ঢাকা,বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৬:৪১ অপরাহ্ন ঢাকা,রবিবার, ২৩ Jul ২০১৭, ০৫:১৬ অপরাহ্ন
সোনারগাঁয়ের পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পেয়েছেন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা
     

Panchami Ghat High School News 23.7.17 স্টাফ রিপোর্টারঃ
সোনারগাঁও উপজেলাধীন সাদিপুর ইউনিয়নের পঞ্চমীঘাট এলাকায় সুপ্রতিষ্ঠিত ও শতবর্ষী পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে, যা স্কুলের সুনাম, ঐতিহ্য ও শিক্ষার মান নষ্ট করছে বলেও অভিযোগ এনেছেন স্থানীয়রা। অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে স্থানীয় সচেতন মহল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্তের জন্য একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সে প্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্কুল পরিদর্শণ করেন সোনারগাঁও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রধান ও সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল। তদন্তের বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম প্রধানের সাথে গতকাল ফোনে আলাপকালে তিনি জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে আমরা স্কুল পরিদর্শণ করেছি। তার মধ্যে বেশীর ভাগ অভিযোগের সত্যতা আমরা পেয়েছি এবং প্রধান শিক্ষক নিজেও অনেক অভিযোগ স্বীকার করেছেন। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কেমন ব্যবস্থা নেয়া হবে এমন প্রশ্নে তিনি জানান, তদন্ত রিপোর্ট সম্পূর্ণ করে আমরা ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করব, তখন কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। উল্লেখ্য, প্রধান শিক্ষকের সীমাহীন দুর্নীতির অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে প্রেরিত অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয় যে, প্রায় ২ বছরের বেশী সময় পূর্বে প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম অবৈধ পন্থায় অত্র স্কুলে নিয়োগ লাভ করেন। ১ম নিয়োগ পরীক্ষায় ৬ষ্ঠ স্থান অর্জন করার পরেও জাহাঙ্গীর আলম তৎকালীন সভাপতি’র পূর্ব পরিচিত এবং জামায়াত-বিএনপি পন্থি হওয়ায় সভাপতি নিয়োগ বোর্ডকে প্রভাবীত করে তাকে ২য় নিয়োগ পরীক্ষায় ১ম স্থান দেখিয়ে নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। নিয়োগ লাভের পর প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর সোনারগাঁও ইউএনও এর বিরুদ্ধে মামলা করে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বন্ধ করে দেন। সাদিপুর ইউপি’র কয়েকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও অত্র বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে কয়েকবার দায়িত্ব পালন করা আলহাজ্ব আঃ রশিদ মোল্লা এডহক কমিটি’র চেয়ারম্যান হিসেবে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন, কিন্তু প্রধান শিক্ষক প্রাক্তন কমিটির সাথে আতত করে বিল্লাল নামে এক ব্যক্তিকে দিয়ে হাইকোর্টে রিট করে উক্ত এডহক কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করে দেন এবং পূর্বের সভাপতির পরামর্শে সৈরাচারীভাবে স্কুল পরিচালনা করে আসছেন। পূর্বের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে আতত করে শ্রেণীকক্ষের নামে ১০-১২ লক্ষ টাকা ব্যয় করে ১০০ ফুট লম্বা টিনের ঘর নির্মাণ করেন, যা নির্মাণে ৫ লক্ষ টাকার বেশী খরচ হয়নি বলে ধারণা স্থানীয়দের। বোর্ড পরীক্ষায় রেজিস্ট্রেশন ফি বাবদ সরকার কর্তৃক নির্ধারীত পরিমানের অতিরিক্ত ফি বিগত পরীক্ষায় নেয়া হয়েছে এবং এখনো নেয়া হচ্ছে। বাইশটেকী উচ্চ বিদ্যালয় নামে একটি অনিবন্ধিত স্কুলের জেএসসি ও ৯ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে অত্র স্কুলের নামে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। উক্ত অর্থ বিদ্যালয়ের ফান্ডে জমা না দিয়ে তিনি নিজে আত্মসাৎ করেছেন। উন্নয়নমূলক কাজে এডহক কমিটি ও উন্নয়ন উপ-কমিটির অনুমোদন না নিয়ে কোনরূপ দরপত্র আহবান ছাড়া ৩ তলার ছাদ নির্মাণের নামে ১০-১২ লক্ষ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন। সরাকরি নিষেধাজ্ঞা সত্তেও নি¤œমানের নোট ও গাইড বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিক্রি করে মোটা অংকের কমিশন বাণিজ্য করা হয়েছে। মূল্যায়ণ পরীক্ষার নামে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ১৫০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। উপবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনরূপ বেতনাদি না নেয়ার নিয়ম থাকলেও তাদের কাছে থেকে ৮০-১০০ টাকা করে মাসিক বেতন নিয়ে সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থা সহ সরকারের শিক্ষা বিষয়ক উন্নয়ন ভাবনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। ২০১৭ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মিলাদ মাহফিলের নামে বিনা রশিদে ৭০০ টাকা করে চাঁদা নেয়া হয়েছে। ডায়েরী, সিলেবাস ও বেইসের নামে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিনা রশিদে ১০০ টাকা করে নেয়া হয়েছে। তিনি ও তার সহকারী প্রধান শিক্ষককে স্কুল কর্তৃক প্রদত্ত বেসরকারি বেতন তৎকালীন সভাপতিকে দিয়ে দ্বিগুণ করিয়েছিলেন। বর্তমান কম্পিউটার শিক্ষকের কম্পিউটার বিষয়ের সনদ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত নয় বলে বিগত ২টি অডিটে আপত্তি দিলেও এ বিষয়ে তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি। বর্তমান সহকারি গ্রন্থাগারিক শিক্ষকের গ্রন্থাগারিক পদের সনদ ভূয়া বলেও গুঞ্জন চলমান আছে। নানাবিধ অনিয়মের বিষয়ে জানতে পেরে এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় এখন তার বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ কি ধরণের ব্যবস্থা নেয় তা দেখার অপেক্ষায় অত্র অঞ্চলের সবাই।

Comments are closed.