ঢাকা,বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৬:৪২ অপরাহ্ন ঢাকা,শুক্রবার, ১৮ আগস্ট ২০১৭, ০৩:৫০ অপরাহ্ন
কালুখালীর ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি ত্রাণ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট
     

কালুখালীর ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি ত্রাণ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট
উজ্জল কুমার কুন্ডু : পদ্মার পানি বৃদ্ধির কারনে রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার ১০ হাজার মানুষ পানি বন্ধি হয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে । পানিবন্ধি মানুষরা এপর্যন্ত কোন ত্রাণ পায়নি । বিশুদ্ধ পানি সংকটে তাদের জীবন হাহাকার অবস্থায় । রোগ, শোক আর বিষধর সাপের ভয় তো আছেই । বন্যার পানিতে মাধবপুর,হরিনবাড়ীয়া,লস্করদিয়া,কৃষননগর,ভবানীপুর,ভাগলপুর,হরিনাডাঙ্গা,চররাজপুর,বিজয়নগর,নারানপুর,আলোকদিয়া,বল্লভপুর,বাগঝাপা,গংগানন্দপুর,মহেন্দপুর,কামিয়া,বহরের কালুখালী ঠাকুরপাড়া,মাঠ সকালুখালী,উত্তর কালুখালী,পাড়াবেলগাছী ও গতমপুর গ্রাম ডুবে গেছে । ২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুল হাকিম উচ্চ বিদ্যালয়, আঃ কুদ্দুস সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়, হরিনবাড়ীয়া সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়, কৃষননগর সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয় ও হরিনাডাঙা সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয় । এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ঝুকি নিয়েই ক্লাসে আসছে । পানিতে ডুবু ডুবু অবস্থায় রয়েছে রাজবাড়ী সেনানীবাসের সিমানা পিলার । কৃষ্ণনগর সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান,সামনে ৫ম শ্রেনীর সমাপনী পরীক্ষা তাই ক্লাস বন্ধ রাখা হচ্ছে না । ক্লাস রুমে পানি থাকায় রাস্তায় চলছে পাঠ দান । ছেলে মেয়েদের নৌকায় করে স্কুলের সামনে আনতে হয় । কৃষ্ণনগর আঃ কুদ্দুস সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, কুদ্দুস মেম্বরের বাড়ীর উঠানে পড়াই । ৫ মাইল দুর থেকে নৌকায় এসে ক্লাস নেয় এ শিক্ষক । হরিনবাড়ীয়া সরকারী প্রাঃ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়দুর রহমান জানান, চারিদিকে পানি থাকায় বড় চিন্তায় আছি । শিক্ষার্থীদের কিশোর মন , কখন কি করে বসে । তিনি আরো জানান,অনেক শিশু খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানি সংকটে অসুস্থ হয়ে পড়ছে । ফলে উপস্থিতিও কমে গেছে । সাদার বাজারের বিল্লাল হোসেন বলেন, বন্যায় সব তলিয়ে গেছে । না খেয়ে দিন কাটছে । কোন প্রকার সরকারী সাহায্য পেলাম না । স্থানীয় ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আঃ কুদ্দস বলেন, এপর্যন্ত কোন ত্রান পাইনি । দেব কোথা থেকে । কালিকাপুর ইউপির চেয়ারম্যান আতিউর রহমান নবাব বলেন, কালুখালীর চরাঞ্চলের ২২ টি গ্রাম বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। খুব শীঘ্রই ত্রাণ বিতরন করা হবে। কালিকাপুরের ইউপি সদস্য বিল্লাল হোসেন জানান,প্রতিদিন বন্যা কবলিতরা বাড়ীতে ভিড় করছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুল ইসলাম জানান, বন্যা দূর্গত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে দূর্গতদের ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে।
 

Comments are closed.