ফরিদ হোসেন ভ্রাম্যমান আদালতে তাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন। প্রতারক মান্দার সেটেলমেন্ট অফিসে আসা গরীব অসহায় মানুষের নিকট থেকে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে একের জমি অন্যের নামে রেকর্ড সৃষ্টিসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে সাধারন মানুষকে ঠকিয়ে অল্পদিনে কোটিপতি বনে গেছেন। তার লালশার শিকার থেকে রেহাই পায়নি একমাত্র প্রতিবন্ধি বোন রাবেয়া বেগম(৬০)। তাদের মা বিবিজান বিবি মারা যাওয়ার সময় তার এক প্রতিবন্ধি কন্যা রাবেয়া ও এক পুত্র আঃ হাকিম ওরফে জাল মান্দার এবং ২ একর ৩ শতক জমি রেখে মারা যান। মায়ের ওয়ারেশ সূত্রে পাওয়া ৩ মৌজার ৪টি দাগের ৬৭শতক জমি জাল দলিল সৃজনের মাধ্যমে ভোগ দখলের পায়তারা করছে এই জাল মান্দার। প্রতিবন্ধী রাবেয়ার ভোগ দখলীয় সম্পত্তি থেকে উচ্ছেদের লক্ষ্যে গত ১২ সেপ্টেম্বর জেল থেকে বাড়ী ফিরেই ফন্দি আটে প্রতারক মান্দার। সে তার নিজের বাড়ীতে ডাকাতি হয়েছে মর্মে অপ-প্রচারে লিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে থানায় মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রতিবন্ধি বোনের মেয়ে জামাই সহ তার হিতাকাঙ্খীদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানী করার পায়তারা করে।
সরেজমিন মোবারকপুর গ্রামে গিয়ে জাল-মান্দারের প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানাযায়, মোবারকপুর এলাকায় ডাকাতির কোন ঘটনা আমাদের জানা নেই। তবে মান্দারের সাতে তার বোনের জমি-জমা নিয়ে বিরোধ চলছে যার কারণে এমন নাটক করতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, প্রতিবন্ধী রায়ের মা মারা যাওয়ার সময় মান্দার অনেক ছোট ছিলো তাকে কোলে পিঠে করে পরের বাড়ী ঝিএর কাজ করে লেখা-পড়া শিখিয়েছে তার বোন। আমারই সামনে তার মা মারা যাওয়ার আগে ২ভাই বোনকে জমি সমান ভাগে ভাগ করে নিতে বলে এবং কোন প্রকার ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি করতে না করে। সম্প্রতি কিছু দিন আগে থেকে শুনছি মান্দারের মা তাকে নাকি সমস্থ জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছে। আমি বা আমাদের এলাকার কেউ জানেনা তার মা জমি রেজিষ্ট্রি করে দিয়েছে। তবে শুনেছি ৭১ সালের যে কোবলা দলিল টি সে বের করেছে তখন তার বয়স মাত্র আড়াই বছর। আড়াই বছর বয়সে সে কিভাবে ৬ বিঘা জমি ক্রয় করলো। তিনি আরও বলেন, যদি তার মা তাকে দিত তাহলে কোবলা নয় দানপত্র করে দিতো। আমরা এলাকাবাসী তাকে অনেকবার বলেছি প্রতিবন্ধী বােনের জমি ফেরৎ দিতে কিন্তু সেটি সে করেনি। এহেন অপরাধের জন্য তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। এ ঘটনায় তালা থানার এ এস আই মদন কুমার জানান, খবর শুনে আমি সরেজমিন গিয়েছিলাম সেখানে ডাকাতির কোন আলামত পরিলক্ষিত হয়নি।
তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হাসান হাফিজুর রহমান জানান, এটি একটি সাজানো ঘটনা, থানার অতি সন্নিকটে এমন কোন ঘটনা আদৌ ঘটেনি, জমি-জমা বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকার কিছু সম্মানিত ব্যক্তিদের ফাঁসানোর অপচেষ্টা মাত্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *